শরীরে চর্বি ছাড়াও অতিরিক্ত জল জমার কারণে ওজন বাড়তে পারে, যাকে 'ওয়াটার ওয়েট' বলা হয়। পর্যাপ্ত জল পান, নুন কম খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এই সমস্যা কমানো সম্ভব। তবে একটানা ফোলাভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আমরা সাধারণত শরীরে চর্বি জমলে মোটা হয়ে যাই। কিন্তু ওজন বাড়ার এটাই একমাত্র কারণ নয়। বেশি খাওয়া-দাওয়া আর শরীরে জল জমার কারণেও ওজনে প্রভাব পড়ে। শরীর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জল ধরে রাখলে তাকে 'ওয়াটার ওয়েট' বলে। জল কম খাওয়া, অতিরিক্ত নুন খাওয়া, জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস আর শারীরিক সমস্যার কারণে এমনটা হতে পারে। এর ফলে পেট ফাঁপা, হাত-পা ফুলে যাওয়া আর মুখে ফোলাভাব দেখা দেয়।

আমাদের শরীরের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশই জল। শরীরে জলের ভারসাম্যে গন্ডগোল হলে, শরীর অতিরিক্ত জল ধরে রাখে। তবে ওয়াটার ওয়েট বাড়া মানেই যে তা সবসময় শরীরের জন্য ক্ষতিকর, এমনটা নয়। একইভাবে, ওয়াটার ওয়েট কমালে সরাসরি শরীরের চর্বি কমে না। কিন্তু জল জমার কারণে হওয়া পেট ফাঁপা আর ভারী ভাবটা কমে যায়। নিচের পাঁচটি উপায় মেনে চললে আপনি ওয়াটার ওয়েট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

ওয়াটার ওয়েট কমানোর ৫টি সহজ উপায়

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান

শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলেও জলের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই সারাদিন ধরে পর্যাপ্ত জল খাওয়া খুব জরুরি। এটি শরীরে জলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আপনি নিজের শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া আর শরীরের চাহিদা অনুযায়ী জল খাবেন।

  • খাদ্যাভ্যাসে বদল আনুন

অতিরিক্ত নুন খেলে শরীরে জল জমতে পারে। তাই নুন খাওয়া কমান। অতিরিক্ত চিনি খাওয়াও এড়িয়ে চলুন। আপনি রোজকার খাবারে পটাশিয়াম যুক্ত খাবার রাখুন। সুষম ডায়েটের অংশ হিসেবে রসুন, বাঁধাকপি, সবুজ শাকসবজি, লেবু আর শসার মতো খাবার খেতে পারেন।

  • যোগব্যায়াম ও শরীরচর্চা করুন

নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্ত চলাচল ভালো হয়। শরীরে তরল জমার কারণে হওয়া অস্বস্তি কমাতেও এটি সাহায্য করে। যোগব্যায়ামও খুব ভালো একটা উপায়। আপনি নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ব্যায়াম বেছে নিন।

  • অভ্যঙ্গ ম্যাসাজ করান

অভ্যঙ্গ হলো আয়ুর্বেদিক তেলের ম্যাসাজ। শরীরকে আরাম দিতে আর রিল্যাক্স করতে এটি দারুণ কাজ করে। তবে শুধু ম্যাসাজ করেই শরীরের ওজন কমানো সম্ভব নয়।

  • শরীরে একটানা ফোলাভাব থাকলে অবহেলা করবেন না

পা, হাত বা মুখে যদি একটানা ফোলাভাব থাকে, তবে তা এড়িয়ে যাবেন না। অনেক সময় কিডনি, হার্ট বা লিভারের সমস্যার কারণে এমনটা হতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আপনি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথার সঙ্গে ফোলাভাব দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যান।