Food Tips: ঢ্যাঁড়স মানেই ভাজা, পোস্ত, না হলে সর্ষে। একঘেয়ে স্বাদে বাড়ির লোকের মুখ ভার? এবার ঢ্যাঁড়সে দিন চিংড়ির টুইস্ট। ঢ্যাঁড়সের পিছল ভাব কেটে যাবে, আসবে চিংড়ির উমামি ফ্লেভার। নারকেল, সর্ষে আর গরম মশলার কম্বিনেশনে গরম ভাতে এই চিংড়ি-ঢ্যাঁড়স হবে সুপারহিট। রেস্টুরেন্ট স্টাইলের স্বাদ, কিন্তু বানানো জলভাত। রইল টিপস।

Food Tips: “আবার ঢ্যাঁড়স? উফ!”

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দুপুরে পাতে ঢ্যাঁড়স ভাজা পড়লেই বাড়ির লোকের এই এক ডায়লগ। পুষ্টিকর ঠিকই, কিন্তু সেই এক ভাজা, এক পোস্ত। মুখে আর রোচে না। কিন্তু ঢ্যাঁড়স যদি হয় ‘হিরো’, আর চিংড়ি হয় ‘গেম-চেঞ্জার’? ভাবুন তো, নরম ঢ্যাঁড়সের সাথে ছোট চিংড়ির ঠোকাঠুকি। উপরে নারকেল-সর্ষে বাটার ঝাল ঝাল গ্রেভি। গরম ভাত মাখলেই স্বর্গ।

বাঙালির পুরনো রান্না ‘চিংড়ি দিয়ে ঢ্যাঁড়স’ বা ‘ভেন্ডি-চিংড়ি’ এখন নিউ মার্কেটের হোটেলেও হিট। কারণ একটাই – ঢ্যাঁড়সের বদনাম ঘোচায় এই রেসিপি। ঢ্যাঁড়স আর ল্যালল্যালে থাকে না, চিংড়ির গন্ধে ম-ম করে।

কেন এই টুইস্ট কাজ করে?

১. টেক্সচার ব্যালান্স: ঢ্যাঁড়সের মিউসিলেজ বা পিছল ভাব অনেকের অপছন্দ। হাই হিটে ভেজে আর টক দই/তেঁতুল দিলে পিছল ভাব কেটে যায়। চিংড়ি দেয় বাইট, ঢ্যাঁড়স দেয় সফটনেস।

২. উমামি বুস্ট: চিংড়ি হল ন্যাচারাল উমামি বম্ব। ঢ্যাঁড়সের নিউট্রাল স্বাদের সাথে মিশে রেস্তোরাঁর ফ্লেভার আনে।

৩. প্রোটিন + ফাইবার: ঢ্যাঁড়স ফাইবার, ফোলেট, ভিটামিন-কে। চিংড়ি লিন প্রোটিন, সেলেনিয়াম, B12। এক তরকারিতে ভাত-ঘুম কমপ্লিট।

চিংড়ি-ঢ্যাঁড়স মাখা মাখা – রেসিপি ৪ জনের জন্য

উপকরণ লাগবে:

ঢ্যাঁড়স – ৫০০ গ্রাম, ১ ইঞ্চি করে কাটা

ছোট চিংড়ি – ২৫০ গ্রাম, খোসা ছাড়িয়ে পরিষ্কার করা

পেঁয়াজ বাটা – ২টো মাঝারি

আদা-রসুন বাটা – ১.৫ চামচ

টমেটো কুচি – ১টা বড়

সর্ষে বাটা – ১.৫ চামচ, সাথে ১টা কাঁচালঙ্কা বাটা

নারকেল কোরা – ৩ টেবিল চামচ

টক দই – ২ টেবিল চামচ, ফেটানো

হলুদ, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো – ১ চামচ করে

গরম মশলা গুঁড়ো – ½ চামচ

চেরা কাঁচালঙ্কা – ৪টে

কালো জিরে, তেজপাতা – ফোড়নের জন্য

সর্ষের তেল – ৫ টেবিল চামচ

নুন, চিনি – স্বাদমতো, ধনেপাতা কুচি

বানানোর নিয়ম – স্টেপ বাই স্টেপ

স্টেপ ১: ঢ্যাঁড়স আর চিংড়ি রেডি করুন

ঢ্যাঁড়স ধুয়ে ফ্যানের হাওয়ায় একদম শুকনো করে নিন। জল থাকলেই পিছল হবে। কড়াইতে ২ টেবিল চামচ সর্ষের তেল গরম করে হাই ফ্লেমে ঢ্যাঁড়স ৫ মিনিট ভেজে তুলুন। নুন দিন। হাই হিটে ভাজলে স্লাইম কাটে।

ওই তেলেই চিংড়ি নুন-হলুদ মাখিয়ে ১ মিনিট ভেজে তুলুন। বেশি ভাজলে রাবার হবে।

স্টেপ ২: গ্রেভি বানান

কড়াইতে আরও ৩ টেবিল চামচ তেল দিন। গরম হলে তেজপাতা, কালো জিরে ফোড়ন দিন। পেঁয়াজ বাটা দিয়ে ৪ মিনিট কষান। আদা-রসুন বাটা দিন, কাঁচা গন্ধ যাওয়া পর্যন্ত কষান।

এবার হলুদ, লঙ্কা, জিরে, ধনে গুঁড়ো দিয়ে ৩০ সেকেন্ড নাড়ুন। টমেটো কুচি ও স্বাদমতো নুন দিন। ঢাকা দিয়ে টমেটো গলে যাওয়া পর্যন্ত কষান।

তেল ছাড়লে ফেটানো টক দই দিন। আঁচ কমিয়ে নাড়ুন যাতে দই কেটে না যায়।

স্টেপ ৩: ফাইনাল মিক্স

দই কষে গেলে সর্ষে বাটা আর নারকেল কোরা দিন। ২ মিনিট কষান। সর্ষে বেশি কষাবেন না, তেতো হবে।

এবার ভাজা ঢ্যাঁড়স দিন। ½ কাপ গরম জল দিন। ঢাকা দিয়ে ৩ মিনিট ফোটান।

ঢাকনা খুলে ভাজা চিংড়ি, চেরা কাঁচালঙ্কা, ১ চিমটি চিনি দিন। ব্যালান্সের জন্য চিনি মাস্ট।

২ মিনিট হালকা হাতে নাড়ুন। উপরে গরম মশলা গুঁড়ো আর ধনেপাতা ছড়িয়ে নামান।

৫টা প্রো টিপস – ঠাকুমার হেঁশেল থেকে

১. ঢ্যাঁড়স শুকনো রাখুন: কাটার আগে ধোবেন না। ধুলে টিস্যু দিয়ে মুছে ফ্যানের নিচে রাখুন ২০ মিনিট। জল = পিছল।

২. সর্ষে বাটার সিক্রেট: সর্ষে বাটার সময় ১ চিমটি নুন আর ১টা কাঁচালঙ্কা দিন। তেতো হবে না। মিক্সিতে বাটলে ১ বরফ কিউব দিন।

৩. চিংড়ি নরম রাখার ট্রিক: চিংড়ি কখনও প্রথমে কষাবেন না। অলওয়েজ শেষে দিন। ২ মিনিটের বেশি ফোটাবেন না। তাহলেই জুসি থাকবে।

৪. আরও মাখা মাখা চাই: নামানোর আগে ১ চামচ সর্ষের তেল কাঁচা ছড়িয়ে দিন। গন্ধটা লেভেল আপ হবে।

৫. টক ব্যালান্স: ঢ্যাঁড়সের পিছল কাটাতে টক দই দিয়েছি। না থাকলে নামানোর আগে ১ চামচ তেঁতুল গোলা বা লেবুর রস দিন।

কী দিয়ে খাবেন?

গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত বেস্ট কম্বো। সাথে মুসুর ডাল আর আলু ভাজা থাকলে লাঞ্চ জমে ক্ষীর। রুটি-পরোটা দিয়েও দারুণ লাগে। বাটি চেটে খাওয়ার মতো রেসিপি।

চিংড়ি নেই? ভেজ ভার্সন

চিংড়ি বাদ দিন। সেই জায়গায় ১০০ গ্রাম ছোট ডুমো করে কাটা আলু ভেজে দিন। বা ড্রাই রোস্টেড বাদাম দিন শেষে। নাম হবে ‘আলু-ঢ্যাঁড়স সর্ষে পোস্ত’। স্বাদ ৯০% সেম।

শেষ কথা:

ঢ্যাঁড়সকে গাল দেবেন না। ও শুধু ঠিক পার্টনার পাচ্ছিল না। চিংড়ি পেয়ে ও এখন সুপারস্টার।

একঘেয়ে মেনুতে টুইস্ট আনতে দামি কিছু লাগে না। লাগে একটু বুদ্ধি আর ২৫০ গ্রাম চিংড়ি।

আজই বানান। বাড়ির লোক জিজ্ঞেস করবে, “এটা কোন হোটেলের রান্না?”

বলবেন, “আমার হেঁশেলের”।

কারণ বাঙালি রান্নার আসল ম্যাজিক – সাধারণ জিনিসকে অসাধারণ বানানো।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।