বসন্তোৎসবকে ঘিরে নিন্দার ঝড় ওঠেছে। বিতর্কিত ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী। শুক্রবার রাতে রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধানখড় ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন বলে জানা গিয়েছে। তবে উপাচার্যের পদত্যাপত্র এখনও পাননি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্রভারতীর ঘটনায় 'বাকরুদ্ধ' ইমন বললেন, 'এই কয়েকবছরেই সব এত পাল্টে গেল'

ঐতিহ্য ও আভিজাত্যে শান্তিনিকেতনের সঙ্গে তুলনা চলে না। তবে রবীন্দ্রভারতীর বসন্তোৎসবের জনপ্রিয়তা কিন্তু কম নয়। বছরের একটিমাত্র দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হয় বহিরাগতদেরও। প্রবেশপত্র বিলি করা হয় মাস খানেক আগে থেকেই। বিটি রোডে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে বসন্তোৎসবে মেতে ওঠেন শহরের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারাও। কিন্তু ঘটনা হল, এই অনুষ্ঠানকে ঘিরেও এবার বিতর্ক ঝড় ওঠেছে। বেশ কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা গিয়েছে, বসন্তোৎসবে শামিল হয়েছেন, এমন বেশ কয়েকজন তরুণ ও তরুণীর পিঠে ও বুকে লেখা গালিগালাজ! এমনকী, অশ্লীল রবীন্দ্রসঙ্গীতে তালে অনেকেই নাচতেও দেখা গিয়েছে ভিডিও-তে। ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে, নিন্দার ঝড় উঠেছে।

আরও পড়ুন: রবীন্দ্রভারতীর বসন্ত উৎসব ঘিরে বিতর্ক, অশ্লীল শব্দ তরুণীর উন্মুক্ত পিঠে

রবীন্দ্রভারতীর বসন্তোৎসবে এমন কাণ্ড ঘটাল কারা? ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হতেই নড়চড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্র সংসদের সদস্যরা। অভিযোগ দায়ের করা হয় সিঁথি থানায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি,  ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে যাদের দেখা গিয়েছে তারা বহিরাগত। হুগলি, চন্দননগর, চুঁচুড়ার বিভিন্ন কলেজ থেকে বসন্তোৎসবে যোগ দিতে এসেছিল তারা। কিন্তু স্রেফ বহিরাগতদের পক্ষে কী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা সম্ভব? উঠছে প্রশ্ন।  এরইমধ্যে ঘটনায় দায় নিয়ে ইস্তফা দিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসুচৌধুরী।