মন্ত্রিত্ব ত্যাগের পর শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। তাঁকে নিয়ে নানান ভিন্নমত তৃণমূলের অন্দরেও। এই অবস্থায় রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন বিশিষ্ট লেখক মানিক ফকির। 'কিষেণজি-র অনুমতি নিয়ে জঙ্গলমহলে মিছিল করত শুভেন্দু' এমনটাই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ওই লেখক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দাবি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, শুভেন্দুকে নানা চাঁচাছোলা ভাষায় কটাক্ষ করেছেন মানিক ফকির।

আরও পড়ুন-শুভেন্দু মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরই তৃণমূলের পার্টি অফিস 'দখল', বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত খেজুরি

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় ভিডিওতে মানিক ফকিরের দাবি, ''শুভেন্দুর অধিকারীর মতো নেতাকে যখন রাজ্যবাসীর প্রয়োজন। তখন তলায় তলায় বিজেপির দিকে ঝুঁকছে। মানুষ যখন বিপদের মধ্যে আছে, মানুষের অস্তিত্বের সঙ্কট। তখন বিজেপির হাত শক্ত করছে কেন। শুভেন্দু অধিকারী বড় নেতা, কিন্তু তাঁর এতবড় ক্ষমতা নেই সে বেরিয়ে যাবে। মুকুল মাটি থেকে ওঠা লোক। কিন্তু শুভেন্দু বড়লোক বাড়ির ছেলে। ও সোনার চামচ নিয়ে বড় হয়েছে। শুভেন্দু কোনও ডিসিশন জীবনে নিতে পারবে না''।

আরও পড়ুন-তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিকে খোদ মন্ত্রীর ভাই, ভোটের আগে বাংলায় বদলাচ্ছে রাজনৈতিক চালচিত্র

শুধু তাই নয়, জঙ্গলমহলে শুভেন্দু অধিকারী মিছিল করলে মাওবাদী নেতা কিষেণজি তার অনুমতি দিল বলেও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মানিক ফকির। তিনি বলেন, ''শুভেন্দুর উথ্থানের পিছনে জঙ্গলমহলে লালগড়ে মাওবাদী হটানো নিয়ে।শুভেন্দু আমাকে ফোন করে বলত, দাদা আমি কত দূর যাব। আমি কিষেণজির সঙ্গে কথা বলে ওকে মিছিলের অনুমতি করে দিতাম। আমাদের অনুরোধে কিষেণজির শুভেন্দুকে মিছিল করার অনুমতি দিত। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলত''।

আরও পড়ুন-ভোটে তৃণমূলের রণকৌশল কী হবে,জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক মমতার

অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম আন্দোলনে শুভেন্দুর ভূমিকা কটাক্ষ করেছেন মানিক ফকির। তিনি বলেন, ''শুভেন্দু অধিকারীকে নারদা-সারদা নিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ওকে ব্ল্যাকমেল করছে। শুভেন্দু আদর্শগতভাবে বিজেপিতে যেতে পারে না। ওর নিজস্ব কোনও হিম্মত নেই। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের জন্য যাঁরা কাজ করত। তাঁদের মধ্যে সিদ্ধার্থ মণ্ডলকে মাওবাদী তকমা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছে শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে যাঁরা সিপিএমের হার্মাদগিরি করেছে, আজ তারাই শুভেন্দুর পাশে রয়েছে''।