কিডনির রোগ মানেই আতঙ্ক। কিডনি বিকল হলে প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। আর কিডনি প্রতিস্থাপন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া ক্রনিক কিডনির রোগ মারাত্মক পর্যায়ে চলে গেলে তখন ডায়ালিসিস করতেই হয়। 

Health News: কিডনি রোগের চিকিৎসায় ডায়ালিসিস এড়ানোর জন্য নতুন ও যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতি আসছে, যার মধ্যে স্টেম সেল থেরাপি (Stem Cell Therapy) অন্যতম, যা কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে নতুন করে তৈরি করতে পারে, এবং নতুন ওষুধ (যেমন Runcaciguat, Cotadutide) যা কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করবে; এছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপন ডায়ালিসিসের বিকল্প হিসেবে কার্যকর, তবে এর জন্য দাতার প্রয়োজন এবং আজীবন ওষুধের প্রয়োজন হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আসন্ন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি:

১. স্টেম সেল থেরাপি (Stem Cell Therapy):

• এই পদ্ধতিতে সুস্থ দাতার শরীর থেকে নেওয়া স্টেম সেলকে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করে রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

• এই কোষগুলো শরীরে প্রবেশ করে নতুন কিডনি কোষ তৈরি করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোর স্থান দখল করে স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনে।

• এটি পুনর্জন্মমূলক ঔষধের একটি অংশ, যা কিডনির টিস্যু মেরামত ও প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে।

২. নতুন ওষুধ (Novel Drugs):

• Runcaciguat (RUNCACIGUAT): এটি একটি ওরাল ওষুধ যা কিডনির অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে রেনো-প্রোটেক্টিভ (কিডনিরক্ষাকারী) প্রভাব ফেলে।

• Cotadutide (COTADUTIDE): এটি GLP-1 রিসেপ্টরের উপর কাজ করে, যা ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মতো, এবং কিডনির কার্যকারিতায় সাহায্য করতে পারে।

• Endothelin Receptor Antagonists (ERAs): এই শ্রেণীর ওষুধগুলো কিডনিকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রোটিনুরিয়া (প্রস্রাবে প্রোটিন) কমাতে সাহায্য করে।

অন্যান্য বিকল্প:

* কিডনি প্রতিস্থাপন (Kidney Transplant):

• এটি ডায়ালিসিসের সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প, যেখানে একটি সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।

• সফল প্রতিস্থাপনের পর রোগী ডায়ালিসিস ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, তবে আজীবন ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট (অঙ্গ প্রত্যাখ্যান রোধক) ওষুধ খেতে হয়।

• এর সুবিধা অনেক হলেও, দাতার অভাব এবং প্রতিস্থাপনের ঝুঁকি ও পরবর্তী ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনা করতে হয়।

বর্তমানে যা করতে পারেন:

* স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: পর্যাপ্ত জল পান করা, কম সোডিয়াম ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকা।

* ডাক্তারের পরামর্শ: আপনার কিডনির অবস্থা অনুযায়ী কোন চিকিৎসা উপযুক্ত, তা একজন বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজিস্টের (কিডনি বিশেষজ্ঞ) সাথে আলোচনা করা জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ: এই নতুন চিকিৎসাগুলো এখনো গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে আছে এবং সবার জন্য সহজলভ্য নাও হতে পারে। তাই, কিডনি রোগের যেকোনো চিকিৎসার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।