কৈশোরে 'বডিশেমিং' এর শিকার আপনার সন্তান? আত্মবিশ্বাস কীভাবে বাড়াবেন? জেনে নিন

কৈশোরে শারীরিক গঠন বা গায়ের রং নিয়ে টিপ্পনী বা ‘বডিশেমিং’ করলে (Body Shaming) সন্তানের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি কাটিয়ে উঠতে সন্তানের সাথে খোলামেলা কথা বলুন, তার আবেগকে গুরুত্ব দিন এবং শরীরের চেয়ে গুণাবলী ও প্রতিভার ওপর জোর দিন। তাদের শেখান যে, অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য তাদের ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করে না।

বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো:

১. খোলামেলা কথা বলুন (Open Dialogue):

* অনুভূতি বুঝুন: সন্তান যদি বডিশেমিংয়ের শিকার হয়, তবে তাদের কষ্ট, রাগ বা ক্ষোভকে অবহেলা করবেন না। সহানুভূতিশীল হয়ে শুনুন এবং তাদের আশ্বস্ত করুন।

* বডিশেমিং কী তা বোঝান: তাদের বুঝিয়ে বলুন যে, কারো শরীরের মাপ বা আকার নিয়ে হাসিঠাট্টা করা ভুল এবং এটি একটি সামাজিক সমস্যা, তাদের দোষ নয়।

২. আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় (Building Self-Esteem):

* ওজন বা অবয়ব নয়, স্বাস্থ্যের ওপর জোর দিন: ডায়েট বা মেদ কমানোর কথা না বলে, সুষম খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ থাকার কথা বলুন।

* বডি পজিটিভিটি (Body Positivity) শিক্ষা: তাদের শেখান যে, প্রত্যেক মানুষের শরীর ভিন্ন এবং সুন্দর। শরীরের গঠন নয়, বরং শরীরের কার্যক্ষমতাকে ভালোবাসতে শেখান।

* গুণাবলীর প্রশংসা করুন: বাহ্যিক রূপের পরিবর্তে তাদের মেধা, সৃজনশীলতা, দয়ালু স্বভাব বা খেলাধুলার দক্ষতার প্রশংসা করুন।

৩. মানসিক resilience বা দৃঢ়তা তৈরি:

* নেতিবাচক কথায় কান না দেওয়া: টিপ্পনী কাটলে কীভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রতিবাদ করতে হবে, তা শেখান।

* সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: সোশ্যাল মিডিয়ায় এডিটেড বা পারফেক্ট ছবির দৌরাত্ম্য সম্পর্কে তাদের সচেতন করুন। বোঝান যে, সামাজিক মাধ্যমে যা দেখা যায় তা সবসময় বাস্তব নয়।

* পছন্দের কাজে ব্যস্ত রাখা: খেলাধুলা, আর্ট, মিউজিক বা পছন্দের কোনো শখের কাজে তাদের উৎসাহিত করুন, এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

৪. পরিবার ও স্কুলের ভূমিকা:

* বাড়ির পরিবেশ: বাড়িতে কখনোই নিজেদের বা অন্যের শরীর নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। আপনি নিজে যা করবেন, সন্তান সেটাই শিখবে।

* স্কুলে অভিযোগ: যদি সমস্যাটি স্কুলে হয়, তবে শিক্ষকদের সাথে কথা বলুন এবং প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।

* বন্ধুমহল যাচাই: তারা যাদের সাথে মিশছে, তাদের আচরণ কেমন সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজন হলে নেতিবাচক বন্ধু সার্কেল থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করুন।

৫. কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন:

* যদি দেখেন সন্তান খুব বেশি মুড সুইং, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া, স্কুল যেতে না চাওয়া, বা বিষণ্নতায় ভুগছে, তবে দেরি না করে চাইল্ড সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

কৈশোরের এই বয়সে সন্তানের পাশে থাকা, তাদের ভালোবাসার নিশ্চয়তা দেওয়া এবং তাদের নিজের শরীরকে ভালোবাসতে শেখানোই প্রধান দায়িত্ব।