পুরভোটের ইস্যুতে শনিবারের বৈঠকের অপেক্ষায় সারা বাংলা। কারণ ইতিমধ্যেই এবার পিছিয়ে দেওয়া হোক পুরভোট, এনিয়ে আর্জি জানিয়েছে রাজ্য সরকার।  

পুরভোটের ইস্যুতে শনিবারের বৈঠকের অপেক্ষায় সারা বাংলা। কারণ ইতিমধ্যেই এবার পিছিয়ে দেওয়া হোক পুরভোট (Municipal Election), এনিয়ে আর্জি জানিয়েছে রাজ্য সরকার (WB Govt)। কিন্তু দুদিন আগেও রাজ্য এবং কমিশনের তরফে এই ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয়নি। এমনকি কোর্টেও দুই তরফেই চলেছে টানাপোড়েন। শাসকদলের তরফে না হলেও দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) তুলেছেন প্রথম সুর। আগামী ১ মাস বন্ধ হোক সকল কর্মসূচি। আক্ষরিক অর্থে তা, পুরভোটকে কেন্দ্র করেই। আর এই বক্তব্যের পর আওয়াজ তোলেন কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়। যে ব্যক্তিগত মতামত বলে অভিষেকের কিছু থাকতে পারে না। তার বলা কথা অর্থাৎ দলেরই কথা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। এদিকে কোভিড নিয়ে শিয়রে শমন হতেই কি শেষ অবধি সিদ্ধান্ত বদলাতে চলেছে, প্রশ্নের ঢেউ রাজ্য়-রাজনীতিতে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

উল্লেখ্য, ২২ জানুয়ারি পুরভোট বিধাননগর, আসানসোল, শিলিগুড়ি এবং চন্দননগরে। কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে যে, আসন্ন ৪ টি পুরসভার নির্বাচন এক থেকে দেড় মাস অর্থাৎ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে পিছোনো সম্ভব কিনা সেটা আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শনিবার এনিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্যের তরফে মুখ্যসচিব এইচকে দ্বিবেদী এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস। এই বৈঠকই নেওয়া হবে পুরভোটের সিদ্ধান্ত। এবং এদিনের এই ভার্চুয়াল বৈঠকে আলোচনার পরেই কলকাতা হাইকোর্টে সিদ্ধান্ত জানাবে রাজ্য কমিশন। তবে শেষ অবধি যখন পিছিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গই উঠল, তা নিয়ে এত দেরি কেন, ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।তবে পুরভোট যদি এবার পিছিয়ে যায়, কার্যত এতদিন ধরে বলে আসা বিরোধী দাবিও সেক্ষেত্রে মান্যতা পাবে। 

আরও পড়ুন, 'বিধাননগরের ১০ দিগন্ত', নির্বাচনী ইস্তেহারে নিকাশি থেকে জল সরবারহ সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি তৃণমূলের

আরও পড়ুন, WB Covid-19: গত ৪৮ ঘন্টায় সামান্য হলেও সংক্রমণ কমল কলকাতায়, বাড়ল মৃত্যু আচমকাই রাজ্যে

প্রসঙ্গত, চার কেন্দ্রের পুরভোটের তারিখ ঘোষণার সময়ও কোভিডের এতটা বাড়াবাড়ি ছিল না রাজ্যে। নতুন বছরে পা দিতেই মূলতা তা গত দুই বছরের রেকর্ড ভেঙে দেয়। যদিও গত বছর পুজোর আগের উপনির্বাচনও পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে ছিল বিরোধীরা। কিন্তু সেসময় লোকাল ট্রেন বন্ধ রেখে এবং কোভিড বিধি কড়াকড়ি করে সংক্রমণের সংখ্যা কমিয়ে মাস্ট্রার স্ট্রোক দিয়েছিল ঘাসফুল শিবির। নির্ধারিত সময়েই উপনির্বাচন হয়েছিল। এমনকি একইদিনে কেন নয়, প্রশ্ন তুললেও শেষ অবধি একের পর এক উপনির্বাচনে জয় আসে শাসকদলের। তবে গতবারেরটায় অন্যতম ইস্যু ছিল মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্ব। তবে এবারের এই ৪ কেন্দ্রের পুরভোটের প্রেক্ষাপটাই পুরো আলাদা। আর এবার যদি পুরভোট সত্যিই পিছিয়ে যায়, এই প্রথম কোভিডের জন্য একসুরে হাঁটবে সকল রাজনৈতিক দল।