নতুন গবেষণা অনুযায়ী, ছোটবেলায় অতিরিক্ত ফ্যাট ও চিনিযুক্ত খাবার খেলে মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন হয়, যা পরেও থেকে যায়। এই প্রভাব মস্তিষ্কের খিদে নিয়ন্ত্রক অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্ক (UCC)-এর একটি নতুন গবেষণা জানাচ্ছে, ছোটবেলায় অতিরিক্ত ফ্যাট ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরবর্তী জীবনে মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। এমনকি, পরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শুরু করলেও এই প্রভাব থেকে যায়। গবেষণাটি করেছে UCC-র অন্যতম সেরা মাইক্রোবায়োম গবেষণা কেন্দ্র, APC মাইক্রোবায়োম আয়ারল্যান্ড-এর বিজ্ঞানীরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই গবেষণার ফলাফল নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছোটবেলার ভুল খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের খিদে এবং খাওয়ার আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের ওজন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেও এই প্রভাবগুলো থেকে যায়।

আধুনিক খাদ্যাভ্যাস

গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, আজকের শিশুরা প্রায়শই এমন সব প্রক্রিয়াজাত খাবারের সংস্পর্শে আসে যা সস্তা, সহজলভ্য এবং যার বিজ্ঞাপনও প্রচুর। পার্টি, স্কুলের অনুষ্ঠান, খেলাধুলো এবং পুরস্কার হিসেবেও প্রায়ই চিনি ও ফ্যাটযুক্ত খাবার দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, ছোটবেলা থেকে বারবার এই ধরনের খাবারের সংস্পর্শে আসাটা সারাজীবনের জন্য খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করে এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের জন্ম দেয়।

একটি প্রি-ক্লিনিক্যাল মাউস মডেল ব্যবহার করে গবেষক দলটি দেখেছে, যে প্রাণীগুলিকে ছোটবেলায় উচ্চ-ফ্যাট ও উচ্চ-চিনির খাবার খাওয়ানো হয়েছিল, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও তাদের খাওয়ার আচরণে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা গেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের সমস্যার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। মস্তিষ্কের এই অংশটিই আমাদের খিদে নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দায়ী।

অন্ত্রের সঙ্গে যোগসূত্র

বিজ্ঞানীরা এটাও খতিয়ে দেখেছেন যে, অন্ত্রের (gut) স্বাস্থ্য ভালো করলে এই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কমানো যায় কিনা। তাঁরা "বাইফিডোব্যাকটেরিয়াম লঙ্গাম APC1472" (Bifidobacterium longum APC1472) নামক একটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং FOS ও GOS নামক প্রিবায়োটিক ফাইবার পরীক্ষা করেন। এই ফাইবারগুলো প্রাকৃতিকভাবে পেঁয়াজ, রসুন, লিক, অ্যাসপারাগাস এবং কলার মতো খাবারে পাওয়া যায়। এছাড়াও কিছু ফর্টিফায়েড খাবার এবং সাপ্লিমেন্টেও এগুলি যোগ করা হয়।

গবেষকদের মতে, সারাজীবন ধরে এই দুটি চিকিৎসাই বেশ আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক ডঃ ক্রিস্টিনা কুয়েস্তা-মার্টি জানিয়েছেন, এই ফলাফলগুলি প্রমাণ করে যে ছোটবেলার খাদ্যাভ্যাস ভবিষ্যতের খাওয়ার আচরণ তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করে, এমনকি যদি শরীরের ওজনের উপর তার প্রভাব দৃশ্যমান না-ও হয়।

ভবিষ্যতের সমাধান

গবেষক দলটি দেখেছে যে, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটাকে উন্নত করলে ছোটবেলার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে হওয়া দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। প্রোবায়োটিক স্ট্রেনটি অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে সামান্য পরিবর্তন এনেই খাওয়ার আচরণ উন্নত করেছে, যা থেকে বোঝা যায় এটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই কাজ করে। অন্যদিকে, প্রিবায়োটিক ফাইবার অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে আরও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

গবেষকরা বলছেন, জন্ম থেকেই অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়াকে সাপোর্ট করলে তা পরবর্তী জীবনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। এই গবেষণা ভবিষ্যতে স্থূলতা এবং খাদ্যাভ্যাস-সম্পর্কিত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার মোকাবিলায় নতুন মাইক্রোবায়োম-ভিত্তিক পদ্ধতির দরজা খুলে দিয়েছে।