Depression Care Tips: মন খারাপ হলেই আমরা জোর করে ‘পজিটিভ ভাইব’ খুঁজি। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের গবেষণা বলছে, এই টক্সিক পজিটিভিটি উল্টো ফল দেয়।

Depression Care Tips: অফিসে বসের ঝাড় খেয়েছেন? প্রেম ভেঙেছে? বাড়িতে এসে ফোন খুললেই ইনস্টাগ্রাম বলবে ‘Smile, be positive’। বন্ধুরা বলবে ‘মুড অফ করিস না, চল ঘুরে আসি’। আমরাও তখন জোর করে হাসি। ইউটিউবে সার্চ করি ‘হাউ টু বি হ্যাপি’। খুশির কারণ লিস্ট করি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কিন্তু সাইকোলজিস্টরা বলছেন, এই ‘জোর করে ভালো থাকা’ আসলে বিপজ্জনক। একে বলে ‘টক্সিক পজিটিভিটি’। আর নতুন গবেষণা বলছে, এতে ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি আরও বাড়ে।

গবেষণা কী বলছে?

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের মনোবিজ্ঞানী ড. আইরিস মস ও তাঁর টিম ১৩০০ জনের উপর ৬ মাস ধরে স্টাডি চালান। অংশগ্রহণকারীদের দুটো গ্রুপে ভাগ করা হয়।

প্রথম গ্রুপকে বলা হয়, মন খারাপ হলে জোর করে পজিটিভ চিন্তা করতে, খুশির মেমরি মনে করতে। দ্বিতীয় গ্রুপকে বলা হয়, ‘ইমোশনকে জাজ করবেন না। মন খারাপকে মেনে নিন। এটাই স্বাভাবিক’।

৬ মাস পর রেজাল্ট চমকে দেওয়ার মতো। যারা জোর করে পজিটিভ থাকার চেষ্টা করছিলেন, তাঁদের রক্তে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা ৩৭% বেশি। ডিপ্রেশনের ক্লিনিক্যাল লক্ষণ বেড়েছে ২০%। ঘুমের সমস্যা, প্যানিক অ্যাটাকও বেশি।

অন্যদিকে যারা ‘ইমোশনাল অ্যাকসেপ্টেন্স’ প্র্যাকটিস করেছেন, অর্থাৎ দুঃখকে দুঃখ বলে মেনে নিয়েছেন, তাঁদের মুড গড়ে ৬ দিনের মধ্যে নরমাল হয়েছে। ৮ সপ্তাহ পর তাঁদের ওভারঅল লাইফ স্যাটিসফ্যাকশন ৩৪% বেড়েছে।

কেন জোর করে খুশি খোঁজা ক্ষতি করে? ৪টে কারণ:

১. ইমোশনাল সাপ্রেশন = কর্টিসল বোমা:

মন খারাপ হল ব্রেনের অ্যালার্ম সিস্টেম। শরীর বলছে ‘কিছু একটা ঠিক নেই, অ্যাকশন নাও’। আপনি সেটাকে ‘সব ঠিক আছে’ বলে চাপা দিলে অ্যামিগডালা হাই অ্যালার্টে চলে যায়। ফলে কর্টিসল, অ্যাড্রেনালিন হু হু করে বাড়ে। এটা শরীরের জন্য ক্রনিক স্ট্রেস। হার্ট, সুগার, ইমিউনিটির বারোটা বাজে।

২. ‘আমিই খারাপ’ সিনড্রোম:

‘সবাই এত হ্যাপি, আমার কেন মন খারাপ?’ জোর করে পজিটিভ না হতে পারলে নিজেকেই দোষ দিই। ‘আমার মেন্টালিটি খারাপ’ ভেবে গিল্ট হয়। গবেষণা বলছে, এই সেলফ-ব্লেম মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের সবচেয়ে বড় ট্রিগার।

৩. প্রবলেম সলভ হয় না এই ধারণা:

মন খারাপের পিছনে রিয়েল কারণ থাকে। টাকার টান, সম্পর্কের টানাপোড়েন, হেলথ ইস্যু। খুশির রিল দেখে সেটা মিটবে না। সাইকোলজিস্টরা বলেন, নেগেটিভ ইমোশন হল গাড়ির ড্যাশবোর্ডের লাল আলো। লাল আলো ঢেকে দিলে ইঞ্জিন সিজ করবে। আলো কেন জ্বলছে সেটা দেখতে হবে।

৪. ইমোশনাল মাসল দুর্বল হয়:

জিমে যেমন মাসল ট্রেনিং হয়, তেমন ইমোশনাল মাসলও ট্রেনিং চায়। ছোট ছোট দুঃখ, রাগ, ভয় ফেস না করলে ব্রেন শেখে না কীভাবে বড় ধাক্কা সামলাতে হয়। ফলে সামান্য স্ট্রেসেই আমরা ভেঙে পড়ি।

তাহলে মন খারাপ হলে কী করবেন? ৩টে সায়েন্স-ব্যাকড টেকনিক:

১. নামকরণ করুন: ‘Name it to tame it’

UCLA-র স্টাডি বলছে, ইমোশনকে ভাষা দিলেই ব্রেনের ভয়ের সেন্টার অ্যামিগডালার অ্যাক্টিভিটি ৫০% কমে। ‘মন খারাপ’ খুব ভেগ। বলুন ‘আমার রিজেকশনের ভয় লাগছে’ বা ‘আমি একাকিত্ব ফিল করছি’। নাম দিলেই ব্রেন বোঝে এটা ম্যানেজেবল।

২. ৯০ সেকেন্ড রুল:

হার্ভার্ড ট্রেনড নিউরোসায়েন্টিস্ট ড. জিল বোল্ট টেলরের রিসার্চ অনুযায়ী, কোনও ইমোশনের বায়োকেমিক্যাল রিঅ্যাকশন রক্তে থাকে মাত্র ৯০ সেকেন্ড। ওই ৯০ সেকেন্ড জাজ না করে, ‘ঠিক-ভুল’ না ভেবে শুধু ফিল করুন। শরীরে কী হচ্ছে খেয়াল করুন। বুক ধড়ফড়, গলা শুকনো। ৯০ সেকেন্ড পর ওই কেমিক্যাল ফ্লাশ আউট হয়ে যায়। এরপর যেটা থাকে সেটা আপনার চিন্তা। চিন্তা কন্ট্রোল করা যায়।

৩. ‘অ্যান্ড’ দিয়ে বাক্য বলুন:

‘আমি ব্যর্থ, আমি শেষ’ এর বদলে বলুন ‘আমি আজ ব্যর্থ, অ্যান্ড আমি কাল আবার চেষ্টা করব’। ‘আমার মন খারাপ, অ্যান্ড এটা মানুষের স্বাভাবিক রিঅ্যাকশন’। ‘অ্যান্ড’ ব্রেনকে শেখায় দুটো বিপরীত সত্যও একসাথে থাকতে পারে। এতে র‍্যাডিক্যাল অ্যাকসেপ্টেন্স বাড়ে।

শেষ কথা:

মন খারাপ হওয়া কোনও ডিসঅর্ডার না। এটা হিউম্যান সফটওয়্যারের ডিফল্ট ফিচার। জ্বর যেমন বলে শরীরে ইনফেকশন, মন খারাপ তেমন বলে জীবনে কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট দরকার। জ্বরকে প্যারাসিটামল দিয়ে চাপা দিলে ইনফেকশন সারে না। তেমনই দুঃখকে ‘বি পজিটিভ’ বলে চাপা দিলে মন সারে না।

দুঃখকে ঘরের মেহমান ভাবুন। আসবে, চা খাবে, গল্প করবে, তারপর নিজেই চলে যাবে। দরজা আটকালে ও জানলা ভেঙে ঢুকবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।