সর্দিকাশি হলে বা ঠান্ডা লেগে গেলে নাক বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু নাক একবার বন্ধ হয়ে গেলে অস্বস্তি পিছু ছাড়ে না নিঃশ্বাস নিতে ও প্রাণপণ নাক বন্ধ থেকে রেহাই পেতে অনেকেই নাক টানতে থাকেন  এতে কোনও উপকার হয় না। বরং হীতে বিপরীত হতে পারে

সর্দিকাশি হলে বা ঠান্ডা লেগে গেলে নাক বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু নাক একবার বন্ধ হয়ে গেলে অস্বস্তি পিছু ছাড়ে না। নিঃশ্বাস নিতে ও প্রাণপণ নাক বন্ধ থেকে রেহাই পেতে অনেকেই নাক টানতে থাকেন। এতে কোনও উপকার হয় না। বরং হীতে বিপরীত হতে পারে। সম্প্রতি হওয়া এক গবেষণা এমনই দাবি করছে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নাক বন্ধ হয়ে গেলে নাক টানলে ক্ষণিকের জন্য আরাম পাওয়া যায়। কিছুক্ষণের জন্য মনে হয় নাক খুলে গিয়েছে। কিন্তু নাক টানার সময়ে মিউকাস আরও ভিতরে সাইনাস (মস্তিষ্কের সঙ্গে নাসান্ধ্রের সংযোগ নালী)-এর ভিতরে ঢুকে পড়ে। এতে নাকের ড্রেনেজ প্রসেসের গতি আরও কমে যায়। 

আরও পড়ুনঃ হাঁপানিতে কষ্ট পাচ্ছেন! কয়েকটি সহজ উপায় জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা

ভারজিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ও চিকিৎসক জে ওয়েন হেন্ডলি এই বিষয়ে একটি গবেষণা করেন। তাঁরা জানান, কাশি বা হাঁচি হলে সাইনাসের সঙ্গে যুক্ত নালীর উপরে হালকা চাপ পড়ে। কিন্তু নাক টানলে সেই চাপের মাত্রা বেড়ে যায়। কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে যা চাপ পড়ে তা নাক টানার থেকে অনেকটাই কম। অন্যদিকে নাক টানসে প্রায় ১ মিলিমিটার পর্যন্ত মিউকাস সাইনাসে পৌঁছে যেতে পারে। 

নাক টানার সময়ে এতটাই চাপ পড়ে যে তা একজনের ডায়াস্টলিক ব্লাড প্রেশার লেভেল রিডিং-এর সামন। ডায়াস্টলিক অর্থাৎ, দুটো হৃদস্পন্দনের মাঝে যে সূক্ষ্ণ সময়ে হৃদযন্ত্র বিশ্রাম নেয়। কিন্তু সাইনাসে মিউকাস পৌঁছে গেলে তা কতটা ক্ষতিকারক তা বলেননি গবেষকরা। কিন্তু অসুস্থ থাকা কালীন বা রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম থাকার সময়ে যদি সাইনাসে জীবাণু পৌঁছে যায় তা হলে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে নাক টানারও সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। নাক বন্ধ হলে একদিকের নাসারন্ধ্র দিয়ে নাক টানুন। একসঙ্গে দুদিক দিয়ে নাক টানবেন না। এতে বেশি চাপ পড়ে। তার চেয়েও বড় কথা, সারা বছরই নাক টানা বা অ্যালার্জির সমস্যা হলেও দেরি না করে চিকিৎসকরে কাছে পৌঁছে যান। পাকাপাকি ভাবে নাক বন্ধের সমস্যা থেকে রেহাই পান।