যে সব দম্পতি ২৫ বছর একসঙ্গে বসবাস করেছেন, তারা শারীরিকভাবে একে অপরের মতো দেখতে হতে শুরু করেন। গবেষকদের মতে, তারা একই পরিবেশে থাকেন, একই ধরনের কাজকর্মে অংশ নেন, একই খাবার খান এবং একে অপরের আবেগপ্রকাশ অনুকরণ করেন।

বহুদিন একসঙ্গে থাকার পর স্বামী-স্ত্রীর চেহারা একই রকম বা ভাই-বোনের মতো হয়ে যায়—এই ধারণাটি মনোবিজ্ঞান এবং সমাজ বিজ্ঞানে দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত। গবেষণায় উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, এর কারণ শুধুমাত্র আবেগের আদান-প্রদান নয়, বরং জীবনযাত্রার ধরন, পরিবেশ এবং মানুষের নিজস্ব চেহারার মিল খোঁজার প্রবণতা।

*গবেষণা ও কারণের বিস্তারিত আলোচনা*:

• জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস (Shared Environment): দম্পতিরা দীর্ঘ বছর ধরে একই ধরনের খাবার খান, একই পরিবেশে বসবাস করেন এবং প্রায় একই ধরনের জীবনযাত্রার চর্চা করেন। এর ফলে তাদের শরীরের গঠন, ত্বকের মান এবং স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্যে মিল চলে আসে, যা চেহারা অনেকটা একরকম করে তোলে।

• আবেগ এবং মুখের ভঙ্গি (Emotional Mimicry): দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকার ফলে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের আবেগের অনুকরণ করেন।

১৯৮৭ সালের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়, একই আবেগ ভাগ করে নেওয়ার ফলে হাসি বা দুঃখের সময় তাদের মুখের পেশি একই রকমভাবে কাজ করে, যা সময়ের সাথে সাথে বলিরেখার ধরনেও সাদৃশ্য নিয়ে আসে।

• প্রাথমিক মিল (Homogamy): কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষ অজান্তেই নিজের মতো দেখতে সঙ্গী বেছে নেয়। তাই বিয়ের সময় থেকেই কিছুটা মিল থাকে এবং পরে তা আরও বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয়।

• আধুনিক গবেষণার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: যদিও প্রচলিত ধারণা বলে যে সময় বাড়ার সাথে সাথে মিল বাড়ে, কিন্তু নতুন কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর মুখ শুরুতে যেমন মিল থাকে, সময়ের সাথে সাথে তা আর নতুন করে বিশেষ বৃদ্ধি পায় না। অর্থাৎ, তারা একই রকম দেখতে হতে শুরু করে, কিন্তু হুবহু এক হয়ে যায় না, বরং শুরুতে থাকা মিলটিই থেকে যায়।

সারসংক্ষেপে বলা যায় যে , স্বামী-স্ত্রীর চেহারা একই রকম মনে হওয়ার পেছনে মূলত একই পরিবেশ, অভিন্ন খাদ্যাভ্যাস এবং একে অপরের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও আবেগপ্রবণ অনুকরণ কাজ করে।