Parenting Guide: অনেক বাবা-মা মনে করেন বকাঝকা করলেই সন্তান শুধরে যাবে। কিন্তু মনোবিদদের মতে, অতিরিক্ত বকাঝকায় সন্তান আরও জেদি ও অবাধ্য হয়ে ওঠে। সঠিক যোগাযোগ, ধৈর্য আর ভালোবাসার মাধ্যমেই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Parenting Guide: সন্তান কথা না শুনলে বা জেদ করলে বাবা-মায়ের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় বকাঝকা। কিন্তু বারবার বকলে সন্তানের মধ্যে ভয় বা প্রতিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। তখন তারা আরও জেদি হয়ে ওঠে, মিথ্যে বলতে শেখে, এমনকি বাবা-মায়ের থেকে দূরে সরে যায়। মনোবিদদের মতে, বকাঝকা সাময়িক সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে এবং তার মানসিক বিকাশে বাধা দেয়।

সন্তান অবাধ্য হলে কী করবেন?

সন্তান অবাধ্য হলে প্রথমে কারণটা বোঝার চেষ্টা করুন। স্কুলের চাপ, বন্ধুদের প্রভাব, ঘুমের অভাব বা মনোযোগের অভাব অনেক সময় এমন আচরণের কারণ হয়। সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন। তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। তাকে বলুন, “তুমি কী চাইছো আমি বুঝতে চাই”। এতে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে এবং আপনার কথা শুনতে রাজি হবে।

বকাঝকার বদলে ইতিবাচক পদ্ধতি ব্যবহার করুন। ভালো কাজ করলে ছোট হলেও প্রশংসা করুন। “তুমি আজ নিজে জামা গুছিয়ে রেখেছো, খুব ভালো হয়েছে” — এমন ছোট উৎসাহও বড় প্রভাব ফেলে। নিয়ম ভাঙলে শাস্তির বদলে যুক্তি দিয়ে বোঝান। যেমন, “পড়াশোনা না করলে খেলতে পারবে না” — এমন শর্ত দেওয়ার বদলে বলুন, “পড়া শেষ করলে আমরা একসঙ্গে খেলব”। এতে সন্তান শাস্তিকে নয়, ফলাফলকে বুঝতে শেখে।

নিজেও শান্ত থাকুন। বাবা-মা রেগে গেলে সন্তানও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। রেগে গেলে কয়েক মিনিট সময় নিন, এক গ্লাস জল খান, তারপর ঠান্ডা মাথায় কথা বলুন। নিয়ম তৈরি করুন এবং সেটা ধারাবাহিকভাবে মেনে চলুন। আজ এক কথা, কাল আরেক কথা বললে সন্তান বিভ্রান্ত হয় এবং নিয়মকে গুরুত্ব দেয় না।

স্ক্রিন টাইম কমিয়ে একসঙ্গে সময় কাটান। দিনে ৩০ মিনিট হলেও খেলাধুলা, গল্প বলা বা একসঙ্গে রান্না করার মতো কাজ সন্তানের সঙ্গে বন্ধন মজবুত করে। এতে সন্তান মনোযোগ পায় এবং অযথা জেদ করার প্রয়োজন বোধ করে না।

সবচেয়ে বড় কথা, সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বোঝাপড়ার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হয়। ধৈর্য, ভালোবাসা আর ধারাবাহিকতাই হল সফল প্যারেন্টিংয়ের মূল চাবিকাঠি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।