- Home
- Lifestyle
- Lifestyle Tips
- H1N1: ইনফ্লুয়েঞ্জায়ে ভুলেও অ্যান্টিবায়োটিক নয়! কী কী ক্ষতি হতে পারে জানালেন চিকিৎসকরা
H1N1: ইনফ্লুয়েঞ্জায়ে ভুলেও অ্যান্টিবায়োটিক নয়! কী কী ক্ষতি হতে পারে জানালেন চিকিৎসকরা
H1N1 & Antibiotics: H1N1 সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কি সত্যিই কাজ করে? চিকিৎসকদের মতে এটি ভুল ধারণা, কারণ H1N1 ভাইরাসঘটিত। জানুন কেন অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বিপজ্জনক, কখন প্রয়োজন হয়।

H1N1-এ অ্য়ান্টিবায়োটিকের কুফল
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (H1N1)-এর সংক্রমণ ক্রমশ বাড়তে থাকায় জ্বর, কাশি, গা-হাত-পায়ে ব্যথা কিংবা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই বহু মানুষ পুরনো অভ্যাসমতো অ্যান্টিবায়োটিকের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। H1N1 আদতে একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ, অথচ অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয় নির্দিষ্টভাবে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের জন্য। ফলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই ওষুধের কোনও কার্যকারিতাই নেই।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ব্যাকটেরিয়াজনিত সহ-সংক্রমণের আশঙ্কা কম থাকলে মৃদু ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়।
H1N1 নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ
শারডাকেয়ার-হেলথসিটির ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট বলেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে H1N1 থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায় না, জ্বর-কাশি-শরীরে ব্যথার সময়কালও কমে না। উল্টে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে অস্বস্তি, মাথা ঘোরা এমনকি অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-ও সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানিয়েছে, মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার আসলে ওষুধের অপব্যবহার, যা ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির পথ প্রশস্ত করে।
H1N1-এ অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতি
বেঙ্গালুরুর অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যও নষ্ট করে দিতে পারে। WHO-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া প্রতি ছয়টি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের মধ্যে প্রায় একটি ছিল অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী— যা আগামী দিনে চিকিৎসার বিকল্প কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
কখন খাবেন অ্য়ান্টিবায়োটিক?
তবে এর অর্থ এই নয় যে H1N1 আক্রান্তদের কখনওই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ার মতো সেকেন্ডারি সংক্রমণ দেখা দিতে পারে, আর তখনই চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেন— তবে তা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের চিকিৎসায় নয়, বরং সহ-সংক্রমিত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেই। সাধারণ ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জলপান এবং উপসর্গ অনুযায়ী পরিচর্যাই যথেষ্ট বলে জানাচ্ছে WHO। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও দেওয়া হতে পারে, বিশেষত যাঁদের জটিলতার ঝুঁকি বেশি।
চিকিৎসকের পরামর্শ
চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপসর্গ গুরুতর হলে, দ্রুত অবনতি ঘটলে বা প্রাথমিক উন্নতির পর ফের খারাপ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি— বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা অস্বাভাবিক তন্দ্রাভাব দেখা দিলে। সহজ বার্তা, অ্যান্টিবায়োটিক H1N1-কে মারতে পারে না, বরং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এমন সমস্যা তৈরি করতে পারে যা ফ্লু সেরে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের একটাই পরামর্শ— নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

