- Home
- Lifestyle
- Lifestyle Tips
- Amsterdam: প্রথমবার বিদেশে গেলে ঘুরে আসুন এই দেশে! শিল্প আর কারুকার্য দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে
Amsterdam: প্রথমবার বিদেশে গেলে ঘুরে আসুন এই দেশে! শিল্প আর কারুকার্য দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে
Amsterdam: প্রথমবার বিদেশে গেলে ঘুরে আসুন এই দেশে! শিল্প আর কারুকার্য দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে
112

Image Credit : @TravelBucketX/X
আমস্টারডাম: ইতিহাস আর আধুনিকতার পারফেক্ট মেলবন্ধন
মনোরম ক্যানেল, বহু পুরোনো স্থাপত্য, জমজমাট নাইটলাইফ, বিশ্বমানের মিউজিয়াম আর টিউলিপ ফুলে সাজানো রাস্তা—সব মিলিয়ে আমস্টারডাম এক অসাধারণ ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা দেয়। নেদারল্যান্ডসের এই রাজধানী পায়ে হেঁটে ঘোরার জন্য দারুণ, কারণ শহরটা ছোট আর এর পরতে পরতে রয়েছে মুগ্ধতা।শহরটি তার সমৃদ্ধ ইতিহাস আর আধুনিক সংস্কৃতির মধ্যে সুন্দর একটা ভারসাম্য বজায় রেখেছে। এখানকার বিখ্যাত ক্যানেল হাউস, আর্ট গ্যালারি, কফি শপ বা জমজমাট স্কোয়ার—সবকিছুই ইতিহাসপ্রেমী, খাদ্যরসিক এবং শিল্পপ্রেমীদের মন জয় করে নেয়। আপনি যদি একটা শান্ত ছুটি কাটাতে চান বা সংস্কৃতির গভীরে ডুব দিতে চান, আমস্টারডাম আপনাকে হতাশ করবে না।
212
Image Credit : @TravelBucketX/X
আমস্টারডামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
আমস্টেল নদীর উপর একটি বাঁধকে কেন্দ্র করে এই শহরের জন্ম, সেখান থেকেই নাম হয় আমস্টেলড্যাম। দ্বাদশ শতকে এটি ছিল ছোট্ট একটি মাছ ধরার গ্রাম। কিন্তু সপ্তদশ শতকে ডাচ গোল্ডেন এজ-এর সময়, এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাণিজ্য বন্দরে পরিণত হয়। সেই সময় অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে শহরটি দারুণ উন্নতি করে। এখানকার বিখ্যাত খালগুলো তখনই তৈরি হয়, যা এখন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। ধীরে ধীরে আমস্টারডাম শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির এক গ্লোবাল হাবে পরিণত হয়। আজ এই শহর ইউরোপের সবচেয়ে উদার, সৃজনশীল এবং সাংস্কৃতিকভাবে প্রাণবন্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম।
312
Image Credit : @TravelBucketX/X
আমস্টারডামে ঘোরার সেরা জায়গা
অ্যান ফ্র্যাঙ্ক হাউস: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যান ফ্র্যাঙ্ক এখানেই তার বিখ্যাত ডায়েরি লিখেছিলেন। ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার জন্য এটি একটি অসাধারণ জায়গা।রাইক্সমিউজিয়াম: রেমব্রান্টের 'দ্য নাইট ওয়াচ'-এর মতো বিখ্যাত ডাচ শিল্পকর্মের সংগ্রহশালা।ভ্যান গঘ মিউজিয়াম: এখানে শিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের জীবনের সবচেয়ে বড় শিল্পকর্মের সংগ্রহ রয়েছে।ড্যাম স্কোয়ার: শহরের প্রাণকেন্দ্র, যেখানে ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক, শপিং স্ট্রিট এবং ক্যাফে রয়েছে।ভন্ডেলপার্ক: আমস্টারডামের সবচেয়ে বিখ্যাত পার্ক। এখানে সাইকেল চালানো বা শান্তিতে পিকনিক করার জন্য আদর্শ।জর্ডান: সরু গলি, বুটিক শপ, আর্ট গ্যালারির জন্য পরিচিত একটি ট্রেন্ডি এলাকা।রয়্যাল প্যালেস আমস্টারডাম: ড্যাম স্কোয়ারে অবস্থিত এই বিশাল প্রাসাদটি ডাচ রাজপরিবারের সরকারি বাসভবন।আমস্টারডাম সেন্ট্রাল স্টেশন: শহরের প্রধান পরিবহন কেন্দ্র এবং একটি স্থাপত্য বিস্ময়।হেইনেকেন এক্সপেরিয়েন্স: হেইনেকেন বিয়ারের পুরোনো ব্রিউয়ারিতে একটি ইন্টারেক্টিভ ট্যুর।নিমো সায়েন্স মিউজিয়াম: জাহাজ আকৃতির এই বিল্ডিংয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে দারুণ সব ইন্টারেক্টিভ প্রদর্শনী রয়েছে।
412
Image Credit : @MozartCultures/X
আমস্টারডামে কী কী করবেন?
ক্যানেল ক্রুজ: শহরের ক্যানেল দিয়ে নৌকায় ঘুরুন আর ঐতিহাসিক বাড়ি ও সুন্দর ব্রিজগুলো দেখুন। শহরকে চেনার এটা সেরা উপায়।সাইকেল চালান: আমস্টারডামে সাইকেল চালানো এখানকার সংস্কৃতির অংশ। স্থানীয়দের মতো বাইক ভাড়া করে শহরটা ঘুরে দেখুন।ফ্লোটিং ফ্লাওয়ার মার্কেট: এটি বিশ্বের একমাত্র ভাসমান ফুলের বাজার। এখান থেকে টিউলিপ বাল্ব ও স্যুভেনিয়ার কিনতে পারেন।লেইডসপ্লেইন-এর নাইটলাইফ: বার, ক্লাব, থিয়েটার ও রেস্তোরাঁয় ভরা এই এলাকা রাতের আমস্টারডামকে চেনার জন্য সেরা।জানসে শান্স-এ ডে ট্রিপ: আমস্টারডামের বাইরে এই গ্রামে ঐতিহ্যবাহী উইন্ডমিল, কাঠের বাড়ি আর ডাচ চিজ তৈরির প্রক্রিয়া দেখতে পাবেন।ডাচ চিজ টেস্টিং: স্থানীয় চিজের দোকানে গিয়ে বিখ্যাত গৌডা এবং এডাম চিজ চেখে দেখুন।
512
Image Credit : @echoesofworld/X
কখন বেড়াতে যাবেন?
এপ্রিল থেকে মে: এই সময়টা নেদারল্যান্ডসে টিউলিপের মরসুম। বাগানগুলো রঙে ভরে ওঠে আর আবহাওয়াও বেশ আরামদায়ক থাকে। ভিড়ও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।জুন থেকে আগস্ট: গ্রীষ্মকালে দিনের আলো বেশি থাকে, নানা উৎসব হয়। তবে এই সময় পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে।সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর: শরৎকালে তাপমাত্রা মনোরম থাকে, ভিড় কমে আসে। ক্যানেলের ধারে রঙিন পাতার দৃশ্য মন ভালো করে দেয়।নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি: শীতে ক্রিসমাস বাজার, আলো দিয়ে শহর সেজে ওঠে। ঠান্ডা থাকলেও এই সময় শহরটাকে অন্যরকম সুন্দর লাগে।ভারতীয় পর্যটকদের জন্য এপ্রিল থেকে জুন মাস আদর্শ সময়।
612
Image Credit : @emilyypaige_/X
ভারতীয়রা কীভাবে আমস্টারডাম যাবেন?
ভিসার প্রয়োজনীয়তা: ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে নেদারল্যান্ডস ভ্রমণের জন্য শেনজেন ভিসা (Schengen Visa) লাগবে। এর জন্য শর্ট-স্টে ট্যুরিস্ট ভিসা (টাইপ সি)-এর জন্য আবেদন করতে হবে। ভারতের VFS গ্লোবাল সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া যায়। ভিসা প্রসেসিং-এ ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে, তাই আগে থেকে আবেদন করাই ভালো। বৈধ ট্র্যাভেল ইন্স্যুরেন্স, হোটেল বুকিং এবং রিটার্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক।ফ্লাইট: দিল্লি, মুম্বাই এবং বেঙ্গালুরু থেকে আমস্টারডামের জন্য সরাসরি বা ওয়ান-স্টপ ফ্লাইট পাওয়া যায়। KLM, লুফথানসা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজের মতো প্রধান বিমান সংস্থাগুলো এই রুটে চলাচল করে। সরাসরি ফ্লাইটে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং কানেক্টিং ফ্লাইটে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে।
712
Image Credit : @countrydiariess/X
কারেন্সি এবং পেমেন্ট
নেদারল্যান্ডসের সরকারি মুদ্রা হল ইউরো (EUR)। আমস্টারডামে বেশিরভাগ জায়গাতেই ক্যাশলেস পেমেন্ট চলে। এখানে আন্তর্জাতিক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, কন্ট্যাক্টলেস কার্ড পেমেন্ট, অ্যাপল পে এবং গুগল পে সহজেই ব্যবহার করা যায়। তবে ছোট দোকান, লোকাল মার্কেট বা জরুরি অবস্থার জন্য ১০০ থেকে ২০০ ইউরো ক্যাশ সঙ্গে রাখা ভালো।
812
Image Credit : @naturebeauty760/X
কানেক্টিভিটি এবং ইন্টারনেট
আমস্টারডামে কানেক্টেড থাকা খুবই সহজ। বেশিরভাগ হোটেল, ক্যাফে এবং পাবলিক প্লেসে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই পাওয়া যায়। পর্যটকরা ভোডাফোন নেদারল্যান্ডস, কেপিএন বা টি-মোবাইলের মতো সংস্থার লোকাল সিম কার্ড কিনতে পারেন। এছাড়া, ফিজিক্যাল সিম কার্ড ছাড়াই ই-সিম (eSIM) অ্যাক্টিভেট করার সুবিধাও রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা করলে ভারত থেকে আমস্টারডাম ভ্রমণ খুবই সুবিধাজনক।
912
Image Credit : @World_aib/X
আমস্টারডামে যাতায়াত ব্যবস্থা
আমস্টারডামে ঘোরার জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থা খুবই উন্নত। শহরের মধ্যে ঘোরার জন্য ট্রাম সবচেয়ে জনপ্রিয়। দূরের জায়গায় যাওয়ার জন্য বাস ও মেট্রো রয়েছে। এছাড়া আইজে (IJ) নদী পার হওয়ার জন্য বিনামূল্যে ফেরি সার্ভিসও পাওয়া যায়। পর্যটকরা একটি OV-chipkaart (পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কার্ড) বা দৈনিক ট্র্যাভেল পাস কিনে আনলিমিটেড যাতায়াত করতে পারেন। তবে আমস্টারডামে ঘোরার সেরা উপায় হল সাইকেল। পুরো শহরজুড়ে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন ও পরিকাঠামো রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য খুবই নিরাপদ ও আনন্দদায়ক।
1012
Image Credit : Getty
কোথায় থাকবেন?
আমস্টারডামে সব ধরনের বাজেটের থাকার জায়গা রয়েছে। সিটি সেন্টারের কাছাকাছি, বিশেষ করে প্রধান ট্রেন স্টেশন বা মিউজিয়াম ডিস্ট্রিক্টের কাছে থাকলে ঘোরার সুবিধা হয়।লাক্সারি: ঐতিহাসিক ক্যানেলের ধারে প্রিমিয়াম সুবিধাযুক্ত বিলাসবহুল হোটেল বা স্পা ও ফাইন ডাইনিং সহ পাঁচতারা হোটেলে থাকতে পারেন।মিড-রেঞ্জ: আধুনিক সুবিধা সহ শহরের মূল আকর্ষণগুলোর কাছাকাছি ভালো হোটেল পেয়ে যাবেন।বাজেট: ব্যাকপ্যাকার বা সোলো ট্র্যাভেলারদের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং দারুণ পরিবেশের হোস্টেল রয়েছে।টিপস: সেন্ট্রাল স্টেশন বা মিউজিয়াম কোয়ার্টারের কাছাকাছি থাকলে যাতায়াত, রেস্তোরাঁ এবং কেনাকাটার দারুণ সুবিধা পাবেন।
1112
Image Credit : @planetstroller/X
কী খাবেন?
ডাচ খাবার নেদারল্যান্ডসের সংস্কৃতি ও উপকূলীয় ঐতিহ্যের পরিচয় দেয়। আমস্টারডামে গেলে এই খাবারগুলো চেখে দেখতেই হবে:স্ট্রুপওয়াফেল: ক্যারামেল সিরাপ ভরা দুটো পাতলা ওয়াফেলের একটি মিষ্টি। গরম কফির সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে।প্যানেনকোকেন (ডাচ প্যানকেক): সাধারণ প্যানকেকের চেয়ে বড় ও পাতলা। ফল, চকোলেট বা চিজ দিয়ে পরিবেশন করা হয়।বিটারব্যালেন: মাংসের পুর ভরা ডিপ-ফ্রায়েড ক্রিসপি বল। বার ও ক্যাফেতে স্ন্যাকস হিসেবে খুব জনপ্রিয়।হ্যারিং (ডাচ হেরিং): পেঁয়াজ বা আচার দিয়ে কাঁচা মাছ খাওয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী ডাচ পদ।ডাচ চিজ: স্থানীয় বাজারে বা টেস্টিং ট্যুরে গিয়ে বিখ্যাত গৌডা এবং এডাম চিজ চেখে দেখতে পারেন।শহরে নিরামিষ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক খাবারেরও প্রচুর অপশন রয়েছে।
1212
Image Credit : X
কেন আমস্টারডাম ভ্রমণ করবেন?
আমস্টারডাম নেদারল্যান্ডসের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ইতিহাস, শিল্প এবং আধুনিক জীবনযাত্রার এক দারুণ মিশ্রণ দেখা যায় এখানে। এই রাজধানী শহরটি তার মনোরম ক্যানেল নেটওয়ার্ক, বিশ্বমানের মিউজিয়াম, সাইকেল সংস্কৃতি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের জন্য বিখ্যাত। পর্যটকরা এখানে ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখতে পারেন, বিখ্যাত শিল্পকর্ম উপভোগ করতে পারেন এবং ক্যানেল ক্রুজের মাধ্যমে শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। আপনি ইতিহাসপ্রেমী, শিল্পরসিক বা খাদ্যরসিক যা-ই হোন না কেন, আমস্টারডাম আপনাকে এক অবিস্মরণীয় ছুটির অভিজ্ঞতা দেবে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News
Latest Videos