জিমে না গিয়েও ওজন কমানোর একটি দারুণ বিকল্প হতে পারে সাঁতার। টানা ৩০ দিন সাঁতার কাটলে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে, যেমন ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ওজন হ্রাস, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং মানসিক চাপ মুক্তি।
“রোগা হতে হবে, জিমে ভর্তি হই” - এই রেজোলিউশন প্রতি সোমবার নেন অনেকে। মাসের শেষে জিমের টাকা জলে যায়, আর ওজন যা ছিল তাই থাকে। কারণ ট্রেডমিলে দৌড়ানো বা ভারী ওয়েট তোলা সবার শরীরে সয় না। জয়েন্টে ব্যথা, ইনজুরির ভয় আর বোরিং রুটিন ছেড়ে দেওয়ার মূল কারণ। এর বিকল্প হতে পারে সাঁতার। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা বলছে, ১ ঘণ্টা সাঁতারে ৫০০-৭০০ ক্যালোরি বার্ন হয়, যা জোরে দৌড়ানোর সমান। কিন্তু পার্থক্য হল, জলে আপনার শরীরের ওজনের ৯০% ভেসে থাকে। তাই হাঁটু, কোমর বা গোড়ালিতে কোনো চাপ পড়ে না। টানা ৩০ দিন সাঁতার কাটলে ঠিক কী কী বদল আসে শরীরে?

প্রথম সপ্তাহেই টের পাবেন ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ছে। জলে নামলেই শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। লম্বা শ্বাস নিয়ে জলে মুখ ডুবিয়ে আস্তে আস্তে ছাড়া, এই প্র্যাকটিসে লাং ক্যাপাসিটি বাড়ে। যাদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সাঁতার শুরু করলে দারুণ উপকার পান। ৭ দিন পরেই দেখবেন সিঁড়ি ভাঙলে আগের মতো হাঁফ ধরছে না।
দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ওজন কমার খেলা শুরু। সাঁতার হল ফুল বডি ওয়ার্কআউট। হাত নাড়ছেন, পা চালাচ্ছেন, পেট টাইট রাখছেন, পিঠ সোজা রাখছেন। শরীরের প্রতিটা মাংসপেশি কাজ করে। ফ্রিস্টাইল, ব্রেস্টস্ট্রোক বা ব্যাকস্ট্রোক, যেটাই করুন না কেন, কোর মাসল মজবুত হবেই। ১৫ দিন পর কোমরের মাপ টেপ দিয়ে দেখুন, ১-২ ইঞ্চি কমবেই। কারণ সাঁতারে শুধু ক্যালোরি বার্ন হয় না, মেটাবলিজম রেটও বাড়ে। মানে আপনি যখন ঘুমাচ্ছেন, তখনও শরীর ফ্যাট পোড়াচ্ছে।
তৃতীয় সপ্তাহে হার্ট আপনাকে থ্যাঙ্ক ইউ বলবে। সাঁতার হল দুর্দান্ত কার্ডিও এক্সারসাইজ। নিয়মিত সাঁতার কাটলে রক্তচাপ কমে, খারাপ কোলেস্টেরল LDL কমে আর ভালো কোলেস্টেরল HDL বাড়ে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, সপ্তাহে ৫ দিন সাঁতার কাটলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ৪০% কমে যায়। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের সুগার লেভেলও কন্ট্রোলে থাকে।
৩০ দিন পর সবচেয়ে বড় বদলটা আসবে মনে। জলে নামলে একটা অদ্ভুত শান্তি কাজ করে। শরীরের সব স্ট্রেস, টেনশন যেন জলে ধুয়ে যায়। একে বলে ‘ব্লু মাইন্ড এফেক্ট’। জলের ছন্দে শরীর চালনা করলে ব্রেনে এন্ডোরফিন আর সেরোটোনিন হরমোন রিলিজ হয়, যাকে বলে হ্যাপি হরমোন। তাই ১ মাস সাঁতার কাটার পর ঘুম ভালো হবে, অ্যাংজাইটি কমবে, আর সারাদিন মন ফুরফুরে থাকবে। ইনসমনিয়ার পেশেন্টদের অনেক ডাক্তার এখন সাঁতার সাজেস্ট করেন।
অনেকে ভাবেন সাঁতার শিখিনি, এখন কীভাবে? বয়স ৩০-৪০ পেরিয়ে গেলে কি শেখা যায়? উত্তর হল, অবশ্যই যায়। কলকাতার প্রায় সব পুলেই অ্যাডাল্ট সাঁতার শেখার ব্যাচ আছে। প্রথমে শুধু জলে হাঁটুন, ফ্লোট করতে শিখুন। ৭ দিনে বেসিক স্ট্রোক এসে যাবে। সাঁতার না জানলেও ওয়াটার এরোবিক্স বা অ্যাকোয়া জগিং করতে পারেন। তাতেও একই উপকার। স্ট্রেস উধাও হবে। জিমের চেয়ে খরচও কম, আর সাইড এফেক্ট শূন্য।


