Food Tips: দই পাততে গেলেই জল কাটে? জমে না? মাটির ছাঁচ নেই বলে দোকান থেকে কিনছেন? এবার এসব ঝামেলা শেষ। হাতের কাছে থাকা কাচ, স্টিল বা প্লাস্টিকের বাটিতেই পাতুন মিষ্টির দোকানের মতো জমাট, মোলায়েম দই। লাগবে না ছাঁচ, লাগবে না পুরনো দইয়ের ‘বীজ’ও। 

Food Tips: পয়লা বৈশাখ হোক বা জামাইষষ্ঠী, পাতে দই না হলে বাঙালির মেনু জমে? কিন্তু বাড়িতে পাততে গেলেই বিপত্তি। কখনও জল কেটে যায়, কখনও টকে মুখ বেঁকে যায়। আর মাটির ছাঁচ? শহরের ফ্ল্যাটে সে কোথায় পাবেন?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

টেনশন নয়। এবার কাচের বাটি, হটপট, এমনকি স্টিলের টিফিন বক্সেও জমবে দোকানের মতো দই। রইল ছাঁচ ছাড়াই দই পাতার ৩টে ফুলপ্রুফ ট্রিক।

১. ট্রিক নম্বর ১: ‘আঙুল ডোবানো’ তাপই আসল

দই না জমার ৯০% কারণ দুধের তাপ। বেশি গরমে বীজ মরে যায়, ঠান্ডায় জমে না।

পারফেক্ট তাপ মাপবেন কীভাবে?

দুধ ফুটিয়ে নিন। তারপর ঠান্ডা করুন। কড়ে আঙুল দুধে ১০ সেকেন্ড ডুবিয়ে রাখুন। যদি সহ্য হয়, আরাম লাগে – মানে ৪০-৪৫°C। এটাই আইডিয়াল। থার্মোমিটার লাগবে না।

এই তাপে ১ লিটার দুধে ১ চা চামচ টক দই বা লেবুর রস মিশিয়ে দিন। ভালো করে ঘেঁটে ঢাকা দিয়ে রেখে দিন।

২. ট্রিক নম্বর ২: ‘কম্বল-চাপা’ দিয়ে ৬ ঘণ্টায় জমাট

মাটির ছাঁচ জল টানে, গরম ধরে রাখে। সেই কাজটাই করবে আপনার কম্বল বা শাল।

কী করবেন?

১. কাচ/সিরামিকের বাটি নিন। স্টিলও চলবে। প্লাস্টিক এড়ান।

২. গরম দুধ-দই মেশানো মিশ্রণ ঢালুন।

৩. বাটির মুখ টাইট ঢাকা বা ফয়েল দিয়ে আটকান।

৪. এবার একটা মোটা তোয়ালে বা কম্বলে মুড়ে রান্নাঘরের গরম জায়গায় রাখুন। মাইক্রোওয়েভ বা আটার ড্রামের পাশে রাখতে পারেন।

৫. ৬-৭ ঘণ্টা একদম নাড়াচাড়া নয়। গরমকালে ৫ ঘণ্টাতেই জমে যাবে।

কম্বল তাপ ধরে রাখে, মাটির ছাঁচের কাজ করে। দই জমে ক্রিমি, জল কাটে না।

৩. ট্রিক নম্বর ৩: বীজ দই নেই? কাঁচা লঙ্কা জিন্দাবাদ

বাড়িতে পুরনো দই নেই? পাড়া থেকে চাইতেও লজ্জা? নো প্রবলেম।

বীজের বদলি: কুসুম গরম ১ লিটার দুধে ২টো কাঁচা লঙ্কা বোঁটাসহ দিয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে কম্বল চাপা দিয়ে রাখুন ১০-১২ ঘণ্টা। লঙ্কার গায়ে থাকা ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দই জমিয়ে দেবে।

জমে গেলে লঙ্কা তুলে ফেলুন। এই দই থেকেই পরের বার বীজ নিন। একদম টক হবে না, স্মেলও না।

৪. বর্ষায় দই না জমলে কী করবেন? ২টো হ্যাক

ক্যাসারোল ট্রিক: হটপট বা ক্যাসারোল গরম জলে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তার মধ্যে দুধ-বীজ মিশ্রণ ঢেলে ঢাকা দিন। ৪ ঘণ্টায় জমে যাবে। ক্যাসারোল ইনসুলেটেড, তাপ ধরে রাখে।

আটা মাখার থালা: আটা মাখার স্টিলের বড় থালায় বাটি বসান। থালায় হালকা গরম জল দিন। উপর দিয়ে আরেকটা থালা চাপা দিন। ১ ঘণ্টা পর জল পাল্টান। ৫ ঘণ্টায় রেডি।

৫. পারফেক্ট দইয়ের জন্য ৪টি জিনিসকোরবেন না

১. নাড়বেন না: জমার সময় বাটি ধরলেই জল কাটবে।

২. ফুল ক্রিম দুধ: তরলা দুধে দই পাতলা হয়। আমূল গোল্ড বা গরুর দুধ নিন।

৩. বেশি বীজ না: ১ লিটারে ১ চামচই যথেষ্ট। বেশি দিলে টক, ছানা কেটে যাবে।

৪. ফ্রিজে গরম দই না: জমানোর পর ৩০ মিনিট বাইরে রেখে ঠান্ডা করে তবে ফ্রিজে ঢোকান। নইলে জল ছাড়বে।

শেষ কথা:

দই পাতা রকেট সায়েন্স নয়। দুধের তাপ আর তাপ ধরে রাখা – এই দুটোই আসল। ছাঁচ, দামি বীজ, মেশিন কিচ্ছু লাগবে না।

আজ রাতে পেতে দিন। কাল সকালে জলখাবারে লুচি-আলুর দমের সাথে খান বাড়ির জমানো দই। দোকান ফেল।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।