টানা দুই সপ্তাহের লড়াইয়ের পর অবশেষে ছুটি  দিব্যাংশের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছুটি পেল পুলকার কাণ্ডে মারাত্মক জখম হয়ে এসএসকেএমে হাসপাতালে ভর্তি থাকা দিব্যাংশ ভকত। একইসঙ্গে ভর্তি হওয়া সেই পুলকারের অন্য বন্ধু ঋষভ সিং অবশ্য আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েকদিন আগে সে  মারা যায়।

আরও পড়ুন, ডাক্তারদের আর্জি, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করল হাইকোর্ট


 উল্লেখ্য,  অভিভাবক এবং পড়ুয়া-সহ মোট ১৪ জন পুলকারে চড়ে দিল্লি রোড দিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, প্রচণ্ড গতিতে যাওয়ার সময় কামদেবপুরে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের একটি সিমেন্টের পোস্টে সজোরে ধাক্কা মেরে নয়ানজুলিতে পড়ে উলটে যায়। উদ্ধারের পর চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আহতদের। তবে দিব্যাংশু এবং ঋষভ নামে দুই ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এরপরই রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় গ্রিন করিডরের মাধ্যমে শিশুদের এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়। 

আরও পড়ুন, লাভপুর হত্যাকাণ্ডে সাময়িক স্বস্তি, ২ মার্চ সিউড়িতে হাজিরা মুকুলের

অপরদিকে, প্রাইভেট হাসপাতালে যে চিকিৎসায় কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যেত, সেই চিকিৎসা এখানে সম্পূর্ণ নিখরচায় ও আন্তরিকতার সঙ্গে হওয়ায় খুশি দিব্যাংশের বাবা গোপীনাথ ও মা রিমা ভকত। তাঁরা ছেলেকে ছুটি করিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অজস্র ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, এক সপ্তাহ বাদে দিব্যাংশকে হাসপাতালে চেক আপ-এর জন্য আসতে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় তার শিশুমন যে আঘাত পেয়েছে, সেজন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিদদের দেখাতে সুপারিশ করেছে মেডিক্যাল বোর্ড।

আরও পড়ুন, জঙ্গলমহলের এই 'ফরেস্টম্য়ান' সারাটা জীবন রাত জেগে থাকতেন, 'জঙ্গলে আগুন লাগতো না তো'


হাসপাতাল সূত্রের খবর, এই ১৪ দিনের অধিকাংশ সময়ই সিসিইউতে ভর্তি থেকেছে দিব্যাংশ। অধিকাংশ দিনই সে ছিল ভেন্টিলেশনে। প্রথম কয়েকদিন সম্পূর্ণ কোমাচ্ছন্ন ছিল। অনেকটা সুস্থ হওয়ার পর সাধারণ ওয়ার্ডে তাকে নিয়ে আসা হয়।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় জেরে দিব্যাংশের শারীরিক কোনও স্থায়ী ক্ষতি হয়নি। মস্তিষ্কে চোট লাগলেও তা দূর করা গিয়েছে। শেষবার করা মাথার সিটি স্ক্যান রিপোর্টও  স্বাভাবিক ছিল এবং বুকের এক্স-রে রিপোর্টও স্বাভাবিক এসেছে। তার কথা বলা, শ্বাস নেওয়া, খাওয়া-দাওয়ায় এখন কোনও সমস্যা নেই। এত বড় যুদ্ধ শেষে রীতিমতো চনমনে আছে দিব্যাংশু। দিব্যাংশুকে সুস্থ করতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।