ডাল ছাড়া বাঙালির মধ্যাহ্নভোজ অসম্পূর্ণ। কিন্তু কুকারে ডাল বসালেই ফেনা উপচে গ্যাস, স্ল্যাব নোংরা হয়ে যায়, এটা প্রায় সব বাড়ির সমস্যা। আসলে ডালে থাকা প্রোটিন ও স্যাপোনিনই ফেনার কারণ। কিন্তু একটি ছোট্ট টোটকা জানলেই এই ঝামেলা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন, হেঁশেলও থাকবে ঝকঝকে।
প্রতিদিন ডাল সেদ্ধ করতে গিয়ে কুকারের সিটি দিয়ে ফেনা বেরিয়ে পুরো গ্যাস ওভেন ভরে যায়? তারপর সেই শুকিয়ে যাওয়া ডালের দাগ তুলতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা? আপনি একা নন, ৯০% মানুষের এই একই সমস্যা হয়।
কেন হয় এই ফেনা?
মুসুর, মুগ, অড়হর - সব ডালেই প্রচুর প্রোটিন ও স্টার্চ থাকে। আর থাকে স্যাপোনিন নামক একটি প্রাকৃতিক উপাদান। গরম জলে ফুটতে শুরু করলে এই প্রোটিন ও স্যাপোনিন মিলে বাতাসকে আটকে ফেলে, আর তাতেই তৈরি হয় সাদা ফেনা। কুকারের ভেতর প্রেশার বাড়লে সেই ফেনাই উপচে বাইরে বেরিয়ে আসে।
মুশকিল আসানের ৪টি সহজ টোটকা:
১. ১ চামচ তেল বা ঘি - সবচেয়ে কার্যকর
এটাই হলো ম্যাজিক টোটকা। কুকারে ডাল, জল ও নুন দেওয়ার পর ১ চা চামচ সরষের তেল, সাদা তেল বা ঘি দিয়ে দিন। তেল জলের উপর একটি পাতলা আস্তরণ তৈরি করে, ফলে ফেনা তৈরি হলেও তা ভেঙে যায় এবং উপচে পড়ে না। ডালের স্বাদও বাড়ে।
২. জলের পরিমাণ ঠিক রাখুন
অনেকেই কুকার ভর্তি করে জল দিয়ে দেন। এটা করবেন না। কুকারের ১/২ ভাগের বেশি কখনও ভরবেন না। ডালের দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ জলই যথেষ্ট। জায়গা থাকলে ফেনা ভেতরেই থাকবে, বাইরে বেরোবে না।
৩. ডাল ভালো করে ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন
ডাল রান্নার আগে ৩-৪ বার ভালো করে ধুয়ে নিন। এতে অতিরিক্ত স্টার্চ ও ময়লা বেরিয়ে যায়, ফলে ফেনা কম হয়। সম্ভব হলে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে তারপর কুকারে দিন।
৪. প্রথমে ঢাকনা খোলা রাখুন
ডালে প্রথম বলক আসা পর্যন্ত কুকারের ঢাকনা খোলা রাখুন। উপরে যে সাদা ফেনা জমবে, সেটা চামচ দিয়ে তুলে ফেলে দিন। তারপর ঢাকনা বন্ধ করে সিটি দিন। এতে ৯০% ফেনার সমস্যাই মিটে যাবে।
এই ছোট্ট টিপসগুলো মেনে চললে আর কখনও ডালের ফেনায় আপনার গ্যাস নোংরা হবে না, আর পরিষ্কার করতেও সময় নষ্ট হবে না।






