বলিউড তারকাদের দেখে প্রায়শই খাবার অভ্যাসে বদল আনেন অনেকে। যে খাবার কোনও দিন খাননি, তা নতুন করে খেতে শুরু করেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয় কি?

বাহারি দামি বিলিতি ফলমূলের চাকচিক্যের চেয়ে স্থানীয় ও মরসুমী দেশি ফলমূলই বেশি উপকারী।কারণ এগুলো তাজা, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীরের স্থানীয় প্রয়োজনের সঙ্গে বেশি মানানসই, যদিও বিলিতি ফলেও ভিটামিন ও খনিজ থাকে। এই "ফল যুদ্ধ"-এর ফল হলো, পুষ্টিবিদরা বলছেন, যা সহজে পাওয়া যায় এবং যা স্থানীয় পরিবেশে উৎপন্ন হয়, সেটাই খাওয়া উচিত—এতে খরচ কমে এবং পুষ্টিও বেশি পাওয়া যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কেন দেশি ফল উপকারী?

* তাজা ও স্থানীয়: দেশি ফলগুলো স্থানীয় আবহাওয়ায় উৎপন্ন হওয়ায় তাজা থাকে এবং পরিবহনজনিত কারণে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না।

* পুষ্টির ভারসাম্য: প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব ফলে সেই অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার থাকে।

* খরচ কম: স্থানীয় ফল সাধারণত আমদানি করা ফলের চেয়ে সস্তা হয়।

* সহজলভ্যতা: সহজেই পাওয়া যায়, ফলে নিয়মিত খাওয়া সহজ হয়।

বিলিতি ফলের বাস্তবতা:

* সুপারমার্কেটের আকর্ষণ: বিলিতি ফল দেখতে সুন্দর, ঝকঝকে, কিন্তু তা আসে দূর থেকে, ফলে তাজা নাও থাকতে পারে।

* অতিরিক্ত রাসায়নিক: অনেক সময় এগুলো দ্রুত পাকার জন্য বা দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।

* পুষ্টিগুণে পার্থক্য: তাজা দেশি ফলের তুলনায় এদের পুষ্টিগুণ অনেক সময় কম হতে পারে, কারণ তাজা অবস্থায় খাওয়া হয় না।

"ফল যুদ্ধ"- র ফলাফল (পুষ্টিবিদের মত):

* পুষ্টিবিদদের মতে, তারকাদের দেখাদেখি বা ফ্যাশনের জন্য দামি বিলিতি ফল খাওয়ার চেয়ে নিজের এলাকার স্থানীয় ও মরসুমী ফল (যেমন পেয়ারা, আম, জাম, লিচু, আপেল, পেঁপে) খাওয়া অনেক বেশি উপকারী।

* এতে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান নিশ্চিত হয় এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

তাই বাহারি বিলিতি ফলের আকর্ষণ এড়িয়ে স্থানীয় ও মরসুমী দেশি ফলমূলকে প্রাধান্য দিন। এতে আপনার শরীরও ভালো থাকবে, পকেটও বাঁচবে এবং পরিবেশেরও উপকার হবে। বিলিতি ফল খেলে যে খুব বেশি লাভ হয়, এমনটা নয়।