ধীরে ধীরে রাজ্যে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। নিপা ভাইরাস একটি মারণাত্মক রোগ যার মৃত্যুর হার 45 থেকে 75 শতাংশ। এই ভাইরাস সংক্রমনের কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রাজ্যে নিপা ভাইরাসের উদ্বেগ বাড়ায় সতর্কতা জরুরি। এর লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লু-এর মতো (জ্বর, মাথাব্যথা, পেশির ব্যথা) শুরু হলেও দ্রুত মারাত্মক হতে পারে। তাই আধ খাওয়া ফল বা বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে, হাত ধুয়ে, ভালোভাবে রান্না করা খাবার খেয়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি না গিয়ে সতর্ক থাকা যায়। ভিএই ভাইরাসের প্রধান উৎস বাদুড়, যা থেকে ফল ও খেজুরের রস (তাড়ি) দূষিত হতে পারে এবং তা থেকে মানুষ সংক্রমিত হয়, এমনকি মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে।
*নিপা ভাইরাসের লক্ষণ (Symptoms)*:
• প্রাথমিক: জ্বর, মাথাব্যথা, পেশি ব্যথা, বমি বমি ভাব।
• গুরুতর: ৫-৬ দিনের মধ্যে রোগী কোমাতে চলে যেতে পারে, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, এবং প্রদাহ (encephalitis) হতে পারে।
*কিভাবে সতর্ক থাকবেন (Prevention)*:
১. খাবার: বাদুড় বা অন্য প্রাণী-দূষিত ফল (যেমন আধ খাওয়া বা কামড়ানো ফল) এবং খেজুরের কাঁচা রস (তাড়ি) খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: সাবান ও জল দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া, বিশেষ করে বাইরে থেকে এলে বা অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে।
৩. দূরত্ব: নিপা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাওয়া থেকে বিরত থাকুন; অসুস্থদের যত্ন নেওয়ার সময় মাস্ক ও গ্লাভস পরুন।
৪. রান্না: মাংস ও ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ করে খান।
৫. বাদুড় থেকে সুরক্ষা: বাদুড় যাতে খেজুরের রস বা ফলের কাছে না আসতে পারে, তার ব্যবস্থা করুন (যেমন বাঁশের আবরণ ব্যবহার করা)।
৬. সচেতনতা: জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান এবং আক্রান্ত কিভাবে হলেন জানান।
*সংক্রমণের উৎস (Sources of Infection)*:
• বাদুড় (Bats): বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাবের মাধ্যমে ফল ও খেজুরের রস দূষিত করে।
• প্রাণী (Animals): সংক্রমিত শূকর বা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসা।
• মানুষ থেকে মানুষে (Human-to-Human): আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, প্রস্রাব, রক্ত বা অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে।
গুরুত্বপূর্ণ: নিপা একটি মারাত্মক রোগ যার মৃত্যুহার বেশ উচ্চ (৪০-৭৫% পর্যন্ত), তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।


