Health News: মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. অনুপমা ঘোষ বলছেন, মেঝে হলো ব্যাকটেরিয়ার হাইওয়ে। সব ওখানে থাকে। খাবার পড়া মাত্রই "Contact Transfer" হয়ে যায়। টাইলস মেঝে হলে ব্যাকটেরিয়া ট্রান্সফার ৯৭%, কার্পেট হলেও ৩৬%। ৫ সেকেন্ড তো দূর, ০.১ সেকেন্ডেই লাখ লাখ জীবাণু চলে আসে।

Health News: প্লেট থেকে বিস্কুট পড়ে গেল। তুমি তুলে ঝেড়ে খেয়ে নিলে। বন্ধু বললো "ছিঃ মেঝের জিনিস খেলি?" তুমি হাসলে "আরে ৫ সেকেন্ড হয়নি, কিছু হবে না"।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই "৫ সেকেন্ড রুল" একটা মিথ। বিজ্ঞানীরা টেস্ট করে দেখেছেন, খাবার মেঝে ছোঁয়ার সাথে সাথেই ব্যাকটেরিয়া লাফ দিয়ে উঠে আসে। সময় লাগে না।

কেন মেঝের খাবার ডেঞ্জারাস? ৩টে কারণ:

কারণ ১: মেঝে = ব্যাকটেরিয়ার রাজধানী

তুমি জুতো পরে সারাদিন রাস্তা ঘুরে বাড়ি আসো। রাস্তার ড্রেনের জল, পানের পিক, কুকুরের পটি, গাড়ির ধোঁয়া - সব তোমার জুতোর তলায়। তারপর সেই জুতো নিয়ে ঘরের মেঝেতে হাঁটো। মেঝেতে এখন সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া বসে আছে। তুমি চোখে দেখো না, তাই ভাবো মেঝে পরিষ্কার। কিন্তু টাইলস চকচক করলেও ওখানে কোটি কোটি জীবাণু ঘুমোচ্ছে।

কারণ ২: খাবারের ধরণ ম্যাটার করে না

অনেকে ভাবে "শুকনো বিস্কুটে ব্যাকটেরিয়া লাগবে না"। ভুল। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, শসা, রুটি, বিস্কুট, চকলেট - যা-ই পড়ুক, ব্যাকটেরিয়া ট্রান্সফার হয়। ভেজা, আঠালো খাবার যেমন দই, ভাত - এগুলোতে ট্রান্সফার ৯৭%। শুকনো বিস্কুটে ৪৮%। মানে অর্ধেক ব্যাকটেরিয়া তো যাবেই। আর ১ গ্রাম মাটিতে ১০ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া থাকে। হিসাব করে নাও।

কারণ ৩: ৫ সেকেন্ড না, ০ সেকেন্ড

রাটগার্স ইউনিভার্সিটির রিসার্চ বলছে, খাবার পড়ার "টাইম" ফ্যাক্টর না। ফ্যাক্টর হলো মেঝের ধরণ আর খাবারের ধরণ। টাইলস মেঝেতে তরমুজ পড়লে ০.৩ সেকেন্ডে পুরো ব্যাকটেরিয়া ট্রান্সফার। কার্পেটে পাস্তা পড়লেও ৩০% ট্রান্সফার হয়ে যায়। তাই "তাড়াতাড়ি তুলেছি" বলে শান্তি নেই।

তাহলে কার বেশি রিস্ক?

বাচ্চা, বয়স্ক মানুষ, প্রেগন্যান্ট মহিলা, ডায়াবেটিস বা ক্যানসার রোগী - যাদের ইমিউনিটি কম। ওদের পেটে ওই ব্যাকটেরিয়া গেলে সোজা হাসপাতাল। বমি, পেট ব্যথা, জ্বর, ডায়েরিয়া। বড়দের পেট শক্ত, তাই ওদের "হজম হয়ে যায়"। কিন্তু রিস্ক থেকেই যায়। ফুড পয়জনিং, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস A - সব মেঝের ময়লা থেকেই আসতে পারে।

এবার কী করবে? ৩টে সোজা নিয়ম:

১. পড়ে গেছে মানে ওটা ডাস্টবিনের। মায়া করো না। ৫ টাকার বিস্কুটের জন্য ৫০০ টাকার ডাক্তার ডেকো না।

২. বাচ্চাকে কড়া করে বোঝাও। "মেঝের খাবার ভূতের খাবার" - গল্প বানিয়ে বলো। ওরা যেন না খায়।

৩. মেঝে রোজ ফিনাইল দিয়ে মোছো। বিশেষ করে রান্নাঘর আর ডাইনিং। জীবাণু কমলে রিস্কও কম।

শেষ কথা:

আমাদের ছোটবেলায় ঠাকুমা বলতো "অন্ন নষ্ট করতে নেই"। কথাটা ঠিক। কিন্তু অন্নের সম্মান মানে ময়লা অন্ন খাওয়া না। অন্নের সম্মান মানে অপচয় না করা। প্লেটে যতটা খাবে ততটাই নাও। পড়ে গেলে ওটা আর "অন্ন" থাকে না, "ময়লা" হয়ে যায়।

তাই পরের বার খাবার পড়লে ১ সেকেন্ড ভেবো না। সোজা ডাস্টবিনে ফেলো। পেটটা নিজের। রিস্কও নিজের।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।