ওজম্পিক, উইগোভি, মউনজরো, সাকসেন্ডার মতো ওষুধগুলি ওজন হ্রাসের ওষুধ নয়। কিন্তু দ্রুত চর্বি ঝরাতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে ৬০ শতাংশের বেশি চর্বি কমলেও, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, এমনকি কিডনির সমস্যার ঝুঁকি রয়েছে।
ওজেম্পিক (Ozempic), উইগোভি (Wegovy)-র মতো ওজন কমানোর ওষুধের (GLP-1 agonists) জনপ্রিয়তা বাড়লেও, দ্রুত চর্বি ঝরাতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে ৬০ শতাংশের বেশি চর্বি কমলেও, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, এমনকি কিডনির সমস্যার ঝুঁকি রয়েছে, যা মূলত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা বিপজ্জনক।
*ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তার কারণ ও ঝুঁকির বিস্তারিত আলোচনা*:
• ওষুধের কার্যকারিতা: ওজেম্পিক, সাকসেন্ডার (Saxenda) মতো ওষুধগুলি মূলত ডায়াবেটিসের জন্য তৈরি হলেও, এগুলি শরীরের GLP-1 হরমোনকে নকল করে খিদে কমিয়ে দেয়, ফলে দ্রুত ওজন কমে।
• ৬১ শতাংশ চর্বি ঝরানো: গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সাথে এই ওষুধ ব্যবহারের ফলে দ্রুত উল্লেখযোগ্য হারে চর্বি কমে, যা অনেককে মুগ্ধ করছে।
*ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া*:
• অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা: ২.৫ গুণ বেশি প্যানক্রিয়াটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের ঝুঁকি।
• পাকস্থলীর সমস্যা: বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং পাকস্থলী অবশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি।
• কিডনির জটিলতা: এই ওষুধগুলি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ফলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
• অন্যান্য: ১১ শতাংশ বেশি বাতের ব্যথা (arthritis) এবং নিম্ন রক্তচাপের ঝুঁকি।
*ওষুধগুলি কারা নিতে পারবেন?*
এই ওষুধ ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য প্রেসক্রাইব করা হয়। বিশেষ করে যে রোগীরা ডায়াবিটিসের পাশাপাশি স্থূলত্বের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের এই ওষুধ খাওয়ানো হয়। ভুঁড়ি বেড়ে যাচ্ছে, শরীরের নানা অংশে মেদ জমছে, এ রকম টাইপ ২ ডায়াবিটিসের রোগী এবং স্থূলত্বের রোগীদের ক্ষেত্রে ওজেম্পিকের মতো ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
চিকিৎসক বলছেন, ‘‘স্থূলত্বের সমস্যা রয়েছে কি না, সেটা বোঝার জন্য আমরা বডি মাস ইনডেক্স হিসেব করি। যাঁদের বিএমআই ৩৫-এর উপর, তাঁরা অবশ্যই এই ওষুধ নিতে পারেন। যাঁদের ডায়াবিটিস এবং কো-মর্বিডিটি (হার্টের রোগ, স্লিপ অ্যাপনিয়া) আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিএমআই ২৭-এর উপর হলেও দেওয়া হয়।’’
• সতর্কবার্তা:
এই ওষুধগুলি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এবং স্থূলতার (Obesity) মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগের ক্ষেত্রে এর যথেচ্ছ ব্যবহার গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করতে পারে।
স্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই ওজন কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।


