গবেষণা বলছে, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে পাঁচ কাপ পর্যন্ত ব্ল্যাক কফি পান করা একদম নিরাপদ। শুধু তাই নয়, এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। পরিমিত পরিমাণে কফি খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে।

কফি ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। অনেকেই হয়তো দিনে একাধিকবার কফি খান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এতবার কফি খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? গবেষণা বলছে, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে পাঁচ কাপ পর্যন্ত ব্ল্যাক কফি পান করা একদম নিরাপদ। শুধু তাই নয়, এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। পরিমিত পরিমাণে কফি খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে। একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফিন শরীরে নিতে পারেন, যা সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

হার্টের জন্য কতটা উপকারী?

গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন দুই থেকে চার কাপ কফি পান করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। তবে এর চেয়ে বেশি, অর্থাৎ চার কাপের বেশি কফি খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়েও যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য

চিনি ও দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এর কারণ শুধু কফিতে থাকা ক্যাফিন নয়, এর মধ্যে থাকা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফিতে চিনি, সিরাপ বা দুধ মেশালে এর স্বাস্থ্যকর গুণ অনেকটাই কমে যায়।

সব ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এক নয়

এনার্জি ড্রিঙ্কগুলিতে থাকা অতিরিক্ত ক্যাফিন রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং হৃৎস্পন্দনের গতিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এনার্জি ড্রিঙ্ক খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা উচিত।

ক্যাফিনের প্রভাব একেকজনের শরীরে একেক রকম হয়। বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, হজম ক্ষমতা এবং কোনো ওষুধ খাচ্ছেন কিনা, তার ওপর নির্ভর করে ক্যাফিন শরীরে কীভাবে কাজ করবে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, ক্যাফিন সাময়িকভাবে রক্তচাপ, হার্ট রেট এবং ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার এমন অনেকেই আছেন, যাদের সামান্য ক্যাফিনেই বুক ধড়ফড়, দুশ্চিন্তা বা ঘুমের সমস্যা হয়। তাই আপনার শরীর কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, সেটা বুঝে কফির পরিমাণ ঠিক করাই বুদ্ধিমানের কাজ।