শেষপর্যন্ত এই রাজ্যেও থাবা বসিয়ে ফেলল মারণ করোনা ভাইরাস। মঙ্গলবারই এই শহরে প্রথম করোনা আক্রান্ত তরুণের সন্ধান মিলেছে। আপাতত বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের স্পেশাল আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে ওই তরুণকে। গত ১৫ মার্চ ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় ফেরেন ওই তরুণ। তাঁর সঙ্গে একই বিমানে এশহরে ফেরা সহযাত্রীদের এখন খোঁজ শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। যে বিমান সংস্থার বিমানে করোনা আক্রান্ত তরুণ কলকাতায় ফিরেছিলেন  তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রাজ্য প্রশাসন। বিমানে তরুণের সহযাত্রীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই বিমানের যাত্রীদের ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁদল নেওয়া শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

রাজ্যের পদস্থ এক আমলার ছেলে ওই তরুণ যখন এশহরে পা রাখেন তখন বিমানবন্দরের স্ক্রিনিংয়ের সময় করোনার কোনও উপসর্গের দেখা মেলেনি। আর এটাই এবার ভাবাচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে। জানা যাচ্ছে সোমবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই যুবক বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে  পরীক্ষা করাতে যান তিনি। আর তাতেই তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাস পজিটিভ মেলে। 

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কে শুনসান চিড়িয়াখানা, দর্শকের ভূমিকায় পেঙ্গুইন দম্পতি, ভাইরাল হল ভিডিও

সোমবার হাসপাতালে গেলে ওই তরুণকে বাড়িতে কোয়েরান্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ মঙ্গলবার তাঁকে ফের আইডি হাসপাতালে ডাকা হয়৷ এদিনই তাঁর করোনা পরীক্ষা হয়৷ সন্ধেয় তরুণের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে৷ শুধু ওই তরুণই নন৷ তাঁর মা-বাবা ও গাড়িচালককেও আইডি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে৷ ওই তরুণের সচেতনতার কারণেই এই মারণ রোগ ধরা পড়ল এবং আরও অনেকের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

 

বর্তমানে কোলকাতা শহরের  জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটির আশেপাশে। এদের মধ্যে  এক শতাংশ  করোনা সংক্রমিত হলেও সংখ্যা পৌঁছে যাবে  দেড় লাখ রোগীতে। এদের মধ্যে  ১০ শতাংশ রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হলে  লাগবে  ১৫,০০০ ভেন্টিলেটর। জানা যাচ্ছে, কোলকাতায় ২০০০ ভেন্টিলেটরও নেই। ফলে এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছে রাজ্য সরকার। 

আরও পড়ুন: চিনে জমা পড়ছে গুচ্ছ গুচ্ছ বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন, কাঠগড়ায় সেই করোনা ভাইরাস

বর্তমানে ওই তরুণ ছাড়াও করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে আইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ১৮ জন ৷এদিকে  করোনা মোকাবিলায় একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রাজ্যের সব সিনেমা হল ও অন্য প্রেক্ষাগৃহগুলিও আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার আবেদন জানান হয়েছে৷ করোনা মোকাবিলায় সোমবারই ২০০ কোটি টাকার তহবিল গড়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷