ইনসুলিন যদি নিজের কাজ যথাযথ ভাবে না করতে পারে, তবে খাবারের মাধ্যমে শরীরে যাওয়া শর্করা ভাঙবে না। আর সে ক্ষেত্রে দু’টি মূলগত অসুবিধা হবে, যা নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

শরীর যখন শর্করা (Carbohydrate) ভাঙে বা জমিয়ে রাখে, তখন তার গোপন সংকেতগুলো বোঝা জরুরি। প্রধানত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার কারণে এটি ঘটে, যার ৫টি লক্ষণ হলো- ত্বকের রঙ পরিবর্তন ও অনুজ্জ্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব, বারবার খিদে পাওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া, যা শরীরকে বিপদে ফেলার আগে সতর্ক করে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শর্করা ভাঙছে নাকি জমিয়ে রাখছে? এটি বুঝবেন কি করে?

আমাদের শরীর শর্করাকে মূলত গ্লুকোজ হিসেবে ব্যবহার করে বা গ্লাইকোজেন হিসেবে যকৃৎ ও পেশীতে জমিয়ে রাখে, এবং প্রয়োজনে ভাঙতে পারে। কিন্তু যখন ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না (ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স), তখন গ্লুকোজ রক্তে জমতে শুরু করে এবং কোষের ভেতরে ঢুকতে পারে না, ফলে শরীর শক্তি পায় না এবং শর্করা জমিয়ে রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

নিজেকে বাঁচাতে এই ৫টি উপসর্গ খেয়াল রাখুন:

১. ত্বকের পরিবর্তন: ত্বকের কিছু অংশ অনুজ্জ্বল, খসখসে বা কালচে হয়ে যাওয়া (বিশেষত ঘাড়ে বা বগলে) ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের লক্ষণ হতে পারে, যেখানে অতিরিক্ত কোষ তৈরি হয়।

২. অতিরিক্ত ক্লান্তি : শক্তি থাকলেও কোষের ভেতরে গ্লুকোজ ঢুকতে না পারায় শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত বোধ করে।

৩. ঘন ঘন প্রস্রাব: রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়লে কিডনি তা বের করে দিতে চেষ্টা করে, ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।

৪. অতিরিক্ত খিদে পাওয়া: কোষের গ্লুকোজ না পাওয়ায় মস্তিষ্ক ক্ষুধার সংকেত পাঠাতে থাকে, ফলে বারবার খিদে পায়।

৫. দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া: রক্তে অতিরিক্ত শর্করা চোখের লেন্সের আকার পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়।

কি কি করণীয়:

* সচেতন হন: এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

* স্বাস্থ্যকর খাবার খান: ভাজা-পোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন।

* নিয়মিত ব্যায়াম করুন: হাঁটা, দৌড়ানো বা যেকোনো শারীরিক কার্যকলাপ শরীরকে ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে।

* পর্যাপ্ত জল পান করুন: শরীর থেকে অতিরিক্ত শর্করা বের করতে সাহায্য করে।

* পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: ঘুমের অভাব হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।

এই লক্ষণগুলো উপেক্ষা করলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য জটিল রোগ হতে পারে, তাই early detection এবং lifestyle changes খুব জরুরি।