সিঁথি কাণ্ডে নয়া মোড়। সিঁথি কাণ্ডে, পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন মৃতের ভাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্য়বসায়ী রাজকুমার সাউয়ের মৃত্যুতে পুলিসের বিভাগীয় তদন্তে আশ্বাস নেই মৃতের পরিবারের। বরং পরিবারের দাবি, সিআইডি তদন্ত। এমনটাই জানালেন মৃতের ভাই রাকেশ সাউ। 

আরও পড়ুন, ক্রমশ উন্নত কলকাতা বিমানবন্দর, চালু মালপত্র পরীক্ষার নয়া ব্যবস্থা


সূত্রের খবর, সিঁথি কাণ্ডে ৩ জন পুলিসকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন মৃত রাজকুমার সাউয়ের ভাই। এই ঘটনায় এসআই সৌমেন্দ্রনাথ দাস, এসআই অরিন্দম দাস এবং সার্জেন্ট চিন্ময় মোহান্তির নামে দায়ের হয়েছিল এফআইআর। অভিযুক্ত এই ৩ পুলিসকর্মীকেই ক্লোজ করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে শুরু হল বিভাগীয় তদন্ত। এই ঘটনায় তদন্তভার হাতে নিয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা। থানায় ভাঙচুর এবং থানার ভিতরের গন্ডগোলের ঘটনায় ২টো পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গত মঙ্গলবার  মৃতদেহের অন ক্যামেরা ময়নাতদন্ত করা হয়। বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি, সিঁথির ঘটনায় সম্পূর্ণ তদন্তপ্রক্রিয়াটি-ই হবে হাইকোর্টের নজরদারিতে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে ও মানবাধিকার কমিশনে।

আরও পড়ুন, পার্কসার্কাসে ট্রেনে ধোঁয়া, আগুন-আতঙ্কে নেমে পড়লেন যাত্রীরা


 গত সোমবার চুরির ঘটনার তদন্ত করতে চিৎপুরের ব্যবসায়ী ৫৩ বছরের ব্যবসায়ী রাজকুমার সাউকে ডেকে পাঠিয়েছিল উত্তর কলকাতার সিঁথি থানার পুলিশ।  পাইকপাড়া এলাকায় একটি আবাসন থেকে কল ও কলের পাইপ চুরির অভিযোগ ঘিরেই ঘটনার সূত্রপাত। এক মহিলা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি গোটা পাঁচেক পেতলের কল চুরি করেছেন।আরও জানান যে, তিনি ওই কলগুলি বিক্রি করেছেন রাজকুমার সাউ নামে চিৎপুরের এক ব্যবসায়ীকে, যিনি পুরনো জিনিসপত্র কেনেন। এরপরেই থানায় ডেকে পাঠানো হয়  রাজকুমার সাউ নামের ওই ব্য়বসায়ীকে। জিজ্ঞাসবাদের জন্য সিঁথি থানায় এনে শেষ অবধি তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং সেই মারের চোটেই মৃত্যু হয় তার। এমনটাই দাবি রাজকুমারের পরিবারের তরফে। 

 অপরদিকে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫৩ বছরের রাজকুমার সাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সকাল ১১টায় সিঁথি থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশের দাবি, আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন রাজকুমার বাবু। হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধে ৬টা নাগাদ পুলিশই তাকে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। কিন্তু মৃতের পরিবারের দবি, সন্ধে ছটা নাগাদ সিঁথি থানা থেকে ফোন করে মৃত্যুসংবাদ দেওয়া হয়। রাজকুমার সুস্থই ছিলেন, এমনকী কোনও হৃদরোগ ছিল না তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, পুলিসের অত্যাচারেই রাজকুমারের মৃত্যু হয়েছে।