আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদল করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্তফা দিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর উপরেই ভরসা রাখলেন তিনি। তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় অনুরোধ করলেও আপাতত কলেজে না যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন বৈশাখীদেবী। 

গত বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে বৈশাখীদেবী অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রীর চক্রান্তেই এক সহকর্মী তাঁর নামে কুৎসা ছড়াচ্ছেন। কলেজে এবং কলেজের বাইরে তাঁকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন বৈশাখী। তাঁর অভিযোগ ছিল, শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলে না ফেরায় সেই রাগ থেকেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে।  বৈশাখীর অভিযোগে সায় দেন তাঁর বন্ধু শোভনও।  মিল্লি আল আমিন কলেজের অধ্যক্ষ এবং অধ্যাপক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন বৈশাখী। 

আরও পড়ুন- কান্নায় ভেঙে পড়ে ইস্তফা বৈশাখীর, শোভনকে পাশে বসিয়েই নিশানা মমতাকে, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন- 'মুখ্যমন্ত্রীর অত সময় নেই', বৈশাখীকে পাল্টা জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

এই অভিযোগের পাল্টা শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, বৈশাখী অভিযোগ জানালে তার যথাযথ তদন্ত করা হবে। চক্রান্তের অভিযোগও খারিজ করে দেন তিনি। 

বৈশাখী প্রথমে জানিয়েছিলেন, তিনি আচার্য হিসেবে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। যদিও শেষ পর্যন্ত এ দিন ইস্তফাপত্র নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে যান তিনি। যদিও বৈশাখীর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেননি শিক্ষামন্ত্রী। বৈশাখীদেবী পরে জানান, পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁর আনা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করা হবে। এর জন্য শিক্ষা দফতর একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবে বলেও পার্থবাবু আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান বৈশাখীদেবী। তিনি জানিয়েছেন, যেহেতু শিক্ষামন্ত্রী  চক্রান্তের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাই পার্থবাবুকেই বিশ্বাস করছেন তিনি। তবে শিক্ষামন্ত্রী তাঁকে কলেজে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কলেজে যাবেন না বলেই দাবি করেছেন বৈশাখীদেবী। তদন্তে তাঁর দোষ প্রমাণিত হলেও তিনি মাথা পেতে নেবেন বলে জানান মিল্লি আল আমিন কলেজের অধ্যক্ষ।