ইডিওপ্যাথিক কনস্টিপেশন হল বিশেষ এক ধরনের কনস্টিপেশন, যার কারণ জানা যায় না।
ইরেটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো কিছু অসুখে এই কনস্টিপেশন দেখা যায়। এই অসুখে নির্দিষ্ট কোনও কারণ ছাড়াই খুব কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। অত্যধিক গ্যাসও হয়।

এমনিতে কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন না এমন  মানুষ অবশ্য় খুঁজে পাওয়া ভার। কাউর কম কাউর বেশি। অনেকেই বেশি করে শাক-সবজি খেয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।  তার পরেও সমস্যা না-মিটলে ইসবগুল খান কেউ কেউ। অনেক সময়ে দেখা যায়, এতসব  কিছু করার পরও কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় না। আবার তার কারণও ধরা যায় না। যেমন ধরা যাক,  বিশেষ কিছু ওষুধপত্রের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে কোষ্ঠবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটি থেকেও এই সমস্যা হয়। কিন্তু এসব কোনও কিছুই নেই, কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না  তখনই কিন্তু মনে করা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইডিওপ্যাথিক কনস্টিপেশন হয়েছে।

সে ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতেই হবে। যেমন, যতটা সম্ভব শাসসবজি বা ফলমূল খেতে হবে। তবে তা বেশি খেলেও অনেক সময়ে গ্যাস-অম্বল  হয়ে যায়। তাই তা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি খাওয়া যায় না। তবে যতটুকু সম্ভব খাওয়া যায় ততটুকু খেতে হবে। সেইসঙ্গে টকদই রাখতে হবে রোজকারের খাদ্যতালিকায়।

ইডিপ্যাথিক কনস্টিপেশন যাদের আছে, তাদের এগুলো খেতে হবে ঠিকই, কিন্তু এতেই কাজ হবে না। এক্ষেত্রে সেনা পাওডার  খাওয়ার দরকার হতে পারে। ডাক্তাররা অনেকসময়ে প্রুক্য়ালোপ্রাইড গোত্রের ওষুধ দেন। কারণ, কোলনের নিচের অংশ খুব শক্ত হয়ে যায় এই ক্রনিক ইডিপ্যাথিক কনস্টিপেশনে। এই প্রুক্যালোপ্রাইড সেক্ষেত্রে ওই জায়গার মুভমেন্ট বাড়িয়ে উদ্দীপিত করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে যায়। তবে নিজে থেকে এই ওষুধ খেতে যাবেন না।  আপনার ডাক্তারই একমাত্র বলতে পারবেন, আপনার ক্রনিক ইডিওপ্যাথিক কনস্টিপেশন হয়েছে কিনা। তারপর তিনিই ঠিক করবেন ওই ওষুধ দেবেন কি দেবেন না এই ধরনের কনস্টিপেশন অনেক সময়ে ল্যাকটিটল মনোহাইড্রেট জাতীয় সিরাপও প্রেসক্রাইব করা হয়। এগুলো ঠিক ক্রেমাফিন জাতীয় পার্গেটিভ নয়। এগুলো স্টুলকে নরম করে, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও কম।

তবে আবারও বলছি,  ঠিক মতো ডাল-তরিতরকারি খেয়েও যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে যায়, তাহলে কিন্তু একবার অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে নিন। তিনিই বলতে পারবেন আপনার ইডিপ্য়াথিক কনস্টিপেশন হয়েছে কিনা, হলে কী করতে হবে, কী খেতে হবে।