ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে হলে এবং তরুণ দেখাতে হলে চেষ্টা করতে হবে যাতে শরীরের কোলাজেন উৎপাদনের প্রক্রিয়া জারি থাকে। তার জন্য শুধু ক্রিম মাখলে হবে না। কী উপায়ে ত্বকের পরিচর্যা করবেন?
চল্লিশের পরে হরমোনের পরিবর্তন, কোলাজেন হ্রাস এবং প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন কমে যাওয়ায় ত্বক রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়। হারানো জেল্লা ফেরাতে নিয়মিত সিরামাইড বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, দিনে অন্তত দুবার ক্লিনজিং, হাইড্রেটিং সিরামের ব্যবহার, এবং প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগানো অপরিহার্য। রাতে ভারী ক্রিম এবং প্রচুর জল পান করলে ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে ও কোমলতা বজায় থাকে।
বিস্তারিত যত্ন ও পরিচর্যার নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. সঠিক ক্লিনজিং ও আর্দ্রতা বজায় রাখা:
* কোমল ক্লিনজার: কড়া সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহার না করে, পিএইচ ব্যালেন্সড (pH-balanced) বা ক্রিম-ভিত্তিক ক্লিনজার বেছে নিন, যা ত্বককে পরিষ্কার করার পাশাপাশি তার প্রাকৃতিক তেল ধরে রাখে।
* ডাবল ময়েশ্চারাইজিং: ধোয়ার পরপরই, ত্বক যখন সামান্য ভেজা থাকে, তখন একটি ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগান। সিরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন বা শিয়া বাটার যুক্ত ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
* ফেসিয়াল অয়েল: শীতকালে বা অতিরিক্ত রুক্ষ ত্বকের জন্য রাতে ক্লিনজিংয়ের পর নারকেল তেল বা বাদাম তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
২. হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও সিরামের ব্যবহার
* হাইড্রেটিং সিরাম: ময়েশ্চারাইজারের আগে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড (Hyaluronic Acid) যুক্ত সিরাম ব্যবহার করুন। এটি নিজের ওজনের ১০০০ গুণ জল ধরে রাখতে পারে, যা ত্বককে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেটেড রাখে।
* ভিটামিন সি সিরাম: ত্বক উজ্জ্বল করতে এবং বয়সের ছাপ কমাতে সকালে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করুন।
৩. সূর্যের হাত থেকে সুরক্ষা (সানস্ক্রিন):
* সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি ত্বককে আরও বেশি শুষ্ক ও রুক্ষ করে তোলে, যা বলিরেখার কারণ হয়।
* বাইরে বেরোনোর অন্তত ২০ মিনিট আগে কমপক্ষে SPF 30 যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, তা মেঘলা দিনেও।
৪. ত্বকের যত্ন ও সাপ্তাহিক স্ক্রাবিং:
* হালকা এক্সফোলিয়েশন: সপ্তাহে ১-২ বার খুব মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করুন, যা মৃত কোষ ঝরিয়ে দেয়। খুব বেশি স্ক্রাবিং করবেন না, এতে ত্বক আরও খসখসে হয়ে যেতে পারে।
* ঘরোয়া প্যাক: শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধ, মধু, অ্যালোভেরা বা পাকা কলার ফেস প্যাক খুব ভালো কাজ করে।
৫. খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা:
* জল পান: দিনে অন্তত ২-৩ লিটার জল পান করুন, যা ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে।
* পুষ্টিকর খাবার: খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছ, বাদাম), ভিটামিন ই, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত ফল ও সবজি রাখুন।
* ঘুম: রাতে ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন, কারণ ঘুমের মধ্যেই ত্বকের কোষ পুনরুজ্জীবিত (repair) হয়।
বিশেষ টিপস: অতিরিক্ত গরম জল দিয়ে মুখ বা শরীর ধোয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি ত্বকের স্বাভাবিক তেল পুরোপুরি কমিয়ে দেয়।
