Chandipur Sea: সমুদ্র আছে কিন্তু জল নেই! কয়েক কিমি হেঁটেও সমুদ্র খুঁজে পাবেন না। শুনতে অবাক লাগলেও ওড়িশার চাঁদিপুরে এমনটাই ঘটে। দিনে দুবার সমুদ্র কয়েক কিলোমিটার দূরে চলে যায় এবং আবার ফিরে আসে। রইল এই অলৌকিক সৈকতের সম্পূর্ণ গাইড।
Balasore Sea: দীঘা, পুরীর ভিড়ে আপনি যদি শান্ত, নিরিবিলি এবং একটু অন্যরকম সমুদ্র সৈকত খুঁজে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য সেরা ঠিকানা ওড়িশার চাঁদিপুর। এই সৈকতকে বলা হয় ভারতের ‘Hide and Seek Beach’ বা লুকোচুরি খেলা সৈকত।
কী হয় এখানে?
চাঁদিপুরে জোয়ারের সময় সমুদ্র স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু ভাটার সময় সমুদ্র প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পিছিয়ে যায়! আপনি সৈকতে দাঁড়িয়ে দেখবেন সামনে শুধু ধু ধু করছে বালিয়াড়ি, কোথাও জলের চিহ্ন নেই। আপনি যত এগোবেন, সমুদ্র তত পিছিয়ে যাবে। মনে হবে সমুদ্র যেন আপনার সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। আবার কয়েক ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে জল ফিরে আসতে শুরু করে এবং পুরো সৈকত জলে ভরে যায়। দিনে দুবার এই ঘটনা ঘটে। জোয়ার-ভাটার কারণেই এই অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি হয়, যদিও এতটা দূরে জল চলে যাওয়া পৃথিবীর আর কোথাও খুব কমই দেখা যায়।
পর্যটকরা কেন ভিড় করেন?
এই অদৃশ্য হওয়ার দৃশ্য দেখতেই এখানে ভিড় জমান পর্যটকরা। ভাটার সময় যখন জল সরে যায়, তখন বালির উপর পড়ে থাকে ছোট ছোট লাল কাঁকড়া, সামুদ্রিক ঝিনুক, শঙ্খ। আপনি চাইলে সেই বিশাল বালিয়াড়ির উপর দিয়ে হেঁটে বেড়াতে পারেন, বাইকও চালাতে পারেন। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় এই দৃশ্য আরও মায়াবী লাগে।
কীভাবে যাবেন?
ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে চাঁদিপুরের দূরত্ব প্রায় ২৩০ কিমি। বালেশ্বর স্টেশন থেকে মাত্র ১৬ কিমি।
ট্রেনে: হাওড়া থেকে বালেশ্বরগামী যে কোনও ট্রেনে বালেশ্বর নামুন। সেখান থেকে অটো বা গাড়িতে চাঁদিপুর।
কলকাতা থেকে: কলকাতা থেকে বাসে বা গাড়িতে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন।
কোথায় থাকবেন?
এখানে ওড়িশা ট্যুরিজমের পান্থনিবাস ছাড়াও অনেক বেসরকারি হোটেল ও রিসর্ট রয়েছে। খরচও দীঘা-পুরীর তুলনায় অনেক কম। একদম সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে দুটো দিন কাটানোর জন্য চাঁদিপুর সেরা। এবারের ছুটিতে ভিড় এড়িয়ে যদি একটু অন্যরকম সমুদ্রের স্বাদ নিতে চান, তাহলে ঘুরে আসুন অদৃশ্য সমুদ্রের দেশ চাঁদিপুর থেকে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

