ফ্ল্যাটের দাম, লোন, ইন্টেরিয়র সব ঠিক আছে কিন্তু বাস্তুদোষ থাকলে পরে আফসোস ছাড়া উপায় নেই। রেজিস্ট্রি আর টাকা দেওয়ার আগে এই ৭টা সহজ চেক নিজেই করুন। ভাঙচুর আর লাখ টাকার রেমেডি বাঁচবে।
ব্যাংক লোন পাস, বুকিং অ্যামাউন্ট দেওয়া, ইন্টেরিয়রের স্বপ্ন দেখা। সব শেষ। তারপর গৃহপ্রবেশের দিন পুরোহিত এসে বললেন "এই ফ্ল্যাটে বড় বাস্তুদোষ আছে"। শুনে মাথায় হাত। কারণ তখন আর কিছু করার থাকে না। ভাঙতে গেলে ৩-৪ লাখ আর ২ মাস সময় লাগে।
তাই ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পাওয়ার আগেই এই কয়েকটা জিনিস নিজে দেখে নিন। কোনো বাস্তুবিদ ডাকতে হবে না, ফোনের কম্পাস আর চোখ থাকলেই হবে।
১. মেইন দরজা - বাড়ির মুখ:
বাস্তুতে মেইন এন্ট্রিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটা দিয়েই পজিটিভ এনার্জি ঢোকে। আদর্শ দিক হল উত্তর বা পূর্ব। দরজা খুলেই যেন সোজা আয়না, টয়লেট বা সিঁড়ি না পড়ে। দরজার সামনে থাম, ডাস্টবিন বা অন্ধকার থাকলে সেটা বাধা তৈরি করে। আর দরজাটা সবসময় ভেতরের দিকে খুলবে। বাইরের দিকে খুললে এনার্জি বেরিয়ে যায় বলে মানা হয়। দরজায় কড়া আর নেমপ্লেট পরিষ্কার রাখুন।
২. ব্রহ্মস্থান - ঘরের হার্ট:
ফ্ল্যাটের একদম মাঝখানের জায়গাটাকে বলে ব্রহ্মস্থান। এই জায়গা ফাঁকা, হালকা আর পরিষ্কার রাখতে হয়। এখানে যদি বিম, ভারী ফার্নিচার, টয়লেট বা সিঁড়ি থাকে তাহলে পরিবারে অসুস্থতা, ঝগড়া আর টাকার টানাপোড়েন লেগে থাকতে পারে। ফ্লোর প্ল্যান নিয়ে মাঝখানটা মার্ক করে দেখুন কী আছে।
৩. রান্নাঘর - আগুনের জায়গা:
কিচেনের আদর্শ জায়গা হল দক্ষিণ-পূর্ব কোণ। একে অগ্নিকোণ বলে। এখানে রান্না করলে স্বাস্থ্য আর অর্থ দুটোই ভালো থাকে। রান্নার সময় মুখ যেন পূর্ব দিকে থাকে। সবচেয়ে বড় ভুল হল উত্তর-পূর্ব কোণে কিচেন। এই কোণে আগুন থাকলে মানসিক অশান্তি আর লোনের সমস্যা বাড়ে। কিচেনে সিঙ্ক আর গ্যাস যেন পাশাপাশি না থাকে।
৪. বেডরুম - শান্তির জায়গা:
মাস্টার বেডরুমের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম বেস্ট। এটা স্ট্যাবিলিটি দেয়। ঘুমানোর সময় মাথা দক্ষিণ দিকে আর পা উত্তর দিকে রাখুন। উত্তর দিকে মাথা দিলে ব্লাড প্রেশার আর দুঃস্বপ্নের সমস্যা হয় বলে বাস্তুতে বলা হয়। বেডের ঠিক উপরে বিম থাকলে সেটাও ভালো না। বাচ্চাদের ঘর পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম এ রাখতে পারেন।
৫. টয়লেট - সবচেয়ে সেন্সিটিভ জায়গা :
এখানেই বেশিরভাগ ফ্ল্যাটে বাস্তুদোষ হয়। উত্তর-পূর্ব কোণে ভুলেও টয়লেট করবেন না। এই কোণটা জলের আর ঈশ্বরের জায়গা। এখানে টয়লেট থাকলে ক্যারিয়ার, পড়াশোনা আর বিয়েতে বাধা আসে। টয়লেটের কমোড যেন উত্তর-দক্ষিণ বরাবর না হয়। আর টয়লেটের দরজা সবসময় বন্ধ রাখবেন।
৬. আলো-হাওয়া আর বারান্দা :
বাড়িতে রোদ ঢোকা খুব জরুরি। উত্তর আর পূর্ব দিকে বড় জানালা বা বারান্দা থাকলে সারাদিন ঘর উজ্জ্বল থাকে। বাস্তু বলে যেখানে সূর্যের আলো ঢোকে না সেখানে নেগেটিভ এনার্জি জমে। ফ্ল্যাট দেখতে গিয়ে দিনের বেলায় যান। লাইট না জ্বেলেই দেখুন ঘর কতটা আলোকিত। অন্ধকার ফ্ল্যাট মানেই ভবিষ্যতে ইলেক্ট্রিক বিল আর মন খারাপ দুটোই বাড়বে।
৭. সিঁড়ি আর ব্যালকনির দিক
ফ্ল্যাট বিল্ডিং-এ সিঁড়ি দক্ষিণ-পশ্চিম বা পশ্চিম দিকে থাকলে ভালো। আর ব্যালকনি উত্তর বা`পূর্ব দিকে হলে পজিটিভ এনার্জি আসে। দক্ষিণ-পশ্চিম এ ব্যালকনি থাকলে সেখানে ভারী জিনিস রেখে ব্যালেন্স করা যায়।
বাস্তুদোষ পেলে কী করবেন? ভাঙবেন?
আতঙ্কিত হবেন না। ছোট দোষের জন্য রেমেডি আছে। উত্তর-পূর্ব কোণে গাছ, হালকা রং, আর মেইন দরজায় স্বস্তিক লাগাতে পারেন। কিন্তু যদি কিচেন বা টয়লেট একদম ভুল জায়গায় হয়, আর সেটা শিফট করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেই ফ্ল্যাট স্কিপ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাস্তু মানে কুসংস্কার না। এটা হাজার বছরের অভিজ্ঞতা। আলো, হাওয়া, দিক আর এনার্জির ব্যালেন্স। কোটি টাকা খরচ করার আগে ১৫ মিনিট দিয়ে এই চেকগুলো করুন। শান্তিতে থাকবেন।
