Bharatpur News: প্রথম দফার নির্বাচনের দিনই বুথে ভুয়ো এজেন্ট বসানোর অভিযোগ তুলে সরব বিজেপি প্রার্থী। ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে। ঠিক অভিযোগ উঠেছে? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।। 

Bharatpur News: ভরতপুরে বুথে ‘ভুয়ো এজেন্ট’ কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ। প্রিসাইডিং অফিসারকে ঘিরে বিজেপি প্রার্থীর তীব্র বচসা। ভোটের দিনেই ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসাদপুর গ্রামের ১৮৬ নম্বর বুথে চরম উত্তেজনা ছড়াল ‘ভুয়ো এজেন্ট’ অভিযোগ ঘিরে। বুথ পরিদর্শনে গিয়ে একেবারে রণংদেহী মেজাজে দেখা গেল বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষকে। বুথের মধ্যেই প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে তাঁর তুমুল বচসা শুরু হয়, যা মুহূর্তে চরমে পৌঁছে যায়। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁদের নিযুক্ত বুথ এজেন্টকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়।

ভরতপুরে বুথে তৃণমূলের ভুয়ো এজেন্ট বসানোর অভিযোগ:-

এরপর সেই জায়গায় বসানো হয় এক সাধারণ ভোটারকে। যিনি নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। ঘটনাটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনামিকা ঘোষ। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, প্রিসাইডিং অফিসার তৃণমূলের দালালি করছেন। এটা সুপরিকল্পিতভাবে ভোট লুট করার চেষ্টা। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পৌঁছে যায় কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। বুথ চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

এদিকে, যাকে ‘ভুয়ো এজেন্ট’ হিসেবে অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি দাবি করেন, তিনি আসলে ভোট দিতে এসেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, তন্ময় রায় নামে এক ব্যক্তি তাঁকে ওই জায়গায় বসতে বলেন, আর সেই কারণেই তিনি সেখানে বসেছিলেন।

এই ঘটনার পর আরও জোরালো হয়েছে প্রশ্ন,নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ও অনুমতি ছাড়া কীভাবে একজন ব্যক্তি বুথ এজেন্টের আসনে বসলেন? যদিও প্রিসাইডিং অফিসারের দাবি, এই ঘটনায় তাঁর কোনও ইচ্ছাকৃত ভূমিকা নেই এবং বিষয়টি তাঁর অজান্তেই ঘটেছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্যই এই ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভরতপুরের এই বুথকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, যা ভোটের আবহে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল।

অন্যদিকে, নির্বাচন চলাকালীন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণের মাঝেই ডোমকলের রায়পুর এলাকার ২১৭ নম্বর বুথকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ, কিছু তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সিপিআইএম কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথের আশপাশ থেকে সরিয়ে দেয়। এর ফলে বহু ভোটার আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ভোটদান থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ।

ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাহিনীর জওয়ানরা এলাকায় টহল জোরদার করে এবং আতঙ্কিত ভোটারদের আশ্বস্ত করেন। এরপর নিরাপত্তা বলয়ে সাধারণ মানুষকে পুনরায় বুথে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তারা নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। যদিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে ভোটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গোটা বিষয়টির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।