হার্টের অসুখ মানেই বড়দের রোগ, এই ধারণা এখন ভুল। চিকিৎসকরা বলছেন, জন্মগত ত্রুটি, সংক্রমণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে ছোটদের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগ। বাবা-মা হিসেবে কোন কোন সাধারণ উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন? জানালেন শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।
হার্টের অসুখ মানেই বড়দের রোগ, এই ধারণা এখন ভুল। চিকিৎসকরা বলছেন, জন্মগত ত্রুটি, সংক্রমণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে ছোটদের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগ। বাবা-মা হিসেবে কোন কোন সাধারণ উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন? জানালেন শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।
আগে ৫০ পেরোলেই হার্টের চিন্তা শুরু হতো। এখন ৫, ১০ বছরের শিশুরাও হৃদরোগের কবলে পড়ছে। হঠাৎ করে স্কুলে খেলতে খেলতে বাচ্চা অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে, বা অল্পতেই হাঁপিয়ে যাচ্ছে - এই ঘটনাগুলো আর বিরল নয়।
শিশুদের হৃদরোগ মূলত দুই ধরনের - জন্মগত হৃদরোগ (CHD) যা জন্ম থেকেই থাকে এবং অর্জিত হৃদরোগ যা পরে সংক্রমণ বা অন্য কারণে হয়। সমস্যা হল, বাচ্চারা নিজেদের কষ্ট ঠিক করে বলতে পারে না। তাই বাবা-মাকেই লক্ষণগুলো চিনতে হবে।
কোন ৫টি উপসর্গ কখনও অবহেলা করবেন না?
১. অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া:
বাচ্চা দুধ খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে, বা অল্প খেলাধুলাতেই জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে? এটি হার্ট দুর্বলতার বড় লক্ষণ। হার্ট ঠিকমতো পাম্প করতে না পারলে শরীরে অক্সিজেন কম যায়।
২. ওজন না বাড়া এবং বারবার বুকে সংক্রমণ:
আপনার বাচ্চা ঠিকমতো খাচ্ছে কিন্তু ওজন বাড়ছে না, উচ্চতা বাড়ছে না? আর প্রতি মাসেই সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া হচ্ছে? হার্টে ফুটো থাকলে ফুসফুসে রক্ত বেশি যায়, ফলে বারবার সংক্রমণ হয় এবং শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩. ঠোঁট, জিভ বা নখ নীল হয়ে যাওয়া:
কান্নার সময় বা খেলার সময় যদি বাচ্চার ঠোঁট, জিভ বা হাতের নখ নীলচে (Cyanosis) হয়ে যায়, তাহলে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। এর মানে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে কম। এক মুহূর্ত দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
৪. অতিরিক্ত ঘাম এবং বুকে ধড়ফড়ানি:
ঠান্ডা ঘরেও বাচ্চা অতিরিক্ত ঘামছে, বিশেষ করে কপালে? বা মাঝে মাঝে বুকে হাত দিয়ে বলছে বুক ধড়ফড় করছে বা ব্যথা করছে? এটি হার্টের ছন্দের গোলমাল (Arrhythmia) হতে পারে।
৫. হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বুকে ব্যথা:
খেলার মাঠে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হঠাৎ বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া - এটি খুবই গুরুতর লক্ষণ। অনেক সময় এটি কার্ডিওমায়োপ্যাথির কারণে হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই লক্ষণগুলোর কোনও একটি টানা দেখা গেলে অবহেলা করবেন না। গর্ভাবস্থায় মায়ের ডায়াবেটিস, ধূমপান, সংক্রমণ এবং বাচ্চার অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া, অতিরিক্ত ফোন দেখা, খেলাধুলার অভাব - এই কারণগুলো ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সঠিক সময়ে একটি সাধারণ ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Echo) পরীক্ষাই শিশুর হার্টের অবস্থা বলে দিতে পারে। তাই সন্দেহ হলে দ্রুত শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


