অনেকে সুস্থ অবস্থায় ঘুমোতে গেলেও সকালে উঠে কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অঙ্গ অবশ হওয়ার মতো স্ট্রোকের লক্ষণ অনুভব করতে পারেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ওয়েক-আপ স্ট্রোক' বলা হয়।
অনেকেই একদম সুস্থ-স্বাভাবিক শরীরে রাতে ঘুমোতে যান। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হঠাৎ দেখেন কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, শরীর অবশ লাগছে কিংবা চোখে ঝাপসা দেখছেন। এমনটা হলে বুঝতে হবে, রাতের ঘুমের মধ্যেই হয়তো স্ট্রোক হয়ে গেছে।
কখন স্ট্রোক হয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকলেও, এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্রই সতর্ক হতে হবে। মস্তিষ্কের রক্তনালীতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালী ফেটে রক্তপাত হলে স্ট্রোক হয়। ঘুমের মধ্যে এমনটা ঘটলে মানুষ ঘুম থেকে না ওঠা পর্যন্ত বিষয়টি জানাই যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'ওয়েক-আপ স্ট্রোক' (Wake-up Stroke)।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী ঠিক কোন সময় পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন, চিকিৎসকরা সেটাকে বলেন 'লাস্ট নোন ওয়েল টাইম' (Last Known Well Time)। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি হলো রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক আগের সময়টা। স্ট্রোক ঠিক কোন সময়ে শুরু হয়েছে তা পরিষ্কার জানা না থাকলেও, ব্রেন ইমেজিং পরীক্ষা আর ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের মাধ্যমে উপযুক্ত চিকিৎসা সম্ভব কি না, তা ঠিক করেন চিকিৎসকরা।
হাই ব্লাড প্রেসার বা অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকি। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল এবং ধূমপানের অভ্যাস থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া 'অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন' (Atrial Fibrillation) অর্থাৎ হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম আরেকটি বড় কারণ, যার ফলে হার্টে রক্তজমাট বেঁধে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলো সহজে মনে রাখার জন্য চিকিৎসকরা BEFAST পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেন:
B (Balance/ভারসাম্য): হঠাৎ শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, মাথা ঘোরা বা হাঁটতে না পারা।
E (Eyes/চোখ): হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, একটা জিনিস দুটো দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
F (Face/মুখ): হাসতে গেলে বা কথা বলতে গেলে মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া।
A (Arms/হাত): একটা হাত অবশ লাগা বা হাত তুলে রাখতে না পেরে নিচে পড়ে যাওয়া।
S (Speech/কথা): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে বলতে ও বুঝতে না পারা।
T (Time/সময়): এই লক্ষণগুলোর একটাও চোখে পড়লে একটুও সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।






