পৌষ মাসের মাঝামাঝি এখন বিয়ে থেকে চড়ুইভাতির আমেজে মজেছেন কলকাতাবাসী।  ভোজনরসিক বাঙালির পাতে এখন নানা রকমের পিঠেপুলির সঙ্গে অপরিহার্য খেজুড় গুড়ের পাটালি বা নলেন গুড়। আর এবার যেহেতু শীত অনেক দেরীতে এসেছে, তাই বাজারে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এতদিন আগের বছরের মজুত করা গুড়ই বিক্রি করা হচ্ছিল। কিন্তু জাঁকিয়ে শীত পড়তেই খেজুরের রসের যোগান পাওয়া যাচ্ছে। তাই এবার সেই রসের থেকেই তৈরী হচ্ছে তাজা পাটালি গুড়।

আরও পড়ুন, ট্রেন ধরার ফাঁকেই কেনাকাটা, শিয়ালদহ স্টেশনে এবার শপিং মল

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মূলত কৃষকরা খেজুর গাছ কেটে রস বার করে তা নিয়ে এসে জ্বালিয়ে গুড় তৈরির কাজ করে থাকেন। বসিরহাট, হাসনাবাদ, বাদুড়িয়া , স্বরূপনগর, হাড়োয়া ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে কৃষক পরিবার খেজুর গুড় তৈরির কাজ করে। শহরের বাজারে, খেজুরের পাটালি  ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কিলোগ্রাম দরে মিলছে । তবে গুড়ের দাম ধার্য করা হচ্ছে তৈরির পদ্ধতি উপর। খেজুর রস জ্বাল দেওয়ার সময় তাতে মেশানো চিনির পরিমাণ এবং শীতের তারতম্য অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে খেজুরের পাটালি । এছাড়া, অ্যালুমিনিয়ামের ট্রেতে জ্বাল দিয়ে দ্রুত তৈরি করা গুড়ের গুণগত মান এবং কড়ায় ঢিমে আঁচে জ্বাল দেওয়া গুড়ের  গুণগত মান পুরোপুরি আলাদা। 

আরও পড়ুন, হল না শেষ রক্ষে, ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার হল বাঁশদ্রোণীর কুয়োয় পড়ে যাওয়া যুবকের দেহ


শীতের তারতম্যের উপরেই খেজুর গাছ থেকে ভালো রস পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে। মূলত এই বছর ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেই শীতের দেখা মিলেছে। আর তাই বাজারে এসে গিয়েছে খেজুর গুড়। যেহেতু শীত পড়লে খেজুর গাছ থেকে ভালো রস মেলে। তাই ডিসেম্বরের শুরুতে শীত পড়ছিল না বলে রীতিমত চিন্তায় ছিলেন গুড় প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ীরা। তবে এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। তাই দেরিতে হলেও জাঁকিয়ে শীত পড়ায় গাছ থেকে মিলছে বেশি পরিমাণ রস।