গত ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের দিন বড় চমক দিয়েছিল বিজেপি। সেদিনই দলের রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষর হাত থেকে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন ফুটবলার মেহতাব হোসেন। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটকেই ভোলবদল। ব্যক্তিগত কারণে তিনি বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে দেন মেহতাব। তারকা ফুটবলারের এভাবে দলত্যাগ নিয়ে শাসক দলের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলছে পদ্ম শিবির। কিন্তু নিজের দলেই এবার মুকুল রায়কে নিয়ে ক্রমে ঘোলা হচ্ছে পরিস্থিতি। বাংলার চাণক্যেক সঙ্গে ক্রমেই দূরত্ব বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের।

সব কিছু ঠিকঠাক চাললে আগামী বছর মার্চ-এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। যদিও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সেই নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাই সব দলই ঘর গোছাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি এই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দলের  শীর্ষস্তরে বদল এনেছেন তৃণমূলনেত্রী। এদিকে বিজেপি যে এবার বাংলা দখল করতে চায় তা আগেই ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদী জুটি। এই অবস্থায় বাংলাকে নিয়ে রাজধানী দিল্লিতে সাতদিনব্যাপী বিজেপির বৈঠক শুরু হয়েছে। বিষয় খুব স্পষ্ট, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু বিজেপির সেই বৈঠকে কি হয় তার থেকেও সকলের বেশি নজর ছিল বাংলার  চাণক্য মুকুল রায়কে নিয়ে। বিজেপির এই বৈঠকের একদিন আগেই দিল্লিতে পৌঁছে যায় মুকুল। নানা মহলে গুঞ্জনও রটতে থাকে, এবার হয়তো বড় কোনও পদ পেতে চলেছেন তিনি। কিন্তু সেই জল্পনায় আপাতত ইতি পড়েছে। দিল্লিতে থেকেও পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রস্তুতি নিয়ে বিজেপির বৈঠক এড়িয়ে গেলেন  মুকুল রায়। চোখের চিকিৎসা করানোর কথা জানিয়ে ফিরে এলেন কলকাতায়।  

আরও পড়ুন: বলিউডের আইএসআই যোগ, শাহরুখ-গৌরির ছবি ভাইরাল হতেই তদন্তের নির্দেশ এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষের দিল্লির বাড়িতে উত্তরবঙ্গের চারটি জেলার সভাপতি, সাংসদদের ডাকা হয়েছিল। সেখানে ছিলেন রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সহ-পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন এবং আর এক কেন্দ্রীয় নেতা শিবপ্রকাশ। দিল্লিতে থাকলেও সেই বৈঠকে যাননি মুকুল। তিনি জানিয়েছিলেন, চোখের জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁকে অবিলম্বে কলকাতায় ফিরতে হবে। সেইমত শুক্রবার তিনি শহরে ফেরেন। কিন্তু সে জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরের বৈঠকে তিনি যেতে পারলেন না কেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে । 

মুকুল রায়ের সঙ্গে বিজেপির দূরত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে তা স্পষ্ট। তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দিন থেকেই প্রতিকূলতা ছিল। তা সত্ত্বেও মুকুল রায় পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূল ভাঙ্গিয়ে লোক আনানো থেকে শুরু করে গত লোকসবায় বিজেপিকে ১৮টি আসন পাইয়ে দিয়েছেন। নানা সময় তাঁকে দলে উচ্চপদ দেওয়া হবে শওনা গেলেও এখনও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ফলে এই পরিস্থিতিতে তাঁর অনুগামীরা কিছুটা হলেও ক্ষুব্ধ। এই এই পরিস্থিতিতে শহিদ দিবসের ভার্চুয়াল সভায় তৃণমূলনেত্রী দলছাড়াদের ঘরে ফেরার আহ্বান দিয়েছেন। তাই মুকুল রায়ের দিল্লিতে গিয়েও বৈঠকে যোগ না দেওয়া জল্পনা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: এই পাঁপড় খেলেই দূরে থাকবে করোনা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আজব দাবিতে অস্বস্তিতে খোদ মোদী সরকার

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে মুকুল রায়ের তুলনায় দিলীপ ঘোষর দিকেই বেশি ভরসা করেছে দিল্লির নেতৃত্ব। কিন্তু মুকুল রায়কে সাইডলাইন করে দিলে  দিলীপ ঘোষের উপর চাপ পড়ে যাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। মুকুলকে সাইডলাইন করে দেওয়া বিজেপির সংকট বাড়াবে বলেই তাঁদের অনুমান।