তিরিশ বছর বয়সের পর পুরুষদের মধ্যে ইউরোলজি এবং অ্যান্ড্রোলজি সংক্রান্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রোস্টেট পরীক্ষা, ইউরিন অ্যানালিসিস, কিডনি ফাংশন টেস্ট,-র মতো স্ক্রিনিং গুরুতর রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

ছেলে হোক বা মেয়ে, প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করতে আমরা অনেকেই লজ্জা পাই। বিশেষ করে পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোলজি (মূত্রনালী সংক্রান্ত) এবং অ্যান্ড্রোলজি (পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্য) সংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই রোগগুলো অনেক দিন পর্যন্ত চুপচাপ শরীরে বাসা বাঁধে, কিন্তু পরে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই শুরুতেই রোগ ধরতে, সাবধান হতে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনও বিকল্প নেই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রোস্টেট পরীক্ষা (পিএসএ ব্লাড টেস্ট, ডিজিটাল রেক্টাল একজাম) করা হয় প্রোস্টেটের সমস্যা, যেমন ক্যানসার বা বিনাইন এনলার্জমেন্ট (সাধারণ বৃদ্ধি), শুরুতেই ধরে ফেলার জন্য। এছাড়া, পরিবারে কারও এই রোগ থাকলে বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)-এর মতো উপসর্গ দেখা দিলে, স্ক্রিনিং রোগ নির্ণয়ে ও তার মোকাবিলায় সাহায্য করে। তবে কোনও উপসর্গ না থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এবং পরিস্থিতি বিচার করে এই পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউরিন অ্যানালিসিস এবং কালচার টেস্টের মাধ্যমে ইনফেকশন, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত (হেমাচুরিয়া) এবং মেটাবলিক সমস্যা ধরা পড়ে। যাদের প্রস্রাব করতে অসুবিধা হয় বা কোনও ইনফেকশনের লক্ষণ থাকে, তাদের এই পরীক্ষাগুলো করতে বলা হয়। একইভাবে, রেনাল ফাংশন টেস্ট এবং আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, পাথর বা কিডনির গঠনগত সমস্যা খুঁজে বের করা যায়। বিশেষ করে হাইপারটেনশন বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের জন্য এই পরীক্ষাগুলো জরুরি।

অ্যান্ড্রোলজি বা পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে সিমেন অ্যানালিসিস, হরমোন টেস্ট এবং স্ক্রোটাল আলট্রাসাউন্ডের মতো পরীক্ষাগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। যারা বাবা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা যাদের ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্বের আশঙ্কা রয়েছে, তাদের জন্য সিমেন অ্যানালিসিস করা হয়। এর মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি এবং আকৃতি পরীক্ষা করে ফার্টিলিটি যাচাই করা হয়।

পুরুষদের জন্য হরমোন প্যানেল (টেস্টোস্টেরন, এফএসএইচ, এলএইচ, প্রোল্যাক্টিন) পরীক্ষা করে অ্যান্ড্রোজেন ডেফিসিয়েন্সি এবং এন্ডোক্রাইন ডিসঅর্ডার শনাক্ত করা হয়। এই সমস্যাগুলো শরীরের শক্তি, যৌন ইচ্ছা এবং প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, অণ্ডকোষে ব্যথা, ফোলাভাব বা কোনও পিণ্ড দেখা দিলে স্ক্রোটাল আলট্রাসাউন্ড করে ভ্যারিকোসেল বা টিউমারের মতো সমস্যা আছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়।

এই নির্দিষ্ট পরীক্ষাগুলো, সঠিক জীবনযাত্রার পরামর্শ এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সঙ্গে মিলে পুরুষদের ইউরোলজিক্যাল এবং যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা শুরুতেই ধরতে ও তার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে সাহায্য করে।

- প্রবন্ধটি লিখেছেন ডঃ রবি শঙ্কর জে সি, কনসালট্যান্ট - ইউরোলজি (অ্যাডভান্সড এন্ডোইউরোলজি, অ্যান্ড্রোলজি, রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট, রোবোটিক ইউরোলজি), মণিপাল হসপিটাল, কনকপুরা রোড।