গরমকে তুড়ি মেরে ওড়ান, রোজ পাতে থাকুক কাঁঠাল, জানেন এটি খাওয়ার উপকারিতা?
গ্রীষ্মকালে কাঁঠাল প্রচুর পাওয়া যায়। তবে অনেকে মনে করেন এটি খেলে শরীর গরম হয়ে যায়, তাই এড়িয়ে চলেন। আসলে গ্রীষ্মকালে কাঁঠাল খাওয়ার কি কি উপকারিতা আছে তা জেনে নেওয়া যাক।

কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি (Vitamin C) থাকে। এটি একটি চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (antioxidant)। এটি আমাদের শরীরে ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিকেল (free radicals) তৈরি হওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে কোষের ক্ষতি রোধ করে।
এছাড়াও, ভিটামিন সি শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এগুলি সংক্রমণ থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাঁঠাল খাওয়ার মাধ্যমে, আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখে।
কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আঁশ (fiber) থাকে। আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের গতিবিধি সহজ করে।
এছাড়াও, কাঁঠালে প্রিবায়োটিক (prebiotics) থাকে, যা অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে। এই ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলি পুষ্টি উপাদান শোষণ এবং সামগ্রিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাঁঠালে পটাশিয়াম (potassium) প্রচুর পরিমাণে থাকে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের মতো বিপজ্জনক অবস্থার দিকে নেই যেতে পারে।
এছাড়াও, কাঁঠালে থাকা আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি রক্তনালীগুলিকে সুস্থ রাখতে এবং শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এর ফলে, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
কাঁঠালে ক্যালসিয়াম (calcium) এবং ম্যাগনেসিয়াম (magnesium) এর মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ রয়েছে। ক্যালসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্য এবং শক্তির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ম্যাগনেসিয়াম ক্যালসিয়াম শোষণ উন্নত করে এবং হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কাঁঠাল খাওয়ার মাধ্যমে, হাড় মজবুত হয় এবং হাড়ের সাথে সম্পর্কিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে।কাঁঠালে লৌহ (iron) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে। লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা (red blood cells) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ।
লোহিত কণিকা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। লৌহের অভাব রক্তস্বল্পতার দিকে নেই যেতে পারে, যার ফলে শরীর ক্লান্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। কাঁঠাল খাবারে যোগ করার মাধ্যমে, শরীরে লৌহের মাত্রা বৃদ্ধি করা যায় এবং রক্তস্বল্পতা হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
কাঁঠালে লিগন্যান (lignans), আইসোফ্লেভোন (isoflavones) এবং স্যাপোনিন (saponins) এর মতো ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট (phytonutrients) থাকে। এগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও, গবেষণায় দেখা গেছে যে এই যৌগগুলি শরীরে টিউমার তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করতে এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
Food News (খাবার-দাবারের খবর): Get the expert tips to cook famous bangla dishes & food receipes in Bangla, articles about Cooking & Food Recipes in Bangla - Asianet News Bangla.

