Durga Puja 2026: উৎসবের আমেজ বা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার কারণে, যেন আপনার দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত না হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, সময়মতো ওষুধ খান এবং পর্যাপ্ত জলপান করুন। নিয়মিত খাবার খান এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করুন। দুর্গাপুজো মানেই দীর্ঘ পথ হাঁটা, ভিড়ে ঠাসা প্যান্ডেল, লাইনে অনেকটা সময় কাটানো এবং উৎসবের জন্য নতুন জুতো কেনা।

Durga Puja 2026: দুর্গাপুজো মানেই দীর্ঘ পথ হাঁটা, ভিড়ে ঠাসা প্যান্ডেল, লাইনে অনেকটা সময় কাটানো এবং উৎসবের জন্য নতুন জুতো কেনা। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, পায়ে চাপ পড়া কিংবা সামান্য আঘাতও অবহেলার কারণে, জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে (Durga Puja 2026)। তাই কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে উৎসবের দিনগুলি আরামদায়ক ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।

১. উৎসবের সাজসজ্জার চেয়ে আরামকে প্রাধান্য দিন

পায়ের আঙুল নড়াচড়া করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা আছে এবং ভালো সাপোর্ট বা ভারসাম্য দেয়—এমন আরামদায়ক ও কুশনযুক্ত জুতো বেছে নিন। খুব আঁটোসাঁটো ফিতে, শক্ত সেলাই বা সরু সামনের অংশ (narrow toe box) আছে এমন জুতো এড়িয়ে চলুন। কারণ, এগুলি ঘর্ষণ বা চাপ তৈরি করতে পারে।

পুষ্পাঞ্জলি থেকে প্যান্ডেল হপিং, এই দুর্গাপুজোয় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পায়ের যত্ন নেওয়ার ১০টি নিয়ম

২. প্যান্ডেল ঘোরার জন্য ডায়াবেটিস-বান্ধব জুতো বেছে নিন

দুর্গাপুজোর জন্য নতুন জুতো কেনার কথা ভাবছেন? তাহলে এমন জুতো বেছে নিন, যা ডায়াবেটিস-বান্ধব—অর্থাৎ, যেটি পায়ে আরামদায়কভাবে ফিট হয়। পর্যাপ্ত কুশনযুক্ত এবং পায়ে ঘর্ষণ বা চাপ কমায়। দীর্ঘ সময় বাইরে বেরোনোর ​​আগে নতুন জুতোটি অল্প সময়ের জন্য পরে দেখুন এবং কোথাও ঘষা লাগছে কি না বা কোনও অস্বস্তি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে নিন।

৩. প্যান্ডেল ঘোরার রুট বা পথটি ভেবেচিন্তে ঠিক করুন

একটানা অনেকগুলো প্যান্ডাল ঘুরে দেখার চেষ্টা করবেন না। কম দূরত্বের রুট বা পথ বেছে নিন। মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিন এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় যানবাহন ব্যবহার করুন। যাতে পায়ে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

৪. বাইরে যাওয়ার আগে ও পরে পা ভালো করে পরীক্ষা করুন

পায়ের পাতা, গোড়ালি এবং আঙুলের ফাঁকে কোনো লালচে ভাব, ফোলা অংশ, ফোসকা, কাটা বা ফাটা দাগ আছে কি না, তা দেখে নিন। নিয়মিত পরীক্ষা করলে কোনও আঘাত বা সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে, যদি ডায়াবেটিসের কারণে আপনার পায়ের অনুভূতি কমে গিয়ে থাকে।

৫. পা ফুলে গেলে তা উপেক্ষা করবেন না

দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পা ফুলে যেতে পারে। অস্বস্তি বোধ করলে বিশ্রাম নিন এবং পা কিছুটা উঁচুতে তুলে রাখুন। হঠাৎ কোনও কারণ ছাড়াই বা দীর্ঘস্থায়ীভাবে পা ফুলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৬. জুতো পরার আগে তা ভালো করে দেখে নিন

জুতোর ভিতরে কোনও ছোট পাথর, অসমান ইনসোল (ভেতরের তলদেশ), ছেঁড়া আস্তরণ বা অন্য কোনো বস্তু আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখুন। কারণ, এগুলোর কারণে অজান্তেই পায়ে আঘাত লাগতে পারে।

৭. লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় মাঝে মাঝে বিরতি নিন

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ে চাপ পড়তে পারে। তাই সুযোগ পেলেই বসে পড়ুন এবং অস্বস্তি ও ধকল কমাতে আলতোভাবে পা ও গোড়ালি নাড়াচাড়া করুন।

৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত যত্ন ও সতর্কতা বজায় রাখুন

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

উৎসবের আমেজ বা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার কারণে, যেন আপনার দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত না হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, সময়মতো ওষুধ খান এবং পর্যাপ্ত জলপান করুন। নিয়মিত খাবার খান এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করুন।

৯. কেবল ব্যথার দিকে নয়, সতর্কতামূলক লক্ষণের দিকেও খেয়াল রাখুন

ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতির কারণে, ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। কোনও অস্বস্তি বা ব্যথা না থাকলেও পায়ের কোনও অংশ লাল হয়ে যাওয়া, গরম অনুভূত হওয়া, অসাড়তা, অস্বাভাবিক ফোলাভাব বা ত্বকের কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করলে সতর্ক হোন।

১০. পায়ের ছোটখাটো আঘাতের ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নিন

ছোট কোনও ফোসকা, কেটে যাওয়া বা চামড়া ফেটে যাওয়ার বিষয়টিকে কখনোই অবহেলা করবেন না। কোনও ক্ষত, লালচে ভাব বেড়ে যাওয়া, ফোলা, ক্ষতস্থান থেকে তরল নিঃসরণ বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ফোসকা ফাটানো বা নিজে নিজে ক্ষতস্থানের চিকিৎসা করা থেকে বিরত থাকুন।

এই প্রসঙ্গে পেডিটেক (Pediteq)-এর প্রতিষ্ঠাতা অনিরুদ্ধ চৌধুরী জানিয়েছেন, “দুর্গাপূজা হল সবার একত্রিত হয়ে আনন্দ করার সময়। যার মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও শামিল হয়ে থাকেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটাচলা বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে, পায়ে বেশ চাপ পড়তে পারে। তাই পায়ের যত্ন নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। সঠিক মাপের আরামদায়ক ও ডায়াবেটিস-বান্ধব জুতো নির্বাচন করা, মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া এবং পায়ে কোনও আঘাত বা ক্ষতের চিহ্ন আছে কি না তা পরীক্ষা করা—এইসব পদক্ষেপ আদতে জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। উৎসবের মরশুমে নতুন জুতো কেনার সময়, জুতোর সঠিক মাপ, কুশনিং (নরম গদিযুক্ত ভাব) এবং পায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্টের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিন। সঠিক জুতো এবং সামান্য বাড়তি সতর্কতার মাধ্যমে পায়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রেখেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব।"

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।