Rosogolla: বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য আর গর্বের নাম রসগোল্লা। জন্মদিন, বিয়ে, বিজয়া কিংবা অতিথি আপ্যায়ন, রসগোল্লা ছাড়া বাঙালির মিষ্টিমুখ অসম্পূর্ণ। কিন্তু এই প্রিয় মিষ্টিকে ইংরেজিতে কী বলে জানেন? ৯৯% মানুষই ভুল বলেন। জানুন রসগোল্লার সঠিক ইংরেজি নাম ও তার পেছনের ইতিহাস।

Rosogolla: বাঙালি আর মিষ্টি, এই দুটো শব্দ যেন একে অপরের পরিপূরক। আর মিষ্টির কথা উঠলেই সবার আগে যে নামটি মনে আসে তা হল রসগোল্লা। নরম, তুলতুলে, রসে টইটম্বুর এই সাদা গোল মিষ্টিটি শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। বাংলার গর্ব এই মিষ্টি এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও সমান জনপ্রিয়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিকে ইংরেজিতে কী বলা হয়?

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি রসগোল্লা:

রসগোল্লার ইতিহাস প্রায় ১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। ১৮৬৮ সালে কলকাতার বাগবাজারে নবীনচন্দ্র দাস প্রথম ছানা দিয়ে এই বিশেষ মিষ্টি তৈরি করেন। তার আগে ছানা মূলত ফেলে দেওয়া হত, কিন্তু নবীনচন্দ্র ছানাকে চিনির রসে ফুটিয়ে তৈরি করলেন এক অমৃত। সেই থেকেই বাঙালির ঘরে ঘরে রসগোল্লা হয়ে উঠল শুভ অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আজও কোনও শুভ কাজ রসগোল্লা ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। এই কারণেই ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলার রসগোল্লার জন্য জি আই ট্যাগ বা ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি আদায় করে নেয়।

রসগোল্লাকে ইংরেজিতে কী বলে?

রসগোল্লার কোনও এক শব্দের আক্ষরিক ইংরেজি অনুবাদ হয় না। কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় তথা বাংলার নিজস্ব মিষ্টি। যেমন পিৎজা বা বার্গারের বাংলা নাম হয় না, তেমনই রসগোল্লারও ইংরেজি নাম হয় না। তবে আন্তর্জাতিক ডিকশনারি, ফুড ব্লগ এবং বিদেশি রেস্তোরাঁর মেনুতে রসগোল্লাকে বোঝানোর জন্য লেখা হয় “Syrupy Cheese Ball” বা “Spongy Cottage Cheese Ball in Sugar Syrup”। এর অর্থ হল, ছানা বা কটেজ চিজ দিয়ে তৈরি, চিনির হালকা রসে ডোবানো নরম ও স্পঞ্জি মিষ্টি। কিছু জায়গায় একে “Sweetened Cottage Cheese Ball” নামেও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে এর আসল ও সরকারি নাম একটাই, রসগোল্লা। তাই পরেরবার যদি কোনও বিদেশি বন্ধুকে রসগোল্লা খাওয়ান, তাহলে তাকে বলবেন - এর বর্ণনা হল Syrupy Cheese Ball, কিন্তু এর আসল পরিচয় হল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, বাংলার গর্বের রসগোল্লা। আসলে রসগোল্লা শুধু একটি মিষ্টি নয়, এটি বাঙালির নস্টালজিয়া। এক কামড়ে যেমন ছোটবেলার স্মৃতি ফিরে আসে, তেমনই মনে করিয়ে দেয় বাংলার সংস্কৃতির মিষ্টতা। ওড়িশার সঙ্গে লড়াই করে বাংলার রসগোল্লা যে জিআই ট্যাগ জিতেছে, তা প্রমাণ করে এই মিষ্টি কতটা মূল্যবান। তাই রসগোল্লা ইংরেজিতে যাই বলা হোক না কেন, বাঙালির কাছে এটি চিরকাল রসগোল্লাই থাকবে, আবেগ, ভালোবাসা আর ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।