ডাক্তারের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স মাঝপথে থামিয়ে দিলে কিছু ব্যাকটেরিয়া বেঁচে যায়। পরে এরাই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে, যা সারানো কঠিন হয়ে পড়ে।
অসুখ হলেই আমরা অনেকসময় অ্যান্টিবায়োটিক খাই। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে ডাক্তাররা এই ওষুধ দেন। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে বা তাদের বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়। প্রত্যেকটা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট অংশ, যেমন কোষের দেওয়াল, প্রোটিন বা ডিএনএ-কে টার্গেট করে। কিন্তু মানুষের শরীরের কোষের কোনও ক্ষতি করে না। পেনিসিলিন, অ্যামোক্সিসিলিন বা অ্যাজিথ্রোমাইসিন হল খুব পরিচিত কিছু অ্যান্টিবায়োটিক।
তবে একটা কথা মনে রাখা খুব জরুরি, সর্দি-কাশি বা জ্বরের জন্য দায়ী ভাইরাসের ওপর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। সংক্রমণের ধরন দেখে ডাক্তাররা নির্দিষ্ট দিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স দেন। ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করাটা খুব জরুরি। এতে বমি ভাব বা অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমে এবং নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে যায়।
কিন্তু অনেকেই শরীর একটু ভালো লাগলেই কোর্স শেষ না করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। আর এতেই হয় আসল সমস্যা। এই বিষয়ে সতর্ক করছেন অ্যাজিলাস ডায়াগনস্টিকস-এর মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড সেরোলজি ল্যাবের প্রধান রভনীত কৌর।
তিনি জানাচ্ছেন, কোর্স শেষ না করলে কিছু ব্যাকটেরিয়া বেঁচে যায়। এদের মধ্যে কিছু আবার চরিত্র বদলে (মিউট্যান্ট) আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়াগুলোই পরে আবার রোগ ফিরিয়ে আনে। রভনীত কৌরের মতে, এই নতুন সংক্রমণ সারানো তখন খুব কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ প্রচলিত ওষুধে আর কাজ হতে চায় না।
অ্যান্টিবায়োটিক একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করার জন্য তৈরি। জ্বর, ব্যথা বা ফোলাভাব কমে গেলেও শরীরের ভেতরে কিছু জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে। চিকিৎসা মাঝপথে থামিয়ে দিলে এই বেঁচে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো আবার বংশবৃদ্ধি শুরু করে। ফলে রোগটা আবার ফিরে আসে। অনেক ক্ষেত্রে এই দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ আরও মারাত্মক হয়ে ওঠে।
তাছাড়া, কোর্স শেষ না করলে অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। যেমন, পুরোপুরি চিকিৎসা না হওয়া সংক্রমণ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বা এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে আরও শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়।
কৌর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছেন। সব সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর বা ডায়েরিয়ার মতো ভাইরাল রোগের ক্ষেত্রে এর কোনও ভূমিকা নেই। তাই তাঁর পরামর্শ, শুধুমাত্র ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খান এবং যতদিন খেতে বলা হয়েছে, কোর্সটা সম্পূর্ণ করুন।


