Husband-wife relations: বাড়িতে যদি স্ত্রী বেশি রোজগার করেন তাহলে নাকি স্বামীদের মানসিক চাপ বাড়ে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু এর পেছনে কারণ কী? আর বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

Husband-wife: আগেকার দিনে সংসারের হাল ধরার দায়িত্বটা পুরোপুরি স্বামীর কাঁধেই থাকত। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন অনেক বাড়িতেই স্ত্রী স্বামীর থেকে বেশি আয় করেন। এটা ভালো দিক, আর্থিক স্বাধীনতা বাড়ছে। কিন্তু একটা নতুন সমীক্ষা বলছে, এই আর্থিক ভারসাম্যের বদলের ফলে অনেক স্বামীই মানসিক চাপে ভুগছেন। সমীক্ষাটি চালিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ২০০ বিবাহিত পুরুষের উপর সার্ভে করে। রিপোর্টে দেখা গেছে, যে সব সংসারে স্ত্রীর মাসিক আয় স্বামীর থেকে ২০% বা তার বেশি, সেই সব স্বামীদের মধ্যে ৪২% মানুষ উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব আর হীনমন্যতায় ভুগছেন।

চাপটা আসছে কোথা থেকে? 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মূল কারণ হল আমাদের মাথায় গেঁথে থাকা পুরনো লিঙ্গ ভূমিকা। ছোট থেকে আমাদের শেখানো হয় "পুরুষই সংসারের কর্তা"। "পুরুষই রোজগার করবে, বাড়ি চালাবে"। যখন বাস্তবে দেখা যায় স্ত্রী বেশি আয় করছেন, তখন অবচেতনে মনে হয় যেন নিজের পুরুষত্ব বা প্রদানকারী হিসেবে ভূমিকাটা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

এর ফলে কী হয়? 

অনেক স্বামী স্ত্রীর সাফল্যকে মন থেকে মেনে নিতে পারেন না। ছোটখাটো বিষয়ে খুঁত ধরেন, ঝগড়া বাড়ে। আবার অনেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। বন্ধুদের কাছে, আত্মীয়দের কাছে বলতে লজ্জা পান যে স্ত্রী বেশি কামায়। এই চেপে রাখা স্ট্রেস থেকেই ডিপ্রেশন, ঘুমের সমস্যা, এমনকি শারীরিক অসুস্থতাও দেখা দিচ্ছে। তবে সমীক্ষায় আরেকটা দিকও উঠে এসেছে। যে সব দম্পতি এই বিষয়টা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন, তাদের মধ্যে এই চাপ ৬০% কম। অর্থাৎ সমস্যাটা আয়ের অঙ্কে না, সমস্যাটা যোগাযোগের অভাবে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? 

মনোবিদরা বলছেন, সংসার মানে টিমওয়ার্ক। এখানে কে বেশি আয় করল সেটা বড় কথা না, বড় কথা হল সংসারটা কীভাবে ভালো চলবে। স্ত্রীর বেশি আয় মানে সংসারের সেভিংস বেশি, বাচ্চার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত, লোন তাড়াতাড়ি শোধ। এটাকে হুমকি না ভেবে আশীর্বাদ হিসেবে দেখতে হবে। তাঁরা তিনটি পরামর্শ দিচ্ছেন। এক, অহঙ্কার একপাশে রেখে স্ত্রীর সাফল্যকে সেলিব্রেট করুন। দুই, টাকা-পয়সা নিয়ে স্বচ্ছ আলোচনা করুন। কে কী খরচ করবে সেটা ঠিক করে নিন। তিন, বাড়ির কাজ আর বাচ্চা সামলানোর দায়িত্বও ভাগ করে নিন। শুধু রোজগারই পুরুষের কাজ না। সময় পাল্টেছে। এখন সংসার আর একজনের কাঁধে চলে না। দুজনেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চললে তবেই সংসার সুখের হয়। স্ত্রীর আয় বেশি হওয়া মানে প্রতিযোগিতা না, মানে হল সংসারের শক্তি দ্বিগুণ হওয়া।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।