Health News: হার্টে প্রাইমারি ক্যানসার মানে হার্ট থেকেই শুরু হওয়া টিউমার খুবই বিরল। ১০ লাখে ১-২ জনের হয়। ৭৫% ক্ষেত্রে টিউমার ‘বিনাইন’ মানে নন-ক্যানসারাস, যেমন মাইক্সোমা। কিন্তু ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারাস হলে বেশিরভাগ ‘সারকোমা’ হয়। বেশি হয় মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসার, মানে ফুসফুস, ব্রেস্ট, কিডনি থেকে ক্যানসার হার্টে ছড়ায়।
Health News: ক্যানসার ফুসফুসে হয়, লিভারে হয়। কিন্তু হার্টে? হ্যাঁ, ১০ লাখে ১ জনের হয়। লক্ষণগুলো এত কমন যে আমরা গ্যাস ভেবে উড়িয়ে দিই।

হার্ট ক্যানসার কতটা রেয়ার? টাইপ কী
১. প্রাইমারি বনাম সেকেন্ডারি: হার্ট থেকে শুরু হওয়া ক্যানসার = প্রাইমারি। এটা ১০,০০০ হার্ট টিউমারে ১টা। বাকি ৯৯% সেকেন্ডারি, মানে অন্য অঙ্গের ক্যানসার হার্টে ছড়িয়েছে।
২. বিনাইন টিউমার ৭৫%: সবচেয়ে কমন ‘মাইক্সোমা’। সাধারণত লেফট অ্যাট্রিয়ামে হয়। ক্যানসার না, কিন্তু সাইজে বড় হয়ে রক্ত চলাচল আটকে দিতে পারে। স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ২৫%: এর ৯৫%-ই ‘সারকোমা’। যেমন অ্যাঞ্জিওসারকোমা, র্যাবডোমায়ো সারকোমা। খুব আগ্রেসিভ, দ্রুত ছড়ায়। ৪০-৬০ বছর বয়সে বেশি দেখা যায়।
৭টা লক্ষণ যা হার্টের অন্য রোগ ভেবে ভুল হয়:
হার্ট ক্যানসারের নিজস্ব কোনো লক্ষণ নেই। টিউমার কোথায় হয়েছে, কত বড় তার উপর নির্ভর করে। এইগুলো দেখা যায়:
১. শ্বাসকষ্ট: সামান্য হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাওয়া। শুলে বেশি কষ্ট। কারণ টিউমার রক্ত চলাচল আটকাচ্ছে।
২. বুকে ব্যথা বা চাপ: হার্ট অ্যাটাকের মতো না, কিন্তু একটা ভোঁতা ব্যথা। পেরিকার্ডিয়াম মানে হার্টের পর্দায় টিউমার হলে হয়।
৩. হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া: প্যালপিটেশন, অনিয়মিত পালস। টিউমার ইলেক্ট্রিকাল সিস্টেমে চাপ দিলে হয়।
৪. পা, পেট ফুলে যাওয়া: রাইট সাইডের হার্ট ফেইলিওরের সাইন। রক্ত ঠিকমতো পাম্প না হলে জল জমে।
৫. অকারণে জ্বর, ওজন কমা, রাতের ঘাম: ক্যানসারের জেনারেল লক্ষণ। সারকোমা হলে এগুলো বেশি হয়।
৬. হঠাৎ অজ্ঞান হওয়া বা স্ট্রোক: মাইক্সোমা ভেঙে গিয়ে ক্লট ব্রেইনে চলে গেলে হয়।
৭. কাশির সাথে রক্ত: ফুসফুসে চাপ পড়লে বা টিউমার ছড়ালে হয়।
কারা রিস্কে? কেন হয়
১. জেনেটিক সিনড্রোম: ‘Carney Complex’ নামে রোগ থাকলে মাইক্সোমার রিস্ক ১০ গুণ। ফ্যামিলিতে হিস্ট্রি থাকলে সাবধান।
২. বুকে রেডিয়েশন: ছোটবেলায় Hodgkin Lymphoma-র জন্য বুকে রেডিয়োথেরাপি নিলে ১৫-২০ বছর পর কার্ডিয়াক সারকোমার রিস্ক বাড়ে।
৩. দুর্বল ইমিউনিটি: অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট, HIV, বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ খেলে রিস্ক বেশি।
৪. বয়স ও লিঙ্গ: অ্যাঞ্জিওসারকোমা পুরুষদের মধ্যে ৪০-৫০ বছরে বেশি। মাইক্সোমা মহিলাদের মধ্যে ৩০-৬০ বছরে কমন।
৫. তামাক, মদ: সরাসরি প্রমাণ নেই। কিন্তু যেকোনো ক্যানসারের রিস্ক বাড়ায়।
ধরা পড়ে কীভাবে? চিকিৎসা কী
১. টেস্ট: ইকোকার্ডিওগ্রাম বা Echo-ই প্রথম ধাপ। হার্টের ভিতর টিউমার থাকলে দেখা যায়। এরপর MRI, CT স্ক্যান, PET স্ক্যান করে সাইজ ও ছড়িয়েছে কিনা বোঝা হয়। বায়োপসি ফাইনাল ডায়াগনোসিস।
২. চিকিৎসা: বিনাইন মাইক্সোমা হলে সার্জারি করে কেটে ফেললেই ৯৫% কিওর। ম্যালিগন্যান্ট সারকোমা হলে সার্জারি + কেমো + রেডিয়েশন। কিন্তু হার্টের পজিশনের জন্য পুরো বাদ দেওয়া কঠিন। তাই সারভাইভাল রেট কম।
৩. হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট: কিছু ক্ষেত্রে অপশন, যদি ক্যানসার অন্য কোথাও না ছড়ায়।
শ্বাসকষ্ট মানেই গ্যাস বা অ্যাংজাইটি না। বুকে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক না। যদি এই লক্ষণগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে, সাধারণ ওষুধে না কমে, তাহলে কার্ডিওলজিস্ট দেখান। ইকো টেস্ট করিয়ে নিন। হার্ট ক্যানসার রেয়ার, কিন্তু হলে ধরা পড়তে দেরি হয়। সচেতন থাকুন, প্যানিক নয়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


