রাজ্য়ের করোনায়  মৃতদের লাশ গায়েবের উদাহরণ দিতে গিয়ে এবার নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ তুললেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপি নেতা বলেন,'নন্দীগ্রামে যেমন সিপিএম বহু লাশ গায়েব করেছিল, তেমন করোনায় তৃণমূল লাশ গায়েব করছে। এক জায়গার লাশ অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তথ্য চাপতে গিয়ে.মানুষকে শেষ সম্মানটুকুও দেওয়া যাচ্ছে না।' 

রাজ্য়ে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ১২, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭ জন..

শনিবার ১০ থেকে রাজ্য়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২। তবে  গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্য়ে করোনা মুক্ত হয়েছেন সাত জন। রাজ্য় সরকারের হিসেব বলছে,বর্তমানে শনিবার বিকেল পর্যন্ত বাংলায় করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ১৭৮। মুখ্য়সচিব জানিয়েছেন, রাজ্যে সরকারি কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩ হাজার ৮৫৮ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে ৩৫ হাজার ২০৯ জন। রাজ্যে পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারটি। সব মিলিয়ে রাজ্যের ৬৬টি হাসপাতালে ৭ হাজার ৯৬৯টি বেডের করোনা চিকিৎসার জন্য় বেডের ব্য়বস্থা করা হয়েছে। 

রাজ্য়ে সোমবার থেকে খুলছে সরকারি অফিস, কারা যাবেন কর্মস্থলে..

যদিও রাজ্য় সরকারের করোনা পরিসংখ্যানে বিশ্বাস করছেন না বিরোধীরা। শনিবার করোনায় মিথ্য়ে পরিসংখ্যান দেওয়ার অভিযোগে রেড রোডে বিক্ষোভ দেখান বাম নেতারা। লকডাউনে সামজিক দূরত্ব পালন করে প্রতিবাদ করলেও বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্রদের গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজ্য়ে করোনায় মৃতদের সংখ্য়া লুকোনোর অভিযোগ এনেছেন মেদিনীপুরের সাংসদও। তিনি বলেন, সিপিএম আমলে এরকম লাশ লুকোনোর ঘটনা ঘটলে, লকডাউন ভেঙে হুলুস্থ্ুলু  পরিস্থিতির সৃষ্টি হত।

এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি বিজেপির রাজ্য় সভাপতি, তাঁর দাবি-রাজ্য় সরকার করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে যে দাবি করছে তার চার গুন বেসি লোক মারা গিয়েছে। সংবাদমাধ্য়মকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ডাক্তারদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। মুখ্য়মন্ত্রীর সৌজন্য়ে রাজ্য়বাসী এরকম একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্য়ে ঢুকে রয়েছে। 

লকডাউনে গরিবের চালের পরিমাণ কমাচ্ছেন খাদ্য়মন্ত্রী,ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি বাবুলের।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিন বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় করোনা সংক্রামিত হয়েছেন ৩২ জন। রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৭। সেরে উঠেছেন ৫৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। ফলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আপডেট অনুযায়ী রাজ্যে করোনা অ্যাকটিভ সংখ্যা হওয়ার কথা ২২২ জন। কিন্তু তা রাজ্যের হিসেবে ১৭৮। ফলে করোনা আক্রান্ত নিয়ে রাজ্য়-কেন্দ্র পার্থক্য দেখা দেয়। রাজ্য়ের হিসেবে ১৮০ ছুঁতে চললেও  কেন্দ্র বলছে ২৯০ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের করোনা সংক্রমণের সংখ্য়া। তবে আক্রান্তের  সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গেই সুস্থও হয়ে উঠছেন বহু মানুষ। শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্য়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৫ জন। মৃতের সংখ্যা ১০।

করোনা রুখতে আপাতত ৩ মে পর্যন্ত লকডাউনের  মেয়াদ বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একে একে আংশিকভাবে খোলা হচ্ছে শিল্প ক্ষেত্র। রাজ্য়ে ইতিমধ্য়েই চটকলগুলি খোলা হচ্ছে। ২০ এপ্রিলের পর থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কঠোরতা শিথিল করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই এই ক্ষেত্রে কাজ  করতে হবে তাদের।