মুখের একটা ব্রণই কনফিডেন্স শেষ করে দেয়। দামি প্রোডাক্টে কাজ না হলে ট্রাই করুন নিমপাতা। আয়ুর্বেদ বলছে রাতে এক ফোঁটা লাগালেই সকালে ফারাক বোঝা যাবে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বড় একটা ব্রণ দেখলে দিনটাই খারাপ হয়ে যায়। কলেজ হোক বা অফিসের প্রেজেন্টেশন, ব্রণের জন্য ক্যামেরার সামনে যেতেও অস্বস্তি। বাজার চলতি ফেসওয়াশ, ক্রিম, ডাক্তারের ওষুধ সব ট্রাই করেও যখন কাজ হয় না, তখন হতাশা আরও বাড়ে। কিন্তু সমাধানটা হয়তো আপনার বাড়ির উঠোনেই আছে। হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদে ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে নিমপাতা। আর এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ঘরোয়া টোটকা নিয়ে হইচই।
নিমপাতা কেন ব্রণের জন্য এত কার্যকরী তার পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। নিমপাতার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান।
আমাদের ত্বকের পোরে তেল আর ময়লা জমে ব্যাকটেরিয়া হলেই ব্রণ হয়। নিমপাতার রস সেই ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে, ত্বকের ফোলা ভাব কমায় এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে নিম একদম প্রাকৃতিকভাবে বেনজয়েল পারক্সাইডের মতো কাজ করে, কিন্তু এতে কোনও কেমিক্যাল নেই বলে সাইড এফেক্টের ভয়ও থাকে না।
ব্যবহারের নিয়মটা খুবই সহজ। এটাকে বলে Spot Treatment। প্রথমে ৭ থেকে ৮টা টাটকা নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর শিল-নোড়া বা মিক্সিতে বেটে ছেঁকে রস বের করে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এবার কটন বাডের সাহায্যে শুধুমাত্র ব্রণের জায়গায় এক ফোঁটা নিমরস লাগিয়ে দিন। সারা মুখে মাখার দরকার নেই। সকালে উঠে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাত্র এক রাতেই ব্রণের লালচে ভাব এবং ফোলা অনেকটা কমে যাবে। টানা ২ থেকে ৩ দিন ব্যবহার করলে ব্রণ শুকিয়ে আপনা থেকেই মিলিয়ে যাবে।
শুধু Spot Treatment-ই নয়, নিমকে আরও কয়েকভাবে ব্যবহার করা যায়। ব্রণের দাগ তুলতে এক চামচ নিমবাটার সাথে এক চিমটি কাঁচা হলুদ মিশিয়ে সপ্তাহে দুদিন ফেসপ্যাক হিসেবে লাগাতে পারেন। আবার এক লিটার জলে এক মুঠো নিমপাতা ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে রোজ মুখ ধুলে মুখের তেলতেলে ভাব কমবে। যাদের স্কিন খুব সেনসিটিভ তারা সরাসরি নিমরস না লাগিয়ে নারকেল তেলের সাথে দু ফোঁটা নিম তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
তবে কিছু সাবধানতা মানতেই হবে। নিমের প্রকৃতি গরম, তাই সরাসরি লাগিয়ে ২০ মিনিটের বেশি রাখবেন না। প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতের একটু জায়গায় Patch Test করে নিন। আর যদি ব্রণ থেকে পুঁজ বের হয় বা খুব বড় সিস্টিক ব্রণ হয়, তাহলে নিজে থেকে কিছু না লাগিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
৫০০ টাকার ক্রিমের পেছনে টাকা নষ্ট না করে, ফ্রি-তে পাওয়া নিমপাতাই হতে পারে আপনার ত্বকের আসল ওষুধ। প্রকৃতির চিকিৎসায় একটু সময় লাগলেও রেজাল্ট কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হয়।


