শিশুদের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রথমেই আসে জনসন অ্যান্ড জনসনের নাম। কিন্তু এটি মোটেই নিরাপদ নয় শিশুদের জন্য। এমনই দাবি করেছে বিশ্বের বিভিন্ন ড্রাগ কনট্রোল ব্যুরো। অভিযোগ জনসনের ট্যালকম পাউডার, বেবি শ্যাম্পুতে এমন কিছু কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলি ক্যানসারের মতো রোগ ডেকে আনতে পারে। 

কিছুদিন আগেই জয়পুরের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবে পরীক্ষার পরে এই প্রোডাক্ট বিক্রির নির্দেশ দিয়েছিল ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস (এনসিপিসিআর)। এই পরীক্ষার পরে দেখা গিয়েছিল, জনসনের প্রোডাক্টে ফরম্যালডিহাইড-সহ বেশ কিছু বিষাক্ত  রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এবারে জনসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। 

আরও পড়ুনঃ ক্যানসারের সম্ভাবনা অজান্তে বাড়াচ্ছেন! ডায়েট থেকে এখনই বাদ দিন এই খাবার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক মহিলার অভিযোগের উপরে ভিত্তি করেই শুরু হয় এই পাউডারের তদন্ত। ২০১৯ এর প্রথম দিকে এই জনসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাঁর অভিযোগ ছিল জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহার করেই তিনি মেসোথ্যালমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ সত্যি প্রমাণও হয়। ক্ষতিপূরণ স্বরূপ ১৯৯ কোটি টাকা দেওয়া হয় তাঁকে। তার পরেই একে একে জনসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হতে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয় কোম্পানির প্রোডাক্টকে। প্রতিটি জায়গাতেই জনসন নিজেকে কেমিক্যাল ফ্রি প্রমাণ করতে ব্যর্থ থাকে। দেখা গিয়েছে পাউডারে অ্যাসবেস্টারের মতো রাসায়নিকও ব্যবহার করা হয়েছে। 

ক্ষতিকারক রাসায়নিক আছে জেনেও জনসন অ্যান্ড জনসন তার বিক্রি বন্ধ করেনি, সেই ব্যাপারেও জবাবদিহি করতে হবে কোম্পানিকে। এমনকী ১৯৭২ থেকে ২০০০ পর্যন্তও বার বার প্রমাণিত হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। কিন্তু বার বার সেগুলিকে উপেক্ষা করে এসেছে এই ব্র্যান্ড। 

এতে অ্যাসবেস্টার., ফরম্যালডিহাইড ছাড়া পাওয়া গিয়েছে ফাইবার বোর্ড, আঠা ও প্লাইউড, ও বাড়ি বানানোর নানা রাসায়নিক। ফরম্যালডিহাইড ও অ্যাসবেস্টার এই দুটোই  শরীরে ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে জানা গিয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে।