Food Tips: গরমকাল মানেই লোডশেডিং। দুপুরে অফিস থেকে ফিরে দেখলেন কারেন্ট নেই ৬ ঘণ্টা। ফ্রিজ খুলে দেখলেন সব ঠান্ডা, বরফও জমে আছে। নিশ্চিন্তে মাংসটা রান্না করে ফেললেন। কিন্তু জানেন কি, মাঝে কারেন্ট এসে ৪ ঘণ্টায় সব গলে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দিয়েছিল, আবার কারেন্ট আসতে সেগুলোই জমে বরফ হয়ে গেছে? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।। 

Food Tips: কালবৈশাখীর পর বা গরমে ট্রান্সফরমার পুড়ে গিয়ে ৮-১০ ঘণ্টা কারেন্ট নেই, কলকাতা-শহরতলিতে এটা নতুন কিছু নয়। কারেন্ট এলে আমরা ফ্রিজ খুলে দেখি, আরে বরফ তো জমে আছে, মাংস-মাছও শক্ত। যাক বাবা, বেঁচে গেল! এই ভেবেই আমরা রান্না করে ফেলি। এখানেই আমরা সবচেয়ে বড় ভুলটা করি। USDA বা মার্কিন কৃষি দফতর বলছে, ফ্রিজের দরজা না খুললে খাবার ৪ ঘণ্টা আর ডিপ ফ্রিজে ২৪-৪৮ ঘণ্টা ভালো থাকে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ফ্রিজের খাবার কতদিনের বেশি রেখে খাওয়া উচিত নয়?

কিন্তু লোডশেডিং যদি তার বেশি হয়, তাহলে ভিতরের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে গেলেই ব্যাকটেরিয়া দ্বিগুণ গতিতে বাড়তে শুরু করে। সালমোনেলা, ই-কোলাইয়ের মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। পরে কারেন্ট এসে সেগুলো আবার জমে গেলেও ব্যাকটেরিয়া মরে না, বরফের মধ্যেই ঘুমিয়ে থাকে। খাবার গরম করলেই তারা আবার জেগে উঠে আপনার পেটে গিয়ে তাণ্ডব চালায়।

তাহলে বোঝার উপায়? উপায় খুব সহজ, নাম ‘কয়েন ট্রিক’ বা ‘ওয়ান কাপ টিপ’। একটা প্লাস্টিকের বা কাচের কাপে জল ভরে ডিপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন। জলটা পুরো বরফ হয়ে গেলে, তার উপর একটা ১ টাকার কয়েন রেখে দিন। ব্যস, আপনার ‘ফুড সেফটি অ্যালার্ম’ তৈরি। এবার লোডশেডিং হোক বা আপনি ৫ দিনের জন্য বাইরে যান, নিশ্চিন্ত থাকুন।

ফিরে এসে প্রথমেই ফ্রিজার খুলে ওই কাপটা দেখুন। যদি দেখেন কয়েনটা বরফের উপরেই আছে, তার মানে নিশ্চিন্ত। কারেন্ট গেলেও আপনার ফ্রিজারের তাপমাত্রা এতটাও বাড়েনি যে বরফ গলে যায়। খাবার ১০০% সেফ। যদি দেখেন কয়েনটা বরফের মাঝামাঝি ডুবে আছে, তার মানে কিছুক্ষণ কারেন্ট ছিল না, উপরের বরফটা গলে কয়েনটা একটু ডুবেছে, আবার কারেন্ট এসে জমে গেছে। এই অবস্থায় আইসক্রিম, দুধের তৈরি খাবার ফেলে দিন। কিন্তু ভালো করে সেদ্ধ করা মাংস বা সবজি যদি দেখে-শুঁকে ঠিক লাগে, তবে বেশি তাপে ভালো করে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। তবে রিস্ক থেকেই যায়।

আর যদি দেখেন কয়েনটা একদম তলায় চলে গেছে, তাহলে সাবধান। এর মানে অনেকক্ষণ কারেন্ট ছিল না। পুরো জল গলে গিয়ে কয়েন তলায় পড়েছে, তারপর আবার জমেছে। এই অবস্থায় ডিপ ফ্রিজের সব মাংস, মাছ, দুধ, ডিম, রান্না করা খাবার সোজা ডাস্টবিনে ফেলুন। মায়া করবেন না। ফল বা সবজি যদি বরফের মতো শক্ত থাকে আর গন্ধ না থাকে, তাহলে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু কাঁচা মাছ-মাংস বা ডেইরি প্রোডাক্ট নিয়ে কোনো রিস্ক নেবেন না। FDA-এর নিয়ম, “When in doubt, throw it out” - সন্দেহ হলে ফেলে দিন।

এই টোটকার পিছনের বিজ্ঞানটা সহজ। জল ০ ডিগ্রিতে বরফ হয়। ফ্রিজারের তাপমাত্রা ০-এর নিচে থাকে। লোডশেডিংয়ে তাপমাত্রা ০-এর উপরে উঠলেই বরফ গলবে আর কয়েনটা ডুববে। কয়েন কতটা ডুবেছে, সেটা দেখেই বুঝবেন কতক্ষণ আর কতটা গলেছিল। ১ টাকার কয়েন হালকা, তাই অল্প গললেও নড়ে যাবে।

আরও কয়েকটা টিপস মাথায় রাখুন। লোডশেডিং-এর পূর্বাভাস থাকলে ফ্রিজের তাপমাত্রা একদম কমিয়ে দিন। ডিপ ফ্রিজে জলের বোতল ভরে বরফ করে রাখুন। কারেন্ট গেলে এই বরফগুলো ফ্রিজকে ঠান্ডা রাখবে। ফ্রিজ যত ঠাসা থাকবে, তত বেশি সময় ঠান্ডা থাকবে। আর কারেন্ট না থাকলে বারবার ফ্রিজ খুলবেন না।

গরমে লোডশেডিং আটকাতে পারবেন না, কিন্তু ১ টাকার কয়েন দিয়ে লাখ টাকার হাসপাতালের বিল আটকাতে পারবেন। আজই ফ্রিজে এক কাপ জল ঢুকিয়ে রাখুন। ছোট্ট একটা ট্রিক, কিন্তু আপনার পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য কেল্লাফতে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।