Health News: আরও বেশি ভারী হয়ে উঠল চোখের পাতা! কফি খেয়ে এমনটা হতেই পারে। সময় বিশেষে ঘুম তাড়ানোর বদলে ঘুমপাড়ানি হতে পারে চেনা কফির কাপ। অন্তত তেমনই বলছে বিজ্ঞান। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Health News: কফি সাধারণত ঘুম তাড়িয়ে শরীর চনমনে করতে ব্যবহৃত হলেও, এটি ঘুম পাড়াতেও পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, কফিতে প্রচুর চিনি মেশানো, বা দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব থাকলে শরীরের ভেতরকার ক্লান্তি ও ক্যাফেইন টলারেন্সের কারণে কফি পানের পরেও ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি আসতে পারে । এই বিপরীত প্রতিক্রিয়াকে প্যারাডক্সিক্যাল ক্যাফেইন ইফেক্ট (Paradoxical Caffeine Effect) বলা হয়।

যেসব ক্ষেত্রে কফি খেয়েও ঘুম পায় বা উলটপুরাণ ঘটে:

* অতিরিক্ত ক্যাফেইন টলারেন্স (Caffeine Tolerance): আপনি যদি প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে কফি খান, তবে মস্তিষ্ক ক্যাফেইনের প্রভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে ক্যাফেইন তার উদ্দীপক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ক্লান্তি দূর করতে পারে না, উল্টো ক্লান্তিবোধ বাড়ে।

* অতিরিক্ত চিনি ও দুধ মেশানো: কফিতে প্রচুর পরিমাণে চিনি বা সুগারি সিরাপ ব্যবহার করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং পরে দ্রুত কমে যায় (Sugar Crash)। এই সুগার ক্র্যাশ থেকে তীব্র ক্লান্তিবোধ ও ঘুম পায়।

* শরীরের জল শূন্যতা (Dehydration): ক্যাফেইন একটি ডাইউরেটিক (diuretic), যা শরীর থেকে জল বের করে দেয়। কফির সাথে পর্যাপ্ত জল না খেলে পানিশূন্যতার কারণে মাথা ঝিমঝিম এবং ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে।

* ঘুমের মারাত্মক অভাব (Sleep Debt): আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের অভাবে ভোগেন, তবে কফির ক্যাফেইন আপনার মস্তিষ্কের ক্লান্তি পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। ক্যাফেইনের সাময়িক প্রভাব কেটে গেলে ক্লান্তি আরও বেশি করে চেপে বসে।

* এডেনোসিন রিসেপ্টর ব্লক: ক্যাফেইন মস্তিষ্কের এডেনোসিন (adenosine) নামক রাসায়নিককে ব্লক করে যা আমাদের ক্লান্ত করে। কিন্তু যখন ক্যাফেইন কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন জমানো এডেনোসিন একসাথে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে, ফলে হঠাৎ তীব্র ক্লান্তি আসে।

সতর্কতা: খালি পেটে কফি খাওয়া ক্ষতিকর এবং এটি অ্যাসিডিটির কারণ হতে পারে। প্রতিদিনের কফি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে এবং চিনি বর্জন করে এই সমস্যা থেকে বাঁচা সম্ভব।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।