পশ্চিমবঙ্গে গত এক সপ্তাহে ৫০০-র বেশি নতুন ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, যার ফলে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৫০০ ছাড়িয়েছে। এই রোগ এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর ও মাথার যন্ত্রণা।
গত সাত দিনে পশ্চিমবঙ্গে ৫০০-র বেশি নতুন ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গির ওপর নজর রাখতে এবং তা প্রতিরোধ করার জন্য একটি 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর' (SOP) জারি করা হয়েছে। এর আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে এবং উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলেই গত এক সপ্তাহে ৫০০-র বেশি নতুন কেস ধরা পড়েছে বলে এক আধিকারিক জানান। তিনি আরও বলেন, এই নতুন ৫০০ কেস মিলিয়ে চলতি বছরে, বিশেষ করে এই বর্ষার মরসুমে, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। ডেঙ্গি হল একটি ভাইরাল রোগ, যা ডেঙ্গি ভাইরাসের কারণে হয় এবং স্ত্রী এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। যখন একটি এডিস মশা ডেঙ্গি আক্রান্ত কোনও ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন ভাইরাসটি মশার শরীরে প্রবেশ করে। ৮-১০ দিনের মধ্যে এই ভাইরাস মশার লালাগ্রন্থিতে পৌঁছে যায়। এরপর ওই মশা যখন কোনও সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন তার লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি ওই ব্যক্তির শরীরে ঢুকে পড়ে। শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে (গড়ে ৩-৪ দিন) জ্বর-সহ অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।
লক্ষণগুলো কী কী?
কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা
হঠাৎ করে তীব্র জ্বর
অসহ্য মাথার যন্ত্রণা
চোখের পেছনের দিকে ব্যথা
খিদে কমে যাওয়া
মুখে স্বাদ না থাকা
বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া
কী কী খেয়াল রাখবেন?
ডেঙ্গি প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হল মশার বংশবৃদ্ধি আটাকানো।
বাড়ির চারপাশে মশা জন্মানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেবেন না।
কোথাও জল জমতে দেখলে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করুন।
দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকুন।
ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।

