Healthcare: অনেকেই খেয়াল করেছেন, সকালে মাপলে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, রাতে মাপলে ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। শরীর কি সত্যিই ২৪ ঘণ্টায় ছোট হয়ে যায়? না, হাড় ছোট হয় না। আসল খেলা করে আমাদের মেরুদণ্ডের মাঝের 'ডিস্ক' গুলো। সারাদিন দাঁড়িয়ে-বসে থাকার চাপে ডিস্ক চেপে যায়, ঘুমের সময় আবার ফুলে ওঠে। তাই সকালে লম্বা, সন্ধ্যায় বেঁটে, এটা একদম স্বাভাবিক।

Health: স্কুলে সকালে লাইনে দাঁড়াতেন, উচ্চতা এক রকম। আর রাতে বাড়ি ফিরে মাপলে দেখতেন ১-২ সেমি কম। ভয় পেয়ে ভাবতেন, 'আমি কি বেঁটে হয়ে যাচ্ছি?' মা-বাবা বলতেন, 'বয়স বাড়ছে তো।' আসল কারণটা কিন্তু বয়স না, মাধ্যাকর্ষণ। চলুন, দু মিনিটে বিজ্ঞানটা বুঝে নিই, তারপর আর টেনশন হবে না। সকালে লম্বা, সন্ধ্যায় বেঁটে - কারণটা মেরুদণ্ড: আমাদের মেরুদণ্ড ৩৩টা হাড় দিয়ে তৈরি। প্রতিটা হাড়ের মাঝে আছে নরম 'ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক।' এই ডিস্ক জেলির মতো, ৮০% জল দিয়ে তৈরি। স্পঞ্জের মতো কাজ করে - চাপ পড়লে চেপে যায়, চাপ না থাকলে ফুলে ওঠে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সারাদিন কী হয়?

আপনি যখন দাঁড়ান, বসেন, হাঁটেন - মাধ্যাকর্ষণের টানে শরীরের ওজন মেরুদণ্ডের ওপর চাপ দেয়। এই চাপে ডিস্ক থেকে জল বেরিয়ে যায়, ডিস্ক চ্যাপ্টা হয়ে যায়। ফলে সন্ধ্যার মধ্যে ১-২ সেমি উচ্চতা কমে যায়। এটা 'ডিস্ক কমপ্রেশন' বলে।

রাতে কী হয়?

শুয়ে ঘুমালে মেরুদণ্ডের ওপর থেকে চাপ সরে যায়। তখন ডিস্ক আবার জল টেনে ফুলে ওঠে আগের মতো। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনি সবচেয়ে লম্বা থাকেন। দিনের সবচেয়ে লম্বা সময়টা হলো ঘুম থেকে ওঠার পর ৩০ মিনিট।

কতটা উচ্চতা কম-বাড়ে? 

স্বাভাবিক পার্থক্য: ১-২ সেমি, মানে ০.৫-১ ইঞ্চি। এটা সবারই হয়। কার বেশি হয়: যারা সারাদিন দাঁড়িয়ে কাজ করেন, ভারী জিনিস তোলেন, বা লম্বা ড্রাইভ করেন, তাঁদের ২-৩ সেমি পর্যন্ত কমতে পারে। বয়সের প্রভাব: ৪০-৫০ বছর বয়সের পর ডিস্কে জল কম থাকে। তাই বয়স্ক মানুষ সকালে-রাতে ৩-৪ সেমি পার্থক্য পান। এটাই 'বয়সের সঙ্গে উচ্চতা কমা।'

উচ্চতা ধরে রাখতে তিনটি অভ্যাস

সোজা হয়ে বসুন-দাঁড়ান: ঝুঁকে বসলে ডিস্কের একপাশে বেশি চাপ পড়ে। চেয়ারে পিঠ সোজা রাখুন। ঘুম আর এক্সারসাইজ: ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম ডিস্ক রিকভারির জন্য মাস্ট। ঝুলে থাকা, যোগাসন, সাঁতার - এগুলো মেরুদণ্ড ডিকমপ্রেস করে। ভারী জিনিস তোলা: হঠাৎ ভারী জিনিস তুলবেন না। হাঁটু ভেঙে তুলুন, কোমর বাঁকাবেন না। না হলে ডিস্ক স্লিপ করতে পারে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

শুধু ১-২ সেমি কমা স্বাভাবিক। কিন্তু সঙ্গে যদি কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা, পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব থাকে, তাহলে ডিস্ক স্লিপ বা অন্য সমস্যা হতে পারে। তখন অর্থোপেডিক ডাক্তার দেখান। আর ১ বছরে ৫ সেমির বেশি উচ্চতা কমলে হাড়ের ঘনত্ব টেস্ট করান।

শেষ কথা তাই ভয় পাবেন না। আপনি রাতে বেঁটে হয়ে যাচ্ছেন না। এটা শরীরের নরমাল মেকানিজম। সকালে লম্বা দেখে খুশি হন, রাতে বেঁটে দেখে দুঃখ পাবেন না। মেরুদণ্ড সুস্থ রাখুন, উচ্চতা আপনা-আপনি ঠিক থাকবে।

নোট: উচ্চতা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করবেন না। জেনেটিক্স, পুষ্টি, ঘুম আর এক্সারসাইজ - এই চারটেই উচ্চতা নির্ধারণ করে। কোনও সাপ্লিমেন্ট বা 'হাইট বাড়ানোর যন্ত্র' ১৮ বছর বয়সের পর কাজ করে না। হাড় বা শরীর নিয়ে সমস্যা মনে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।